banglanews24.com Logo

মাহে রমজানের অফুরন্ত ফজিলত নিয়ে কিছু কথা

31 Jul 2012   01:25:34 PM   Tuesday BdST

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে এক বিশেষ রহমত স্বরূপ। কোরআন এবং হাদীসে এই রমজান সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

প্রতিটি সক্ষম মুসলমান নর-নারীর ওপর এই মাসে রোজা বা সিয়াম সাধনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, একই সঙ্গে এর অসংখ্য ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে কোরআন ও হাদীসে।

এক রেওয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে, রোজাদারের পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ পাক প্রদান করবেন। অন্য এক হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে রোজা মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ।

এই রমজান মাস আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার জন্য রহমত, বরকত ও মাগফেরাত হিসেবে অভির্ভূত হয়।

হাদীস শরীফে (সহীহ বোখারী, সহীহ তিরমিযি, ইমাম হাম্বলী, ইবনে কাসীর, প্রভৃতি) বর্ণিত রয়েছে, বিশেষ করে সাহাবী ক্কাআব বিন ঊজাইর রাজি আল্লাহু তাআলা আনহু (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার জুমার খুৎবা দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখেন, তখন বলেন আমীন, দ্বিতীয় সিঁড়িতে যখন পা রাখেন, তখন বলেন আমীন, একইভাবে তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখেও বলেন, আমীন।

নামায শেষে সাহাবীরা রাসূলুল্লাহকে (সা.) তিনবার অস্বাভাবিকভাবে আমীন বলার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখি, তখন জিব্রাইল আলাইহিসসাল্লাম (আ.) ওহী নিয়ে আসেন এবং বলেন, ধ্বংস হয়ে যাক, সেই ব্যক্তি, যে রমজান মাসের রোজা পেল অথচ গুনাহ মাফ করাতে পারল না, এর জবাবে আমি বললাম আমীন।

দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময় জিব্রাইল (আ.) বললেন, ধ্বংস হয়ে যাক, সে যার সামনে আমার নাম নেওয়া হলো অথচ দরুদ শরীফ পড়ল না, জবাবে বলেছি আমীন।

তৃতীয় সিঁড়িতে যখন পা রাখলাম, জিব্রাইল (আ.) বললেন, ধ্বংস হয়ে যাক, সে যে বা যারা তার মা-বাবা কিংবা উভয়ের যে কোনো একজনকে পেল অথচ তাদের খেদমত করে জান্নাত হাসিল করতে পারল না, জবাবে বলেছি আমীন।

এই হাদীসের শুরুতেই বলা হয়েছে রমজান শরীফের কথা। রমজান মাস যখন শুরু হয়, তখন আল্লাহ পাক এই মাসের প্রথম রাতেই দশ লক্ষ বান্দাকে মাফ করে দেন, যাদের জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে রয়েছে, এমন সব গুণাহগারদের মাফ করে দেন, লাইলাতুল কদরের রাতে অসংখ্য, অগণিত বান্দাকে মাফ করে দেন, আর মাসের ২৯ তারিখ রাতে সারা মাসের যত মাফ করা হয়েছে তার দ্বিগুণ, আর ঈদের রাতে আরো দ্বিগুণ সংখ্যক বান্দার গূনাহ মাফ করে দেন বলে হাদীসে বর্ণিত রয়েছে। তবে কবীরা গূনাহের জন্য তওবা করে মাফ চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সাহাবী হযরত আবু হুরাইরা রাজি আল্লাহু তাআলা আনহু (রা.) থেকে বর্ণিত, যে বা যারা পূর্ণ আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের সঙ্গে রমজান মাসে দিনের বেলা যাবতীয় পানাহার থেকে বিরত থাকবে অর্থাৎ রোজা রাখবে ও রাতে পরিপূর্ণ ঈমানের সঙ্গে নামায পড়বে, এবাদত-বন্দেগী করবে, লাইলাতুল কদরের রাতে জেগে এবাদত করবে, আল্লাহ পাক সে বান্দার পেছনের সব গূনাহ মাফ করে দেবেন।

সহীহ বোখারী ও মুসলিমসহ বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে এই হাদীসের সত্যতা নির্ভুলভাবে পাওয়া যায়।

হযরত আবু হুরাইরা রাজি আল্লাহু তাআলা আনহু (রা.) আরো বর্ণনা করেছেন, রমজান মাসে বেহেশতের দরজা খুলে দিয়ে দোজখের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তালাবদ্ধ করে রাখা হয় শয়তান ও জিনদের। রমজানের প্রতিটি দিন ও রাতে অগণিত বান্দাকে আল্লাহ পাক দোজখের আজাব থেকে মাফ করে দিতে থাকেন।

এই রমজান মাসে কেউ রোজাদারকে এক ফোঁটা দুধ, পানি বা খেজুর অথবা যেকোনো খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ইফতার করালে আল্লাহ পাক তাকে দোজখের আযাব থেকে মাফ করে দেবেন, আল্লাহ পাক তাকে রোজাদারের সমান সওয়াব দেবেন। তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে সামান্যও কমানো হবে না।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে আরো বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) বলেছেন, মাগফেরাতের দোয়া রমজানের শেষ রাতে কবুল হয়েছে, সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলে ওই রাত লাইলাতুল কদরের রাত কিনা জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, না, কারণ আল্লাহ পাক তার বান্দার মজুরি রমজান পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দিয়ে দেন। বলাই বাহুল্য হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পূর্ণ নির্মল ও নেকশ্রেষ্ঠ নবী হওয়া সত্ত্বেও রমজানে আল্লাহর দরবারে এতো এবাদত বন্দেগী করেছেন, আর আমরা তো তার উম্মত, আমাদেরও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য বেশি বেশি এবাদত-বন্দেগী করা উচিৎ।   

রমজান মাসের প্রতিটি সময়, প্রতিটি ক্ষণ অত্যন্ত মূল্যবান। অন্য যে কোনো মাসে যেমন নির্দিষ্ট সময় বা শেষ রাতে বা তাহাজ্জুদের সময় বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু রমজান মাসে প্রতিটি সময় বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। দিনে-রাতে আল্লাহ পাক তার রহমতের দরজা খুলে বান্দার নিকটবর্তী হয়ে গূনাহগার বান্দাদের মাফ করে দিচ্ছেন এবং তা চলতে থাকবে অনবরত একেবারে ঈদের রাত পর্যন্ত।

এই রমজান মাসে শেষ দশ দিনের মধ্যে যেকোনো বেজোড় রাত লাইলাতুল কদরের রাত বলে কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যা হাজার মাসের এবাদত-বন্দেগীর চাইতে উত্তম রাত।

তাই আমাদের সবার কদরের রাতসহ রমজান মাসের প্রতিটি ক্ষণ ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানো উচিৎ। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার এ সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: তিন পর্বের লেখাটির প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।

মেইল: Salim932@googlemail.com
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা
মেইল: bn24.islam@gmail.com 


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত