তিন বছরে বিদ্যুতে বিনিয়োগ ১৫ বিলিয়ন ডলার
[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ আগস্ট ২০১৮
bangla news

তিন বছরে বিদ্যুতে বিনিয়োগ ১৫ বিলিয়ন ডলার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০১-২২ ৬:৫১:৪৪ পিএম
বক্তৃতা করছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম । ছবি- কাশেম হারুন

বক্তৃতা করছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম । ছবি- কাশেম হারুন

ঢাকা: আগামী তিন বছরে নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

‘ভিশন ২০২১’ অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল, তার চেয়ে আরো দুই হাজার মেগাওয়াট বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

সোমবার বিকালে বিদ্যুৎভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (ইপিআরসি) এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত বিদ্যুৎ সরবরাহ বিষয়ক জনমত জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশকালে এতথ্য তুলে ধরেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

সচিব জানান বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই তিন বছরে দেশে কেবল নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতেই ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। কেবল সরকারই নয়, দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও এই মহাযজ্ঞে অংশ নেবে। এটা কেবল কথার কথা বা পরিসংখ্যানের ভাষা নয়; এরই মধ্যে এই বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত।

তিনি বলেন, এইসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ‘২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে সরকারের করা ওয়াদা পূরণ হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বলেন, ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে আরো চার হাজার ৪২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। নতুন ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এই বাড়তি বিদ্যুৎ আসবে। গত ৯ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের যে বিনিয়োগ হয়েছে, তা সরকারি-বেসরকারি উভয় খাত থেকেই হয়েছে। নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও তাই হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আরো জানান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মলগ্নে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিলো ৫৫০ মেগাওয়াট। সেখানে উৎপাদন হতো মাত্র ২২৯ মেগাওয়াট। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ছিলো মাত্র চার হাজার ১৩০ মেগাওয়াট।

বর্তমানে ক্যাপটিভসহ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট। যা থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ৫০৭ মেগাওয়াট। কেবল পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যাই দুই কোটি ছাড়িয়ে গেছে। দেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষই এখন বিদ্যুৎসেবার আওতায় এসে গেছে।

প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে সামগ্রিক ১১ দশমিক ২ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে খুবই সন্তুষ্ট। ৪৫ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ সন্তুষ্ট। ২৯ দশমিক ৯ ভাগ মানুষ মোটামুটি সন্তুষ্ট। আর ১৩ দশমিক ১ ভাগ মানুষ মোটেও সন্তুষ্ট নয়।

অন্যদিকে সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ৭৯ দশমিক ৭ ভাগ মানুষ আস্থাশীল, ৫ দশমিক ৬ ভাগ মানুষের আস্থা নেই, ১৪ দশমিক ৭ ভাগ মানুষ সঠিক কিছু বলতেও পারছেন না। আস্থাশীলতার হার সর্বোচ্চ ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৭ ভাগ ও সর্বনিম্ন ঢাকা বিভাগে ৭১ দশমিক ৪ ভাগ।

এ জরিপ সম্পর্কে বলা হয়, ২০১৬-১৭ সালে পরিচালিত এ জরিপে প্রাথমিকভাবে এক লাখ ২১ হাজার ৪২৭টি মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা হয়। এরপর দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১৪ হাজার ৯৯৬ জন গ্রাহককে বেছে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম বলেন, এই জরিপের উদ্দেশ্য ছিল সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণ কি ভাবছে তা জানা। গত ৯ বছরে দেশের ৯০ ভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। এখন কাজ চলছে মানসম্মত (কোয়ালিটিটিভ) সেবা দেওয়ার। এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০১৮
আরএম/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa