স্বজনের হেলমেট নাই তাই…
[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ আগস্ট ২০১৮
bangla news

স্বজনের হেলমেট নাই তাই…

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৮-১১ ১:৪৫:৩০ পিএম
গাড়ির কাগজপত্র যাছাই করছে পুলিশ। ছবি: বাংলানিউজ

গাড়ির কাগজপত্র যাছাই করছে পুলিশ। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরের এক বাসিন্দা স্কুটি নিয়ে কারওয়ান বাজার এলাকা পার হচ্ছিলেন। দ্বায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের ইশারায় স্কুটি থামিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখালেন। সবই ঠিক আছে। কিন্তু তার সঙ্গে স্বজনের হেলমেট না থাকায় ২০০ টাকার মামলা দিলেন দ্বায়িত্বরত পুলিশ সদস্য।

শনিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ট্রাফিক সপ্তাহের শেষ দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে। শুধুই স্কুটিই নয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনের ব্যত্যয় ঘটায় মোটরসাইকেল, গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনকে মামলা দিতে দেখা গেছে দায়িত্বরতদের।  

রাস্তায় শুধু পুলিশই নয় আইন মানাতে এবং পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস ও ওভারব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছেন রোভার স্কাউটের সদস্যরা।

তবে এতে জনগণ বিরক্ত না হয়ে সানন্দ্যে বিষয়টি গ্রহণ করছেন। স্কাউট সদস্য এবং পুলিশের সদস্যদের কথা মতো পথচারীরা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পার হতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থানে গাড়ি থামানোর পর সেখান থেকে গাড়িতে উঠতে দেখা গেছে যাত্রীদের।

কারওয়ান বাজার মোড়ে দায়িত্বরত ঢাকা জেলা রোভার স্কাউটের সদস্য ধামরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ১৫ জনের মতো সদস্য এখানে দায়িত্ব পালন করছি। মূলত জনগণকে সচেতন করতে আমাদের এ দায়িত্ব পালন। যেমন জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, ফুটপাত দিয়ে হাঁটা, আন্ডারপাসের ব্যবহার, যত্রতত্র বাস থামিয়ে বা চলন্ত অবস্থায় গাড়িতে না ওঠা, নির্ধারিত স্টপেজ থেকে গাড়িতে উঠতে জনগণকে সচেতন করছি। জনসাধারণও বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন। আইন ও নিয়ম অনুযায়ী বিষয়গুলো যেন জনগণের অভ্যাসে পরিণত হয় সে চেষ্টা করছি।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোটাছুটি করে সার্ক ফোয়ারার আশপাশে দিয়ে পার হওয়া জনসাধারণকে আটকে দিচ্ছেন স্কাউট সদস্যরা। এছাড়া মাঝ রাস্তায় বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের সরিয়ে স্টপেজে নিয়ে যাচ্ছেন তারা।
 
অপরদিকে পুলিশ সদস্যরা মোটরসাইকেল, গাড়ি, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং করছেন। যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই বা আইনের ব্যত্যয় রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে গেছে।
 
সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. রেজাউল করিম বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহে জনগণের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। বিষয়টি জনগণ ভালোভাবে নিয়েছে। আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। জনগণ সচেতন হচ্ছে। মোটরসাইকেলের আরোহীরা হেলমেট ব্যবহার করছেন। যারা আইনের মধ্যে থাকছেন না, তাদের মামলা দিচ্ছি।
 
২০০ টাকা জরিমানার পর স্কুটির মালিক বলছেন, অবশ্যই দুইজনের হেলমেট ব্যবহার করা উচিত। আমাদের একজনের ছিলো। অপরজনের না থাকায় ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না।

এ সময় তার পাশে থাকা একজন গাড়ি চালকের কাগজপত্র না থাকায় মামলার মুখে পড়তে দেখা গেছে।   
 
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বেপরোয়া দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে চাপায় পড়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরও হয়।
 
তাদের আন্দোলনকে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের ‘নৈতিক ভিত’ হিসেবে অভিহিত করে ৪ আগস্ট ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সারাদেশে পুলিশ সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেন। পরদিন ৫ আগস্ট এই ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ১১, ২০১৮
ইএস/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa