banglanews24.com Logo

১২ দল, এরা কারা! সুযোগসন্ধানী জামায়াত

22 Sep 2012   05:00:03 PM   Saturday BdST

ইসমাইল হোসেন, মাজেদুল নয়ন ও নূর মোহাম্মদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: ২০১১ সালের প্রথম দিকেই ঐক্য হয় ১২টি ইসলামী দলের । ২০১০ সালে দলগুলো বিক্ষিপ্তভাবে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালালেও ২০১১তে নারীনীতির বিরুদ্ধে প্রথম ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামে ইসলামমনা ১২ দল।

পূর্বে নিজেদের মধ্যে দর্শন ও রাজনৈতিক ধারায় কোন্দল থাকলেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই জোট হয় এ দলগুলোর।

এ বারো দল বিভিন্ন ইস্যুতে দেশে নৈরাজ্য সুষ্টির চেষ্টা চালালে পেছন থেকে সহযোগিতা দেয় বিরোধী দল। ১২ দলের ব্যানারে দেশকে অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায় অন্যান্য মৌলবাদী দলগুলোও। মূলধারার শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পুঁজি করেই আন্দোলন করে আসছে এ দলগুলো।

বাংলানিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, শনিবার প্রেসক্লাবে ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের ব্যাপক সংঘর্ষের পিছনে প্রত্যক্ষ ইন্ধন জুগিয়েছে জামায়াত শিবির। উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীতে অস্থিরতা তৈরি।

এদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ঢাকা মহানগরের প্রতিটি শাখার নেতা কর্মীদের শনিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ।  

শনিবার প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করার সময় জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদীকে এই সমাবেশে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

এছাড়াও বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম মাদানী ও  তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল যাইনুল আবেদিনকেও দেখা গেছে। ।  

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর মহাসমাবেশে কেন্দ্র করে  ইসলামী ও সমমনা ১২ দল ব্যানারে জামায়াত শিবির  পল্টন, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা মোড়, বিজয়নগরসহ আশপাশের এলাকায় ১০ থেকে ১৫ হাজারের জমায়েত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিল। এ খাতে অর্থ ঢালছিল জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীরা। কারণ শুক্রবার ছাড়া ইসলামী ১২ দলের জন্যে এতো সংখ্যক লোকের জমায়েত করানো সম্ভব নয়।  

সূত্র আরো জানায়, একসপ্তাহ আগে থেকেই শনিবারের বিক্ষোভের জন্যে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি কওমী মাদ্রাসায়  জনসংযোগ চালায় ১২ দল ও নেপথ্যে থাকা জামায়াত- শিবির।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, শনিবারে নৈরাজ্যকারীদের সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, হুজি ও হিযবুত তাওহীদেও সদস্যদর সম্পৃক্ততাও থাকতে পারে।  

পুলিশের গোয়েন্দা একটি সূত্র জানিয়েছে, ওলামা মাশায়েখের ব্যানারে রাজধানীতে নাশকতা তৈরি করতে চেয়েছিল জামায়াত শিবির। এজন্য তাদের মহাসমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

গোয়েন্দাদের একটি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের ব্যানারে জামায়াত শিবির সরাসরি ইন্ধন দিচ্ছিল।

এ প্রতিবেদন আরো বলা হয়, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতা বিরোধীরা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

গণমিছিলে নামে পরিকল্পিত ভাবে  নাশকতার আশঙ্কা করছিল গোয়েন্দা পুলিশ। তার পরও প্রেসক্লাবে এলাকায় যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। কর্মসূচি সফল করতে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

ঢাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য গণমিছিল কর্মসূচি বাস্তবায়নের নেপথ্যে কাজ করছে ¯স্বাধীনতাবিরোধীরা। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই ডিএমপি রোববারের কর্মসূচির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

এদিকে পুলিশ বলছে, প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আটক হওয়া বেশীর ভাগই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি সঙ্গে জড়িত। এমনকি এই সমাবেশে সাঈদীর মেঝে ছেলে শামীম বিন সাঈদীকেও দেখা যায়। ১২ দলের যুগ্ম মহাসচিব ড. রফিকুল ইসলাম মাদানী মূলত জামায়াতের নেতা। তিনি যাত্রাবাড়ীতে ``জামায়াতের মাদ্রাসা`` হিসেবে পরিচিত তা’মিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার শিক্ষক।

ছাত্রশিবিরের একটি সূত্র জানায়, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহানকে গ্রেফতার করার পর গতকাল সারাদেশে ৫৯ জন জামায়াত-শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করার পর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য শনিবার মাঠে নামার নির্দেশ আসে কেন্দ্র থেকে।

পুরানা পল্টনের ৫৫/বি নম্বর নোয়াখালী টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার মাসিক মদিনা পত্রিকার অফিস ব্যবহার করা হয় ১২ দলের অফিস হিসেবে। নোয়াখালি টাওয়ার থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করে ১২ দলের নেতৃবৃন্দ।

১২ দল! কারা এরা!

নম সর্বস্ব¯ এ বারোটি দল কারা, তা কিন্তু নির্দিষ্ট নয়। ২০১১ সালের আন্দোলনে ইসলামী ঐক্যজোট এদের সঙ্গে না থাকলেও শনিবারের আন্দোলনে ইসলামী ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়।

১২ দল বললেও মূলত খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ওলামায়ে মাশায়েখ পরিষদ এ দলগুলোর নেতৃত্ব দেয়। অন্য ৯টি দলের ৯ জন প্রতিনিধি যোগাড় করাও অনেক সময় সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়া ১২ দলের অন্যান্য দলগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ- ভাসানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ইসলামিক পার্টি ও নেজামে ইসলাম পার্টি।

আফগানিস্থানে মার্কিন হামলা, ইরাকে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ এবং কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সব সময়ই শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে জুম্মার নামাযের পর বিক্ষোভ করেছে খেলাফতে মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

দেশের সঙ্গে এসব আন্দোলনের সম্পৃক্ততা না থাকলেও নৈরাজ্য তৈরি করতে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে এসব দল। আর এর নেতৃত্বে থাকে মূলধারার শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া কওমী মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ১৫ তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হলে প্রথম ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেয় দলগুলো। পাশাপাশি সংবিধান থেকে ‘আল্লাহর উপরই পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি মুছে ফেলা হয়েছে অভিযোগ তুলে বিরোধী দল ও ইসলামী দলগুলো কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। ওইদিন বিকেলে তাৎক্ষণিক একত্রিত আন্দোলনের ঘোষণা দেয় সমমনা ১২ টি দল।

এরপর দেশব্যাপী ১০ ও ১১ জুলাই দেশব্যাপী ৩০ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয় দলগুলো। হরতালের প্রথম দিনে কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে রাস্তায় নামে ১২ দলের কর্মীরা। অবশ্য প্রথম দিন দুপুরের পর থেকেই নোয়াখালি-টাওয়ার কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে তাদের হরতাল। সে হরতালে ১২ দলকে সরাসরি সমর্থন করেছিল বিএনপি ও চারদলীয় ঐক্যজোট।

এক সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলন করলেও ১২ দলের যে কেউ যেখানে ইচ্ছা মিছিল মিটিং করতে পারে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন খেলাফতে মজলিসের এক শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, এমন কোনো বাধা নিষেধ নেই। সবাই আলাদা মিছিল করতে পারে। এই নিয়ে আমাদের কোনো অনুযোগ নেই।

ইসলামী আন্দোলনের এক শীর্ষ নেতা স্বীকার করেছেন, যারা ইসলামী ঘরানার রাজনীতিতে যুক্ত তারা বিভিন্ন দলের সঙ্গে আছেন। কেউ বিএনপি কেউ জামায়াত কিংবা অন্যান্য দল।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে বিতর্কিত চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিবাদে রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ইসলামমনা ১২ দল।

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্র ইসলামকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বারবার ব্যর্থ হয়ে সরকারের অংশীদারিত্ব নিয়ে এবার নতুন এক ষড়যন্ত্রে হাত দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কুচক্রিরা ধর্মহীন শিক্ষানীতি ও কোরআনবিরোধী নারী নীতি প্রণয়ন করেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে হেজাব পরিহিতাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে অথচ সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না- এমন অভিযোগও করেন তার।

ড. খলিলুর রহমান মাদানী ছাড়াও শনিবার প্রেসক্লাবের সামনে অস্থিরতা তৈরি করাতে এক হয়ে কাজ করেছেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আহম্মদ উল্লাহ আশরাফ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুর রব ইউসূফী, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, ইসলামিক পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মুবিন ও মাওলানা জাফর উল্লাহ খান।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫০ঘণ্টা; ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২
এমএন/এনএম/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com 

 


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত