Alexa
ঢাকা, সোমবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২২ মে ২০১৭
bangla news

র‌্যাব সত্য নাকি নিহতদের স্বজনরা, প্রশ্ন ফখরুলের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৩-২০ ৬:০৮:১৯ পিএম
আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অতিথিরা। ছবি: দীপু মালাকার

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অতিথিরা। ছবি: দীপু মালাকার

ঢাকা: রাজধানীর দু’টি জঙ্গিবাদী ঘটনায় র‌্যাব ও নিহতদের স্বজনদের ‍পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কোনটি সঠিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, নিহতদের পরিবার ও র‌্যাব বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সত্য? পরিবারের দাবি সত্য হলে আমরা কোন দেশে বাস করছি? সত্য উদঘাটন করতে হবে। এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে এখন।

সোমবার (২০ মার্চ)  দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ জিয়ার ভূমিকা ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক’ এক আলোচনা সভায় ফখরুল এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

সম্প্রতি আশকোনায় র‌্যাবের ব্যারাকের সামনে বোমা বিস্ফোরণে এর বহনকারী নিহত হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বোমা বহনকারীকে জঙ্গি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সেসময় হানিফ মৃধা নামে একজনকে গ্রে্প্তার করা হয়। পরে তার বুকে ব্যথা শুরু হলে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় হানিফ মৃধার।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফখরুল বলেন, হানিফের পরিবার বলছে, ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন লোক গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায়। আর র‌্যাবের দাবি, আশকোনায় আত্মঘাতী হামলার দিন সন্দেহভাজন হিসেবে হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব অফিসে নেওয়ার পর তার বুকে ব্যথা শুরু হলে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই মারা যান তিনি।

ফখরুল প্রশ্ন তোলেন, পরিবার ও র‌্যাবের বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সত্য? পরিবারের দাবি সত্য হলে আমরা কোন দেশে বাস করছি?

এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে এক কথা। পরিবার বলছে ৩-৫ মাস আগে তুলে নেওয়া হচ্ছে। তাহলে কি জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করার জন্য তাদের হত্যা করা হচ্ছে?

খিলগাঁওয়ে র‌্যাব ক্যাম্পের সামনে নিহত যুবক প্রসঙ্গে ফখরুল দাবি করেন, মোটরসাইকেলে নিরিবিলি জায়গায় দিয়ে যাচ্ছিল ওই যুবক। মৃতের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। অথচ মোটরসাইকেলে একটা গুলির চিহ্নও পাওয়া যায়নি। প্রকৃত ঘটনা বের করে এসবের সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার। 

সরকার ভয়ঙ্কর খেলায় নেমেছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে জানি না। আগুন নিয়ে খেলবেন না। সরকার জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছে। তারা প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আন্তরিক নয়।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর নিয়ে ফখরুল বলেন, আমরা তিস্তার পানি চাই। ফারাক্কার পুনরাবৃত্তি চাই না। অভিন্ন ৫৪টি নদীর ন্যায়সঙ্গত অধিকার যেন পাই, সেটা নিয়ে আলোচনা করুন।

সীমান্তে যেন বেআইনিভাবে হত্যা না হয় সেটা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ দ্বিতীয় প্রধান নেতা বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন ও জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে কোনো কথা নয়। আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও স্বাধীনতা-সার্বভোমত্ব রক্ষা করবো।

এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন আহমেদ মনি, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৩ ঘণ্টা, মার্চ, ২০, ২০১৭
এমসি/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

You May Like..