[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ জুন ২০১৮

bangla news

বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে মাঠে থাকবে আ’লীগ

শামীম খান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০১-০৫ ৮:০৪:০৬ এএম
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র লোগো

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র লোগো

ঢাকা: জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বছরজুড়েই মাঠের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকবে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগে কোনো ইস্যুতে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মাঠ দখল করতে দেবে না ক্ষমতাসীন দলটি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে সরকার বিরোধী লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি ব্যর্থ হওয়ার পর দলটি আর মাঠে নামতে পারেনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি মাঠে নামার বিভিন্ন কৌশল খুঁজছে। তবে দলটি যাতে কোনো ইস্যুতে মাঠে নামতে না পারে এবং রাজনীতির মাঠ দখল করতে না পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। 

এরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেবে আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচির মধ্যে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ, জনসভাসহ গণজমায়েতের কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

ইতোমধ্যেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি (শুক্রবার) দেশব্যাপী গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদযাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। 

দিনটিতে ঢাকাসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জনসভা, সমাবেশ ও র‌্যালি আয়োজিত হবে। আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং ১২ জানুয়ারি সরকারের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুরূপ কর্মসূচি থাকবে। ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় দলের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ ও বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা দ্রুতই সারা দেশ সফর করবেন। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নেতৃত্বে টিম গঠন করে দেওয়া হবে। টিমগুলো জেলায় জেলায় জনসভা ও সমাবেশ করবে। এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কর্মসূচিও নেওয়া হবে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিকভাবে সারা দেশে জেলা সফরের মাধ্যমে জনসভা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এসব কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম ঘটানো হবে।

আওয়ামী লীগ নেতারা আরও জানান, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে বিএনপি মাঠে নামার চেষ্টা করবে। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্র দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে। মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি মাঠে নামার চেষ্টা করবে এবং বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ নেবে। এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কর্মীদেরও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে রাখা হবে।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলীয় অবস্থান থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে থাকবো। এ সময় মানুষের মাঝে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দল ও সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত রাখা হবে। সংবিধান অনুযায়ী একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। এটা নিয়ে বিএনপি ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে পার পাবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী আছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা আছে। আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস কারতে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু বাংলানিউজকে বলেন, এটা নির্বাচনের বছর, বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে থাকবো। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন জনগণের মাঝে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের অপকর্মগুলোও তুলে ধরা হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। এ ব্যাপারে কারো কোনো দাবির কাছে ছাড় দেওয়া হবে না। 

বাংলাদেশ সময়: ০৮০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০১৮ 
এসকে/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa