|

স্কিম বাস্তবায়নে সময় বাড়লো ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
14 Aug 2012 08:11:52 PM Tuesday BdST
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার প্রণীত স্কিম বাস্তবায়নে দেড় মাস সময় বাড়ানো হয়েছে।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশনের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।
তবে বিএমবিএ ও স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বিত প্রতিবেদন দাখিলের সর্বশেষ সময়সীমা ৩০ আগস্ট পরিবর্তন করে নতুন সময়সীমা প্রদানের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন।
এর আগে গত ১০ জুলাই এসইসির এক নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণীত স্কিম বাস্তবায়নে ১৪ আগস্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ছাড়া অন্য কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক কিংবা ব্রোকারেজ হাউস এসইসির নির্দেশনা পরিপালন করতে পারেনি।
তবে নির্দেশনা পরিপালন করতে আরো তিন মাসের সময় চেয়ে এসইসিতে আবেদন জানায় প্রতিষ্ঠানগুলো। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশনের জরুরি বৈঠকে আরো দেড় মাস সময় বাড়িয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্কিম বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, “আমরা উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় বাড়ানোর আবেদন পেয়েছি। পুঁজিবাজারের সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার কমিশনের জরুরি বৈঠকে স্কিম বাস্তবায়নে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর বিএমবিএ ও স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বিত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পরে জানানো হবে।”
গত ১০ জুলাই দশ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের এক বছরের সুদ মওকুফ করতে নির্দেশ দেয় এসইসি। নির্দেশনা পরিপালন করে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংককে ১৪ আগস্টের মধ্যে এসইসিতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ব্রোকারেজ হাউসই এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি। তবে মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের সংগঠন সময় বাড়ানোর আবেদন জানালেও স্টক এক্সচেঞ্জ এ ধরনের কোনো আবেদন জানায়নি। যদিও ব্রোকারেজ হাউসগুলো আলাদাভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।
স্কিম বাস্তবায়নে এসইসি নির্দেশনায় বলা হয়, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা আনার জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অন্তর্ভুক্ত ২০৯টি ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অন্তর্ভুক্ত ৭৯টি স্টক ব্রোকরেজের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করত হবে। এ বিষয়ে ১৪ আগস্টের মধ্যে এসইসির কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। পাশাপাশি ৩০ আগস্ট স্কিম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি সমন্বিত প্রতিবেদন দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএমবিএকে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় এসইসি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসই এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন দুই স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করেনি।
জানা গেছে, শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের কারণে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের পক্ষে এ প্রণোদনা বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে এনে গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ দেয়া হয়েছে। ব্যাংক তো ওই ঋণের সুদ মওকুফ করবে না। তাহলে আমরা কিভাবে সুদ মওকুফ করবো। এমনিতেই কেনাবেচা কমে যাওয়ায় ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আয় অনেক কমে গেছে। টানা দরপতনের কারণে গ্রাহককে দেওয়া ঋণের টাকা দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ দেয়া প্রায় অসম্ভব।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের কাছে ৯০০ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দাবি করেছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএ। গত ৩১ জুলাই বিএমবিএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ শতাংশ সুদে উক্ত অর্থ সহায়তার দাবি জানানো হয়।
এ সময় বিএমবিএর পক্ষ থেকে বলা হয়, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ হিসেবে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সর্বমোট ৪১ হাজার ৯৯২ জন বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে। আর এতে ৬৫ কোটি ১১ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করতে হবে। আর একই অংকের অর্থের সুদ পুনতফসিল করতে হবে। এছাড়া এ প্রক্রিয়াতে ১০ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ রয়েছে-এমন বিনিয়োগকারীদের মোট ৯১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার মার্জিন ঋণ পুনতফসিলিকরণ দরকার হবে।
কিন্তু শেয়ারবাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষে এ পরিমান অর্থ ব্যয় করা প্রায় অসম্ভব বলে জানায় সংগঠনটি। এছাড়া মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে প্রদর্শন করার নির্দেশনা চেয়ে এনবিআরে আরেকটি আবেদন জানায় বিএমবিএ।
বিএমবিএ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এসইসি চেয়ারম্যান ঋণ সহায়তার বিষয়ে বিএমবিএর নেতাদের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে চাইলেও মন্ত্রী সময় না দেয়ায় তা হচ্ছে না।
মার্চেন্ট ব্যাংকের মতো আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে ব্রোকারেজ হাউসগুলোও। সঙ্কটের পড়ে অনেক ব্রোকারেজ হাউস ব্যয় কমাতে লোকবল ছাঁটাই করছে। ফলে তাদের জন্যও ক্ষতিপূরণ দেয়া অসম্ভব বলে জানিয়েছে ব্রোকারেজ হাউসের মালিকপক্ষ।
এদিকে মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফসহ স্কিম বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতায় আদৌ এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে কি-না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। যা তাদের হতাশা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১২ এইচএমএম/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|