banglanews24.com Logo

ইভিএম কেনা-ব্যবহারে নিয়মনীতি মানেনি হুদার নির্বাচন কমিশন

29 Jul 2012   04:50:18 PM   Sunday BdST

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা ও ব্যবহারে কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। ড. শামসুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিজেদের ইচ্ছামতো এগুলো কিনে ব্যবহার করেন।

দেশে প্রথম ইভিএম কেনার দুই বছর পার হলেও এ মেশিনের ক্রয় পদ্ধতি ও ব্যবহারবিধি প্রণয়ন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। সূত্র জানায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের (২০০৬) ১৫ নম্বর ধারা ও পৃথক তিন চুক্তির ৯, ১০ ও ১১ অনুচ্ছেদের শর্ত লঙ্ঘন করেই এ মেশিন কেনা ও ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টিতে সম্পূর্ণ উদাসীন থেকে নির্বাচন কমিশন। 

বিদায়ী নির্বাচন কমিশন তিন দফায় ইভিএম কিনেছিল। এগুলো কেনার ক্ষেত্রে দরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় ধরনের গড়মিল। প্রথম দফায় প্রতিটি ইভিএমের দাম ১০ হাজার ৮০০ টাকা হলেও তৃতীয় দফায় ইভিএম কেনা হয় ৪৬ হাজার ৫০১ টাকা দরে। বিষয়টি নিয়ে ব্যপক আলোচনা চলছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের কাছে পাঠানো এক অফিসিয়াল নোটে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক।

তবে এ ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদকে দুষছেন বিদায়ী কমিশনের একজন কমিশনার। একটি সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য বিনির্দেশ বা বিধিমালা তৈরি করতে পারেনি। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য ইভিএমের বিধিমালা তৈরি করা হয়েছিলো উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কিছু নতুন মডেলের ইভিএম মেশিন ব্যবহার করে হয়েছিলো যার জন্য পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্র আইন দ্বারা স্বীকৃত বলে দাবি করে তিনি জানান, নরসিংদী পৌর নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার সময় পরিপত্র জারি করা হয়েছিলো। 

সংবিধানের দেয়া ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র জারির এখতিয়ার রয়েছে, কমিশন তাই করেছিলো, দাবি সাখাওয়াৎ হোসেনের। 

এবিষয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বলেন, বিদায়ী নির্বাচন কমিশন ইভিএম কেনার সময় চুক্তিতে বিনির্দেশ বা সুস্পষ্টকরণ ও বিধিমালা তৈরির বিষয়টি রেখেছিল। কিন্তু তারা তা করেনি। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবহার বিধিমালা করেছিল।

সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক চলতি মাসে ‘নির্বাচন কমিশনের ক্রয় কাজে আইনের অনুসরণ’ শীর্ষক নোট লিখেছেন। এতে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালার প্রযোজ্যতা, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ না করার পরিণাম, বর্তমান কমিশনের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ক্রয়ের অনুমোদন, বিনির্দেশ এবং কর্মপরিধি প্রস্তুতকরণ, পুনরাবৃত্ত ক্রয়াদেশ, ইভিএম কাস্টমাইজেশন মূল্য, ইভিএমের ব্যটারিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নোটটি লিখেছেন। এতেই তিনি গত নির্বাচন কমিশনের আমলে ইভিএম ক্রয় ও ব্যবহার বিধিমালা না হওয়া এবং ইভিএম মেশিন বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

ইসি সূত্র আরও জানায়, ২০১০ সালে কোনো ধরনের প্রজেক্ট প্রোফাইল বা নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় গত নির্বাচন কমিশন। ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল সর্বপ্রথম ইভিএম কেনার চুক্তি হয়। তত্কালীন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার মধ্যে এক ইউনিটের ১৩০টি ইভিএম কেনায় চুক্তি হয়। প্রতিটি মেশিনের দাম ছিল ১০ হাজার ৮০০ টাকা। ১৩০টি ইভিএমের দাম দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় দুই ইউনিটের ৪০০ ইভিএম কেনার জন্য ইসি ও বুয়েটের মধ্যে দ্বিতীয় চুক্তি সম্পাদিত হয়—যাতে প্রতিটির মূল্য ধরা হয় ২৯ হাজার ৩৫০ টাকা। মোট মূল্য ১ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ২০১১ সালের ২৪ জুলাই তৃতীয় দফায় তিন ইউনিটের ৭০০ ইভিএম কেনার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। মেশিনের মূল্য ধরা হয় ৪৬ হাজার ৫০১ টাকা—যার মোট মূল্য ৩ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ৭০০ টাকা।

