|

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সাজ সাজ রব
19 Aug 2012 07:09:47 PM Sunday BdST
সাব্বির আহমদ. স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
সিলেট: ঈদ সামনে রেখে এখন সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোতে সাজ সাজ রব। পর্যটক আকর্ষণে ইতিতোমধ্যে শেষ হয়েছে ধোঁয়া-মোছা আর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। এবারো ঈদ-উল ফিতরের টানা চৌদ্দ দিনের ছুটির কারণে পর্যটকদের ঢল নেমেছে সিলেটে।
ঈদের দিন থেকে পর্যটকদের জমজমাট আশা করছেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের সদস্য ডা. জাকারিয়া আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, প্রাকৃতিক কারণে এবার কক্সবাজারের চেয়েও সিলেটে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে।
তিনি জানান, তার মালিকানাধীন রিসোর্ট জাকারিয়া সিটির সবগুলো রুম অনেক আগেই বুক হয়ে গেছে। অনেক প্রবাসী এবার দেশে ঈদ করতে এসব রুমে এসে উঠেছেন।
এর বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও রেকর্ডসংখ্যক পর্যটন সিলেটের দর্শনীয় স্থানে ভিড় করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি বাংলানিউজকে বলেন, প্রচারের অভাবে সিলেটের অনেক দর্শনীয় জায়াগা এখনো আড়ালে রয়েছে। সিলেটের পর্যটন খাতকে বিকশিত করতে চলতি বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এবারের ঈদ-উল ফিতরে সিলেটের পর্যটনগুলোতে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম হবে বলে তিনিও আশা প্রকাশ করেন।
প্রাকৃতিক সবুজ সুনিবিড় সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে অনেকেই ঈদের ছুটিতে ছুটে আসবেন সিলেটের অনিন্দ্য সুন্দও পর্যটনস্পটে। জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলং এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তুপ পর্যটকদের টেনে আনে বার বার।
নির্জন মনকাড়া লালাখানের স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর দুই ধারের অপরুপ সৌন্দর্য্য, দীর্ঘ নৌ-পথ ভ্রমণের সাধ যেকোনো পর্যটকের কাছে এক দূলর্ভ আকর্ষণ। ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচে লালাখালের অবস্থান। চেরাপুঞ্জি থেকে এ নদী বাংলাদেশে প্রবাহিত। এবার ঈদে লালাখালে ভীড় থাকবে পর্যটকের।
সিলেট শহর থেকে লালাখাল যাবার জন্য পর্যটকদের পাড়ি দিতে হবে ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা। অনেকভাবে যাওয়া যায়। শহর থেকে বাস, টেম্পু মাইক্রোযোগে পৌঁছা যায়।
প্রকৃতির কন্যা হিসাবে সারা দেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে্যর অপরুপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তুপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়।
সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ের গহীন অরণ্য ও সুনসান নীরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাব্ মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখাতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে।
প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যে্যর রাণী-এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেটে এসে জাফলংয়ে না গেলে ভ্রমণই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।
সিলেট থেকে বাস/মাইক্রোবাস/সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাওয়া যায় জাফলং। সময় লাগবে ১ ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা। ভাড়া বাস-৫৫ টাকা, মাইক্রোবাস-১৭০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা এবং সিএনজি অটোরিকশা ৭০০ টাকা।
রোপওয়ে, পাথর কোয়ারি আর পাহাড়ি মনোলোভা দৃশ্য অবলোকনের জন্য সিলেটের ভোলাগঞ্জেও এবার আসছেন অসংখ্য পর্যটক। পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ে। ধলাই নদীর উজানে এ রাজ্যের অবস্থান।
খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় ঘেরা এ রাজ্যের দৃশ্য বড়ই মনোরম। ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় অবস্থান করে পাহাড় টিলার মনোরম দৃশ্যাবলীও অবলোকন করা যায়।
সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। শহর থেকে ভোলাগঞ্জ সরাসরি কোনো যানবাহন সার্ভিস নেই। আগন্তুকরা সিলেট থেকে টুকেরবাজার পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস অথবা ফোরস্ট্রোকযোগে যাতায়াত করেন। টুকের বাজার থেকে ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত রয়েছে বেবিটেক্সির সার্ভিস।
উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান মালনীছড়া পর্যটকদের কাছে আরেক বিষ্ময়। সিলেটের চায়ের রঙ, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। বর্তমান বেসরকারি তত্ত্বাবধানে চা বাগান পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৫০০ একর জায়গার ওপর এ চা বাগান অবস্থিত। চা বাগানের পাশাপাশি বর্তমানে এখানে কমলা ও রাবারের চাষ করা হয়।
মালনীছড়া চা বাগান ছাড়াও সিলেটে লাক্ষাতুরা চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান, খাদিম আহমদ টি স্টেট, লালাখান টি স্টেট উল্লেখযোগ্য। ওপরে বড় বড় ছায়া বৃক্ষ। নিচে আধো আলো আধো ছায়ায় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজ চাদর। যেন শৈল্পিক কারুকাজ। এ প্রাকৃতিক দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায়।
মালনীছড়া এবং লাক্ষতুরা চা বাগান দুটোই সিলেট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থল জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে যে কোনো গাড়ি দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে যাওয়া যায় চা বাগান দু’টিতে।
এছাড়াও সিলেটের শাহজালাল(র.) এবং শাহপরান (র.) এর মাজার এবং নাজিমগড় রিসোর্ট, জাকারিয়া সিটি, সিলেট নগরীর শেখ ঘাটে ঐতিহ্যবাহী জিতু মিয়ার বাড়িসহ অন্যন্য পর্যটন কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই ঢল নামেতে শুরু করেছে পর্যটকদের।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২ এসএ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|