|

কারাগারে ঈদ বরাদ্দ
৩০ টাকায় তিন বেলা ‘উন্নতমানের’ খাবার!
14 Aug 2012 05:21:32 PM Tuesday BdST
রমেন দাশগুপ্ত, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
চট্টগ্রাম: ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের জন্য মাথাপিছু ৩০ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ টাকায় বন্দীদের জন্য তিন বেলা ‘উন্নতমানের খাবার’ জোটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষকে।
বন্দীদের জন্য মাথাপিছু ৩০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ক্ষেত্রে উন্নতমানের খাবারের জন্য বরাদ্দ আছে মাথাপিছু ১২০ টাকা। এ টাকায় উন্নতমানের খাবারের খাবারের যোগান দিতে সরকারি হাসপাতালগুলোকে তেমন সংকটের মুখে পড়তে হয় না।
আর উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের কথা ফলাও করে প্রচার করা হলেও সরকারি এতিমখানা, শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলোতে সরকারের কোনো বরাদ্দই নেই। তবে তাদের জন্য দৈনন্দিন বরাদ্দ বেশি হওয়ায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশনে তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমাজসেবা অধিদফতরকে তেমন কোনো বেগ পেতে হয় না।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার এবং সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগির মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘সারা বছরে বন্দীদের জন্য যে বরাদ্দ আমরা সরকার থেকে পাই, সেটা থেকে সংকোচন করে ঈদের সময় খরচ করি। এরপরও ঘাটতি থেকে যায়। সেগুলো পরের বরাদ্দ থেকে মেটাই। এজন্য অনেক সময় বন্দীরাও আমাদের ভুল বোঝেন। কিন্তু বুঝিয়ে বললে তারা সেটা সহজে মেনে নেন। অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতাও করেন।’’
কারাগারের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বন্দীদের জন্য দুই ঈদসহ বিশেষ দিনগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের জন্য ৩০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে এ বরাদ্দ ছিল মাত্র ১০ টাকা।
ঈদের দিন বন্দীদের খাবারের মেন্যুতে সকালের নাস্তায় সেমাই ও মুড়ি, দুপুরের খাবারে ভালো মানের চালের তৈরি সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ এবং রাতের মেন্যুতে থাকে পোলাও, গরুর মাংস অথবা খাসির মাংস এবং পান-সুপারি, মিষ্টি ও একটি কোমল পানীয়।
চট্টগ্রাম কারাগারের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘উন্নতমানের খাবার দিতে বন্দীদের জন্য মাথাপিছু আমাদের খরচ হয় প্রায় ৪৫ টাকা। এক্ষেত্রে ৩০ টাকা বরাদ্দের পরও আমাদের মাথাপিছু প্রায় ১৫ টাকা ঘাটতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’’
তবে বরাদ্দ বাড়ানোর কারণে এ বছর ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কম হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
কারাগার সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর চার হাজার একশ’ জন বন্দীকে হিসাবে ধরে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের বাজেট প্রণয়ন করেন। এ বছরও সেই পরিমাণ বন্দীকেই হিসাবে ধরে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বছর মাথাপিছু ১১৫ গ্রাম করে ৪৭২ কেজি সেমাই, মাথাপিছু ৪০ গ্রাম করে ১৬৪ কেজি মুড়ি, ১১৫ গ্রাম করে ৪৭২ কেজি চিনি, মাথাপিছু ১৫ গ্রাম করে ৬২ কেজি দুধ, মাথাপিছু ৫ গ্রাম করে ২১ কেজি কিচমিচ, ৫০টি নারকেল, মাথাপিছু ২৯১ গ্রাম করে প্রায় ৩০ মণ সাদা ভাতের চাল, ২০০ গ্রাম করে প্রায় ২১ মণ গোল আলু, মাথাপিছু ১১০ গ্রাম করে প্রায় ৪৬ কেজি মাছ, মাথাপিছু ৩০০ গ্রাম করে ৩১ মণ গরুর মাংস, মাথাপিছু ২৫০ গ্রাম করে প্রায় ২৬ কেজি খাসির মাংস এবং মাথাপিছু ৩৩০ গ্রাম করে প্রায় ৩৪ মণ পোলাওয়ের সুগন্ধি চাউল, মাথাপিছু একটি করে ২১ মণ মিষ্টি কিনতে হচ্ছে চট্টগ্রাম কারাগার কর্তৃপক্ষকে।
এছাড়া সমপরিমাণ তরকারি রান্নার জন্য সয়াবিন তেল, লবণ, ঘি, মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, তেজপাতা, জিরা এবং পান, সুপারি ও একটি করে মোট ৪ হাজার একশ’টি কোমল পানীয়ও কিনতে হবে কারা কর্তৃপক্ষকে।
সূত্র জানায়, উন্নতমানের খাবারের এ পরিমাণ উপকরণ কিনতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ ব্যয় নির্ধারণ করেছে ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৮১ টাকা। মাথাপিছু ৩০ টাকা হিসেবে সরকার থেকে মোট বরাদ্দ পাওয়া গেছে এক লাখ ২৩ হাজার টাকা। এরপরও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮১ টাকা।
চট্টগ্রাম কারাগারের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, ঘাটতির ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮১ টাকার মধ্যে প্রায় ৭ লাখ টাকা কারা কর্তৃপক্ষ আগের ব্যয় সংকোচনের ফলে জমানো টাকা থেকে বরাদ্দ দিচ্ছে। বাকি আরও প্রায় দুই লাখ টাকার ঘাটতি মেটাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষকে।
সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগির মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘অনেক সময় আমরা বন্দীদের গিয়ে বলি, সামনে ঈদ, তোমরা একবেলা মাছ কম খাও। তাহলে ঈদের দিন আমরা ভালো খাবার দিতে পারব। বন্দীরা হাসিমুখে সেটা মেনে নেন। কোনো কোনো সময় বিভিন্ন সেলের বন্দীরা একমত হয়ে নিজেরাই আমাকে বলেন, স্যার, আজ আমাদের কলা দেওয়ার দরকার নাই কিংবা আজ মাংস দেওয়ার দরকার নাই। টাকা ঈদের জন্য জমিয়ে রাখেন। এতে আমরাও উৎসাহবোধ করি।’’
এদিকে চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক পারভিন মেহতাব বাংলানিউজকে জানান, তাদের অধীনে চট্টগ্রামে মোট ১০টি এতিমখানা ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র আছে। এসব কেন্দ্রে প্রতি ঈদে সকালে সেমাই, পরটা ও জর্দ্দাভাত, দুপুরে পোলাও, খাসির মাংস ও এক বোতল করে কোমল পানীয় এবং রাতে সাদা ভাত, মুরগির মাংস, জর্দ্দাভাত এবং দই-মিষ্টি দেওয়া হয়।
পারভিন মেহতাব বলেন, ‘‘ঈদে বিশেষ খাবারের জন্য আমাদের বাড়তি খরচ হয়। তবে এজন্য আমাদের কাছে সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। প্রতি মাসে কেন্দ্রের বাসিন্দাদের জন্য মাথাপিছু দুই হাজার টাকা করে বরাদ্দ থাকে। সেই বরাদ্দ থেকে বাঁচিয়ে আমরা ঈদের খরচ করি।’’
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. কাজী শফিকুল আলম বাংলানিউজকে জানান, ঈদের দিন হাসপাতালের রোগীদের সকালে সেমাই, পরটা দিয়ে ভালো নাস্তা এবং মুরগি, ডিম, সবজি, পোলাও দিয়ে দুপুরে ও রাতে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
মাথাপিছু ১২০ টাকা বরাদ্দ থেকেই রোগীদের উন্নতমানের খাবারের অর্থ যোগান দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১৩ ঘন্টা, আগস্ট ১৪, ২০১২ আরডিজি/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|