[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জুলাই ২০১৮

bangla news
মেয়রের ইন্টারভিউ

৫ বছরে বেতাগীর চেহারা পাল্টে দিতে চান গোলাম কবির

|
আপডেট: ২০১৬-০৩-০২ ৭:১৮:০০ এএম
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বেতাগী পৌরসভাকে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত করে পৌরবাসীর সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই। ১৭ বছরেও যে পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার চেহারা পাল্টে দিতে চাই।

বরগুনা: বেতাগী পৌরসভাকে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত করে পৌরবাসীর সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই।

১৭ বছরেও যে পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার চেহারা পাল্টে দিতে চাই। সরকারের সহযোগিতায় পৌরবাসীকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চাই।

সম্প্রতি বাংলানিউজের  সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বরগুনার বেতাগী পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র এবিএম গোলাম কবির।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন করে বেতাগী পৌরসভাকে একটি আলোকিত পৌরসভা হিসেবে গড়তে চান।

নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, আমি এর আগে বেতাগী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। বরাবরই আমি জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশেছি, জনগণের সুখে দুঃখে তাদের পাশে ছিলাম। তাই তারা আমাকে ভালোবেসে বেতাগী পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। ছোটবেলা থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছি, ভবিষ্যতেও তাই রাখবো।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি শুভ উদ্যোগ। ফলে জনগণের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে, সেইসঙ্গে বেশি বেশি উন্নয়ন কাজ করার সুযোগও সৃষ্টি হবে। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে এ উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এর ফলে দল তাদের সেবা নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। মানুষও তার পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে পারছেন। বিশেষ করে যারা দলীয় রাজনীতি করেন তারা তাদের সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যাপারে তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালে বেতাগীকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের দিক থেকে এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত পৌরসভা এটি। পৌরসভার বিষখালী নদীর তীরে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা রয়েছে যা প্রতিদিন ভাঙছে। বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে রয়েছে কাঁচা রাস্তা। পৌরবাসীর জন্য নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ লাইনের তো আরো বেহাল দশা, পৌরসভার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে ছয়টি খাল, যাতে ব্রিজের পরিবর্তে রয়েছে সাঁকো।

এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে এসব সাঁকো। উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি এ পৌরসভায় উল্লেখ করে বর্তমান মেয়র পৌরবাসীকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।

সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে যেভাবে উন্নয়ন করছেন তার ছোঁয়া বেতাগী পৌরসভায়ও লাগবে। তার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে পৌর এলাকার উন্নয়ন করবো। যেমনটি করেছি বিগত উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার সময়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে সব টাকা আসে তা সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নয়ন করা সম্ভব। বেতাগী উপজেলাকে যেমন একটি মডেল উপজেলা করেছিলাম ঠিক তেমনি এখন বেতাগী পৌরসভাকেও একটি মডেল পৌরসভা করবো।

মেয়র বলেন, পৌরবাসী আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের সেবা করার জন্য। আমি আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বেতাগী পৌরসভাকে উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক ও আলোকিত পৌরসভা উপহার দিতে চাই।

আমার পৌরসভার নয়জন কাউন্সিলর ও তিনজন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিয়ে আলোচনা করে কাজ করবো। তবে প্রথমেই নদী ভাঙনের হাত থেকে পৌরবাসীকে রক্ষা করতে চাই, কারণ তিনটি গ্রাম নদীতে ভাঙতে শুরু করেছে। পৌরসভার প্রতিটি রাস্তা প্রসারসহ কাঁচা রাস্তাগুলো পাকা করা হবে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা, রোড লাইন, নাগরিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের উন্নয়ন কাজ করা হবে।

পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে মেয়র বলেন, ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি। সেই সময় থেকে মানুষের সঙ্গে ছিলাম, এখনো আছি, আগামীতেও থাকবো। পৌরসভার প্রতিটি নাগরিকের সঙ্গে থাকবে আমার সুসর্ম্পক। তবে আগামীতে নির্বাচনে অংশ নিবো কি না সেটা নির্ভর করবে পরিবেশ পরিস্থিতির উপর।

এবিএম গোলাম কবির ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। প্রথমে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, এরপর বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি, পরে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি, সর্বশেষ তিনি বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর বেতাগী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মেয়র হিসেবে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি শপথ নিয়েছেন এবিএম গোলাম কবির। দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ২৬ জানুয়ারি।

বাংলাদেশ সময়: ০৭২০ ঘণ্টা, মার্চ ০২, ২০১৬
আরএ/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa