|

সাইফুল্লাহ সাইফ-এর গল্প
উলুবনের ঝিঁঝিঁ পোকা
25 Sep 2012 06:50:11 PM Tuesday BdST
সাইফুল্লাহ সাইফ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
এক. ওরা তিনজন দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপাতে লাগল। দিনের সুশৃঙ্খল পরিসমাপ্তি টেনে আকাশের গালে তখন সন্ধ্যার বলিরেখা। নববিপ্লবী চাঁদ উঁকি দিয়ে উঠলো পুবের আকাশে, যার প্রতাপ যথেষ্ট নয় প্রকৃতিকে একটি আলোকময় রূপ দিতে। একটি আলো ঝলমলে দিনের পরাজয় এতক্ষণেও মেনে নিতে পারেনি প্রকৃতির গোমরামুখো গাছগুলো। দু’একটি পাতা মাঝে মাঝে কানাঘুসা করছে প্রকৃতির বিপর্যয়ে। কিছু জানা-অজানা পাখির ঘরে ফেরার তাড়া। ঝিঁঝিঁ পোকারা টানা টানা সুরে গান গেয়ে চলছে। পাশের ঝুপড়ির মধ্য থেকে মাঝে মাঝে পাতিশেয়ালগুলো ‘হুক্কা হুয়া’ ডাকে চেঁচিয়ে উঠছে।
ওরা এখন ক্লান্ত তবু একটু জিরিয়ে নেয়ার প্রশ্রয় নেই কারো মনে। ঐ নীড়ে ফেরা পাখিগুলোর মতোই ওদের ছুটতে হবে।
দৌড়ের বেগ আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিল ওরা। জোরে, আরো জোরে, আরও। একটি উঁচু টিলার সাথে ধাক্কা খেয়ে এদের প্রথমজন মাটিতে পড়ে গেল। বাকি দু’জন তাকে ফেলেই সমানের দিকে দৌড়াতে লাগলো। মাটিতে পরে যাওয়া ব্যক্তির নাম রামু। বাকি দু’জন হারু ও নসু। ওরা এ গ্রামেই থাকে। ওদের গ্রামের পাশ দিয়ে সাপের মত আঁকাবাঁকা পথে চলে গেছে ঢাকা থেকে আসা চট্টগ্রামগামী মহাসড়কটি। এই মহাসড়কটির উপস্থিতি যেন গ্রামটিকে একটি বাড়তি মাত্রা টেনে দিলো। গ্রামের চেহারাই অনেকটা পাল্টে গেছে মহাসড়কের বদৌলতে। রামুর বয়স বিশ-পঁচিশ। হালকাপাতলা শরীর। ভাঙা চোয়াল। মুখে বসন্তের দাগ। বড় বেপরোয়া ধরনের ছেলে রামু। উচিৎ কথা বলতে কাউকে ছাড় দেয় না। না মেম্বার, না চেয়ারম্যান। গত নির্বাচনে আসলাম মেম্বারের হয়ে কাজ করেছিলো। আসলাম মেম্বার নিজের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার চেয়ে রামুর একান্ত চেষ্টায় ওয়ালিউল্লা মেম্বারকে টানা তিনবার পরাজিত করে মেম্বার হল।
আসলাম মেম্বারের শক্তির উৎস রামু। ভোটের দিন রামুকে তিনি বিশেষ কাজে লাগিয়েছিলেন।
আসলাম মেম্বার তার কথা রেখেছেন। তিনি রামুর সুবিধা অসুবিধার খোঁজখবর রাখেন। রামুকে বাড়তি কিছু সুযোগ দেন।
রামু, হারু ও নসু এরা তিন বাল্যবন্ধু। এদের বিচরণ পিঁপড়ের মতো। খুব একটা দলছুট হতে দেখা যায় না এদের।
হারু ও নসুর মতো ঘরে ফিরলে কেউ কিছু বলার নেই রামুর। তার বউও নেই, বাবা মায়ের ঘ্যানর ঘ্যানরও নেই। একটা বিয়ে অবশ্য করেছিল বছর কয়েক আগে। পাশের গ্রামের গেরস্ত পরিবারের মেয়ে। বউয়ের নাম চম্পা। রামু আদর করে ডাকতো চম্পারানি। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো। কিন্তু সমস্যা বাঁধালো রামুর বদমেজাজ। যখন একান্ত কাম তৃষ্ণা জাগতো তখন রামু তার বউকে আদর করে ডাকতো চম্পারানি বলে, অন্যসময় চুতমারানি। সকাল বিকাল বউকে দিয়ে চলতো ওর চেকনাই কমানোর চেষ্টা। যখন রামু তার চুতমারানি বউটিকে মারতো তখন গ্রামের অন্য সবাই ধরে নিতো ও তার বেড়ে যাওয়া চেকনাই কমাচ্ছে। ওরা বলতো, ‘হালার পুতের চেকনাই বাইড়া গেছে। বউডারে মাইরা হালাইব রাউম্মা পাগলা।’ বউকে মারার সময় রামুর আগেপিছে কোনও হুঁস থাকতো না। এক বেঘোর নেশায় যেন তলিয়ে যেত রামু। গাঁজার ধোঁয়া যেমন রামুকে ভবের জগতে বুদ করে রাখে, তাসের নেশা যেমন রামুকে মনের জগতে তোলপাড় করে তোলে, তেমনি এক নেশা রামুর বউ পেটানো। না রাত, না দিন— যখন তার মাথায় এই নেশা চেপে বসে, তখনি রামু বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
ওর বউটা মার খেয়ে খেয়ে অনেকবার আসলাম মেম্বারের কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিলো। আসলাম মেম্বার তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন কিন্তু কাজের কাজ কিছু করলেন না। রামুর প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা ভুলে যাননি আসলাম মেম্বার। ওর বউটা শেষ পর্যন্ত পালিয়েছে। প্রথমে কিছুদিন গার্মেন্টসে কাজ করেছিলো। ওখান থেকে স্রোতের জল গড়িয়ে এখন থিতু হয়েছে ঢাকায় কোন এক বেশ্যা পাড়ায়। লোকমুখে শোনা যায় চম্পারানি নাকি এখন ঢাকা শহরে হাইরেটে শরীর বেচে জীবন চালায়। হারু বয়সে রামুর চেয়ে দুই তিন বছরের কম বেশি। ওর ঘরে নববিবাহিতা স্ত্রী। হারুর বাবা বাধ্য হয়ে তার অবাধ্য ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন। উপায় ছিল না হারুর বাবার। নিত্যদিন তার ছেলের নামে নালিশ আসে। আজ আছিয়া তো কাল সালিহা।
গ্রামের একটি যুবতী মেয়েও হারুর বদ-নজর থেকে রেহাই পায়নি। তাছাড়া তাসের নেশায় পড়ে ছোটখাটো চুরিচামারি তো আছেই। বিয়ে করিয়েও খুব একটা লাভ হয়নি হারুর বাবার। যেই হারু সেই হারুই আছে।
নসুর বয়স আঠারো-উনিশ। বয়সের পার্থক্য হলেও এদের মাঝে বোঝাপড়ায় তেমন কোনও পার্থক্য নেই। খাট-মোটা, বলশালী বাহু নসুর। বাবরি চুলের নসুকে দেখতে কুস্তীগিরদের মতো লাগে। ওর কপালের কাছে একটি বড় কাটা দাগ চেহারাকে ভয়ঙ্কর রূপ দিয়েছে। ছোটবেলায় হামাগুড়ি দিতে গিয়ে পড়েছিলো ধারালো দায়ের উপর, মাথা এমনভাবে কেটে গেল যে সবাই ভেবেছিলো এ ছেলেকে উপরওয়ালা ডাক দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নসু উপরওয়ালার ডাক উপেক্ষা করতে পেরেছে। সবাই ওকে নইস্যা বলে ডাকে। বাবা নেই, ছেলে ও মায়ের সংসার। অকর্মণ্য ছেলে। ওর মা অন্যের বাড়িতে খেটেখুটে যা পায় তা দিয়েই কোনওরকমে সংসার চলে। ছেলে তার তাস খেলে আর এ বাড়ি ও বাড়ি উঁকিঝুঁকি মারে। রাস্তায় মেয়েদের দেখলেই ওর মনটা কেমন যেন করে উঠে। নসু তখন ওর কপালের উপর উঠে আসা চুলগুলোকে ডান হাতের চার আঙুল দিয়ে পিছনে সরাতে সরাতে গান গায়, ‘মিলন হবে কত দিনে, আমার মনের মানুষেরও সনে।’ প্রথম কলি গাওয়ার পর শিস দিয়ে গানের কলির সুর তোলে। ওরা তিনজন রাস্তার কিছু দূরে ঝুপড়ির মধ্যে বসে তাস খেলছিলো। প্রচণ্ড নেশা ওদের উন্মাদের মত বশ করে রেখেছিলো তাসে। হঠাৎ রামুর প্রথমে নজরে এলো দৃশ্যটি।
কোথাও যেন একটি শব্দ বাতাসে তরঙ্গিত হয়ে রামুর কানে এসে ধাক্কা খেল। ফিরে তাকাতেই রামু দেখতে পেল, কি যেন একটা হামাগুড়ি দিয়ে মহাসড়কের বাইরে বেরিয়ে এলো।
তাস খেলা থামিয়ে রামু বাকি দু’জনকে হাত ইশারা করে দেখালো দৃশ্যটি। এরপরই এদের উল্কার বেগে ছুটে চলা রাস্তার দিকে। ছুটছেতো ছুটছেই। রামুর পায়ের বুড়ো আঙুলটা থেঁতলে গেছে। অজস্র রক্ত ঝরছে থেঁতলে যাওয়া আঙুল থেকে। হঠাৎ করে রামুর মাথাটা যেন এক ঘূর্ণায়মান বলের মত চক্কর মেরে বসসো। তার আঙুলে যেন একটি নতুন উপদ্রপ শুরু হলো। কিছু সময় পর পর হঠাৎ করেই কেউ একজন যেন তার ফেটে যাওয়া আঙুলটি ধরে প্রচণ্ড বেগে সামনের দিকে টান মারতে শুরু করে। রামু তখন গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে। কিছু সময়ের জন্য রামু ভুলে যায় তার উদ্দেশ্য। তাকে কোথায় যেতে হবে।
রামুর মনে পড়ে সে কোথায় যাচ্ছিলো। কেন যাচ্ছিলো। মনে পড়তেই আবার দৌড়াতে শুরু করলো। পায়ের ব্যথায় খুব জোরে দৌড়াতে পারছে না রামু। কিন্তু তাকে এই সময় বসে থাকলে চলবে না। বাকি দু’জন ইতোমধ্যে স্পটে পৌঁছে গেছে। মহাসড়কের উপরে উঠে বড় করে নিঃশ্বাস নিচ্ছে দু’জন। একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। ওদের চোখেমুখে একটি অস্পষ্ট রেখা ফুটে উঠেছে। এটা কষ্টের না আনন্দের বোঝা যাচ্ছে না।
দুই. লোকটি কিছু সময় ধরে বুঝে উঠতে পারলেন না হঠাৎ কী ঘটে গেল। তিনি কয়েকবার আস্তে আস্তে ডাকলেন, ‘জেরিন! জেরিন!’ কোনও সাড়াশব্দ ফিরে এলো না। উঠে বসার চেষ্টা করলেন, পারলেন না। তিনি আটকা পড়ে আছেন। আবার ডাকার চেষ্টা করলেন, ‘জেরিন! এই জেরিন!’
এবার গাড়ির ড্রাইভারকে ডাকলেন, ‘জাহিদ! শুনতে পাচ্ছ জাহিদ?’ না, এবারও কোনও উত্তর ফিরে এলো না। তিনি একটি ব্যথা অনুভব করতে শুরু করলেন। ব্যথাটি যেন একটু একটু করে বেড়ে চললো। তার পেটের ক্ষত স্থান থেকে তীব্র ফিনকিতে রক্ত বেরিয়ে যেতে শুরু হলো। হাত দুটো মুক্ত করে ক্ষত স্থানটি দুই হাতে চেপে ধরতে চাইলেন, একটি হাত বেড়িয়ে এলো, অন্যটি আটকে রইলো। এক হাত দিয়েই চেপে ধরে আছেন ক্ষতস্থানটি, কিন্তু রক্তপতন থামছে না, বরং বেড়েই চলছে। তাঁর শার্ট-প্যান্ট ছাড়িয়ে রক্তের স্রোত এখন আনুভূমিকের দিকে। কিছু কিছু জায়গায় রক্তের ছোট ছোট ধারাগুলো এসে একত্রিত হয়ে লাল নকশা তৈরি করছে। তিনি গোঙানো শুরু করলেন। হামিদ সাহেব চোখ বুজে গোঙাচ্ছেন। তার গোঙানোর শব্দ কোরবানির জবাই করা পশুর আর্তস্বরের মতো শোনাচ্ছে। মাথার মধ্যে একটি টানটান ব্যথা শুরু হয়েছে। তার কল্পনা শক্তি টিকে আছে এখনো। কল্পনায় তিনি দেখছেন আকুলিবিকুলি কতগুলো খণ্ড খণ্ড দৃশ্য সাপের মত কিলবিল করছে, অথচ এর কোনওটিই স্থির নয়।
হামিদ সাহেব দেশের একজন বড় শিল্পপতি। তিনি তার স্ত্রী জেরিনকে নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। তাঁদের একমাত্র মেয়ে এলিন চট্টগ্রাম মেডিকেলে পড়ছে। কাল এলিনের জন্মদিন। এলিন পরীক্ষার জন্য ঢাকা আসতে পারেনি। হামিদ সাহেব তার আদরের মেয়েকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য তাকে না জানিয়ে সস্ত্রীক চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন।
হঠাৎ করেই ঘটনাটি ঘটে গেল। গাড়িটি কয়েকটি মোচড় খেয়ে পড়ে গেল রাস্তার পাশের বড় খাদটিতে। হামিদ সাহেব চোখ মেলে তাকালেন। তিনি তার স্ত্রীকে খুঁজছেন। গাড়ির মোচড়ে একেকজন ছিটকে একেক জায়গায় চলে গেছেন। তিনি তার স্ত্রীকে দেখতে পেলেন। তার মাথার ঠিক মাঝ-বরাবর থেঁতলে গেছে। না, হামিদ সাহেব বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারেননি তার মৃত স্ত্রীর মাথা থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া পিণ্ড পিণ্ড মগজের দিকে; চোখে-মুখে-কানে-চুলে একাকার রঙের বর্ণছটা যেন। কি বীভৎস দৃশ্য! ড্রাইভার জাহিদেরও কোন সাড়াশব্দ নেই। ওর দেহটা অনড় হয়ে পড়ে আছে। হামিদ সাহেব এখনো বেঁচে আছেন। রাস্তা দিয়ে গাড়িগুলোর তীব্রবেগে ছুটে চলার শব্দ তিনি শুনতে পাচ্ছেন। তিনি ভাবছেন, কেউ কি তাকে দেখছে না? কেউ কি এগিয়ে আসবে না একজন মুমূর্ষু ব্যক্তির প্রাণ বাঁচাতে? তিনি প্রাণপণে চেষ্টা করছেন চোখদুটি খুলে রাখতে, তার ধারণা একবার চোখ বন্ধ করলেই তিনি আর চোখ খুলতে পারবেন না। চোখ খুলে রাখতে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। তিনি তার আত্মীয়স্বজনের কথা ভাবছেন। তার মেয়ে এলিনকে স্মরণ করার চেষ্টা করছেন। কি অদ্ভুত! এলিনের কোনও ছবিই এই মুহূর্তে তার মনে পড়ছে না। এটাই কি মৃত্যু! পেছন থেকে যেন কারো কথার শব্দ তিনি শুনতে পেলেন। অনেক কষ্টে বন্ধ হয়ে যাওয়া চোখদুটি আবার খুলে তিনি পেছনে ফিরে তাকালেন। হ্যাঁ, কেউ তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে। ওই তো দুজন লোক তার দিকেই আসছে। মৃত্যুপথযাত্রীর মুখে এবার আনন্দের রেখা ফুটে উঠলো। ধীরে ধীরে এবার এলিনের চেহারাটি ফুটে উঠতে শুরু হলো। এবার তিনি ঠিকই এলিনকে দেখতে পাচ্ছেন।
তিন. হারু ও নসু এসে দাঁড়াল খাঁদে পড়ে যাওয়া গাড়িটির পাশে। নসু উল্টে যাওয়া গাড়িটির ভেতর উঁকি দিয়ে দেখলো। হাত দিয়ে ইশারা করে হারুকে ডাকলো।
ওরা দুজন প্রথম চেষ্টায় গাড়ির ভেতর ঢুকতে না পেরে গাড়ির সাইডগ্লাসগুলো ভেঙে ফেললো। দুজনই ঢুকে পড়ল দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটির মধ্যে। হারু মিসেস হামিদের বীভৎস লাশ দেখে খানিকটা বিচলিত হলো। নিজেকে সামলে নিতে কিছুটা সময় লাগলো তার। নসু তাকে অভয় দিলো, ‘ডরাইস না হারু, কাম শুরু কর।’ এরপর ওরা দুজন মিলে একে একে সব গয়নাগুলো খুলে নিলো, পাশে পড়ে থাকা ব্যাগটি, মিসেস হামিদের মোবাইল ফোনটি। হামিদ সাহেব তখনো বেঁচে আছেন। করুণ আর্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন এদের দিকে। অনেক কষ্টে তিনি একটি শব্দ করে ওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। ওরা দুজন তার দিকে ফিরে তাকালো। এগিয়ে আসলো তার দিকে। প্রথমেই হামিদ সাহেবের পকেট থেকে মানিব্যাগটি, তারপর মোবাইল, জুতোজোড়া, এমনকি হামিদ সাহেবের চোখের চশমাটিও। হামিদ সাহেবের চোখে তখন আলোকিত পৃথিবী ঝাপসা হয়ে চোখদুটো ছলছল করছিলো। ইতিমধ্যে রামুও স্পটে পৌঁছে গেল। রামু এসে অবশিষ্ট কিছুই পায়নি। সে ওদের দু’জনের কাছে ভাগ চাইলো। ওরা দু’জন এককথায় রামুকে এর ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালো। ঝগড়া বেঁধে গেল, এরপর মারামারি, রক্তারক্তি। প্রথমে একজন মাটিতে লুটে পড়ল, তারপর আরেকজন, তারপর... হামিদ সাহেব এবার চোখ বুজলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৫ ঘণ্টা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২ সম্পাদনা : তানিম কবির, tanimkabir@gmail.com
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|