|

নদীর পাড়ে অসহায় আলিম মাঝির পরিবার
13 Oct 2012 09:52:43 PM Saturday BdST
মুনিফ আম্মার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
হাতিয়ার তমরুদ্দি থেকে: আলিম মাঝির বয়স ৬৫ বছর। ৫ ছেলে-মেয়ের সংসার চালান নদীতে মাছ ধরে। কষ্টের জীবন। খেয়ে-পরে বেঁচে আছেন কোনোমতে। কিন্তু তার মধ্যে আবার আঘাত হানলো ঘূর্ণিঝড়। নদীর পড়ে কষ্টে গড়ে তোলা ভিটের উপর চালের ঘরটিকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেল। শুধু কি তাই! পাড়ে বাধা ট্রলারটিও রক্ষা পেলো না। ঝড়ের আঘাতে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো সব। ঘর আর উপার্জনের একমাত্র সম্বল ট্রলার হারিয়ে আলিম মাঝি হারিয়ে ফেলেছেন মুখের ভাষাও। কেবল কান্নাই যেন তার সঙ্গী। কেমন করে চলবে সংসার আর কিইবা হবে সন্তানদের ভবিষ্যত সেটা নিয়ে চিন্তার শেষ নেই কোনো।
শনিবার বিকালে আলিম মাঝির দেখা মেলে হাতিয়ার তমরুদ্দিতে। নদীর পাড়েই বসে আছেন তিনি। ভুলে গেছেন নাওয়া-খাওয়া। বেঁচে থাকার উপায় কি, সেটাই যেনো খুঁজে বেড়াচ্ছেন আনমনে। ঘরের দিকে আঙ্গুল তুলে দেখাতেই চোখে পড়লো ছাদের একপাশ লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে গেছে আর অন্যপাশ উড়ে গেছে বাতাসের সঙ্গে।
জানা গেলো, নদীর ঠিক পাড়ে সরকারি জায়গাতে কষ্টের টাকায় বছর দুই আগে তুলেছিলেন এই ঘর। আর সংসার চালানোর জন্য তিলে তিলে গড়ে তোলা অর্থ দিয়ে কিনেছিলেন একটি ট্রলার। দুর্যোগের এক ঝটকায় সব হারিয়ে ফেললেন আলিম মাঝি।
ভাঙ্গা একটি পাশ দিয়ে আলিম মাঝির ঘরে ঢুকে দেখা গেলো, তার স্ত্রী ফুলবানু ভাঙ্গা চুলোয় রান্না করছেন। পাশেই মাটিতে শুয়ে আছে ছোট্ট ছেলে।
সাংবাদিকদের দেখেই ফুলবানু মুখ ঢাকলেন আঁচলে। ঘুর্ণিঝড়ের প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, “আঙ্গো (আমাদের) বাঁচি থাকি আর কি লাভ। ঝড়ে আঙ্গোরেও লই গেলে ভালা হইতো। অন (এখন) ক্যামনে বাঁচুম, হেই চিন্তায় ঘুম আইয়ে না।”
ফুলবানুর কণ্ঠ ভিজে উঠলো। আঁচল টেনে চোখের পানি মুছলেন। তারপর জানালেন, এমন ঝড় ৯১’র পর আর দেখেননি তিনি। সে রাতের বাতাসে ভেবেছিলেন, হয়তো এবারের মতো শেষ হয়ে যাবেন। কিন্তু নিজে শেষ না হয়ে, তাদের সব সম্বল শেষ হয়ে গেলো বলেই সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।
এমন অসহায় দিনাতিপাতের পরেও আলিম মাঝির সহায়তায় তেমন কেউ এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেছেন আলিম মাঝি। তিনি জানান, এখন তাদেরকে সহায়তা না করলে বেঁচে থাকার আর কোনো উপায় নেই।
কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে আলিম মাঝি বলেন, “আমি মরি গেলেও কোনো আফসোস থাইকতো না, যদি আমার ঘর আর ট্রলারটার কিছু না হইতো। অন (এখন) এমন এক পরিস্থিতি অইছে, না হারি (পারি) বাঁইচতে, না হারি মরি যাইতে।”
আলিম মাঝিকে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল খায়ের রাতুল ও নাসিমা খানমের পক্ষ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা ছাড়া আর কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, বেঁচে থাকার জন্য তার পাশে দাঁড়াতে হবে। না হয় তার বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০১২ এমএ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|