আবদুল মোবারকের নোটে বলা হয়, ইভিএম কেনার প্রথম চুক্তির ৯ নম্বর ধারায় দ্ব্যর্থহীন উল্লেখ করা হয় যে, নির্বাচন-উপযোগী ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের বিনির্দেশ ও ব্যবহারবিধি ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন ও বুয়েটের কাছ থেকে কারিগরি তথ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রণয়ন করবে। এরপর প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। চুক্তি মোতাবেক সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বিনির্দেশ ও ব্যবহারবিধি প্রণয়ন করা হয়নি। এতে পিপিআরের ১৫ ধারা এবং চুক্তির ৯ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণ না করার জন্য এবং কাউকে জবাবদিহি করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অপরদিকে দ্বিতীয় দফা চুক্তিতে ১০নং অনুচ্ছেদে বিধৃত হয়েছে যে, নির্বাচন-উপযোগী ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের বিনির্দেশ ও ব্যবহারবিধি নির্বাচন কমিশন প্রণয়ন করবে। এরপর প্রায় এক বছর পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। দ্বিতীয় পক্ষের দাবি অনুসারে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, কিন্তু আইনের ধারা ১৫ ও চুক্তির অনুচ্ছেদ ১০-এর বিধান অনুসরণ করা হয়নি। তৃতীয় দফা ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে ৭০০ মেশিনের সরবরাহ গ্রহণ করা হয়। এতে পিপিআরের ধারা ১৫ এবং চুক্তির অনুচ্ছেদ ১১-এর শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। সেই চুক্তির তারিখ থেকে প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু দায়িত্বে অবহেলার জন্য কারও ব্তুিদ্ধে প্রসিডিং হয়নি। নোটে আবদুল মোবারক নতুন করে কেনা সব পণ্য বা কাজ বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে এর আগে সংশ্লিষ্ট পণ্য বা কাজ, এর বিনির্দেশ ও বর্ণনা এবং ক্ষেত্রমত কর্মপরিধি প্রণয়নের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার সদয় নির্দেশ জারি করতে পারেন।

এদিকে ইভিএমগুলো বর্তমানে কিভাবে সংরক্ষিত রয়েছে তা জানতে খোঁজ করে দেখা গেছে, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ইভিএম মেশিন দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ব্যবহৃত এখনও ১৩০টি ইভিএম আজ পর্যন্ত কমিশনে ফেরত আনা হয়নি। ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন নিয়ন্ত্রণাধীন ১ হাজার ২৩০টি ইভিএম এখন ৪টি স্থানে রয়েছে। ২০১০ সালের জুনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম বারের মতো ইভিএম ব্যবহার করে ইসি।  মামলা জটিলাতার কারণে সেগুলো চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসে রাখা হয়েছে। পরে সংগৃহীত এক হাজার ১০০ ইভিএমের ১৩৪টি কন্ট্রোল ও ২ হাজার ৯৭৭টি ব্যালট ইউনিট প্রথম সরবরাহকারী বুয়েটের কাছে, ৪৭৭টি কন্ট্রোল ইউনিট ও ৩১৭টি ব্যালট ইউনিট দ্বিতীয় সরবরাহকারী বিএমটিএফের কাছে এবং অবশিষ্ট ৪৮৯টি কন্ট্রোল ও ৬টি ইউনিট কুমিল্লায় রয়েছে। এসব মেশিন ৪ জায়গায় ছড়িয়ে রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে অভিমত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনাররা।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত এক বছর ধরে এসব ইভিএম পরিদর্শন ও মজুত যাচাই করেননি নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ সময় ১৬৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২

এমএমকে


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত