[x]
[x]
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

bangla news

সংবিধান মেনেই নির্বাচনে আসবে বিএনপি!

শামীম খান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১১-১৪ ১২:২৩:৫৭ এএম
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোগো

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোগো

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। সংবিধান মেনে শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলেই তাদের ধারণা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রোববারের (১২ নভেম্বর) সমাবেশে খালেদা জিয়া আবারও জোর দিয়ে বলেছেন শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এর আগেও বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সময় এরকম বক্তব্য দিয়েছেন।

তবে বিএনপির এই বক্তব্যকে বার বার প্রত্যাখান করেছে আওয়ামী লীগ। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে দলটি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকার অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারই আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও যেসব দল আসবে সেই দলগুলো নিয়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির এই অবস্থান এবং খালেদা জিয়া যেসব কথা বলেছেন এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের মতে, শেষ মহূর্তে বিএনপি সংবিধান মেনেই নির্বাচনে অংশ নেবে। এর বাইরে দলটির জন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি এই দাবিতে আন্দোলনের কথা বলে আসছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। এতে কর্মীদের মনবল ভেঙে পড়েছে। তাই কর্মীদের চাঙ্গা করার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এসব কথা বলা হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা আরও জানান, খালেদা জিয়া যেসব দাবির কথা বলেছেন তা সংবিধান বহির্ভূত। এসব দাবি আদায়ে বিশৃঙ্খলা সৃস্টির মাধ্যমে কোনো কিছু করার নৈতিকতা কোনো রাজনৈতিক দলের থাকতে পারে না। আর এ ধরনের কিছু করতে গেলে জনসমর্থনও পাবে না। এসব দাবি নিয়ে রাজপথে নামার সাহস ও শক্তি-সামর্থ্যও তাদের নেই। নামলেও কিছু সময় টিকে থাকার অবস্থাও বিএনপির নেই। কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সরকার প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও যথা সময়ে, যথানিয়মে নির্বাচন হবে। এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান অত্যান্ত দৃঢ় বলে জাননা আওয়ামী লীগের নেতারা।

এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, খালেদা জিয়া যেটা বলেছেন, বিএনপির নেতারা যেটা বলছেন এসবই রাজনৈতিক কৌশল। তারা বুঝতে পেরেছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। নির্বাচনে তারিখ ঘোষণা হলে তাদের এসব দাবি উড়ে যাবে। তারা এখন যেটা বলছে এটা বাস্তবায়নের কোনো সময় থাকবে না। তাদের একটাই পথ খোলা থাকবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। এটা তারা ভালোভাবেই বোঝেন। এখন তারা এটা বলছে বলার জন্যই বলা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। এর বাইরে অন্য কিছু হবে না। খালেদা জিয়ার দাবি সংবিধানের বাইরের দাবি। সংবিধানের বাইরে কিছু হবে না। সংবিধান মেনেই নির্বাচনে আসতে হবে। না এলে না আসবে। যেসব দল নির্বাচনে অংশ নেবে তাদের নিয়েই হবে। আসলে তফসিল ঘোষণা করলে এসব রাজনৈতিক কথা বাদ দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হবে, এর বিকল্প তাদের নেই। যে সব দাবির কথা বলছে সেসব নিয়ে আগানোর অবস্থা তাদের নেই।

বাংলাদেশ সময়: ০০১৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৪, ২০১৭ 
এসকে/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Loading...
Alexa