[x]
[x]
ঢাকা, রবিবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জুলাই ২০১৮

bangla news

‘পোস্টার আগ্রাসন’ রুখে দাঁড়িয়েছেন আবুল খায়ের

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৭-১৪ ৯:০৮:১১ এএম
পোস্টার ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসছেন আবুল খায়ের। ছবি: বাংলানিউজ

পোস্টার ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসছেন আবুল খায়ের। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: রাজধানী ঢাকাকে উন্নত বিশ্বের শহরগুলোর মতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সাজানো-গোছানো নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম বেশ দৃশ্যমান। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের হাত ধরে রীতিমত বৈপ্লবিক কার্যক্রম শুরু হয় ঢাকাকে বদলে দিতে।

কিন্তু এই নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও গোছানো রাখতে বরাবরই অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাইনবোর্ড, পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারের মতো জঞ্জাল। এসব উপকরণে নগরীর সৌন্দর্যহানি হয় বিধায় বিভিন্ন সময়ে আদালতের নির্দেশনায় দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেললেও অবস্থা তথৈবচ।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই। অন্তত টাঙ্গাইল সদরের আবুল খায়ের (৭৫) তা-ই মনে করেন। সেজন্যই কি-না জীবনের বিকেলবেলায় পৌঁছেও ‘পোস্টার আগ্রাসন’র বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন তিনি। এখন নগরীর সৌন্দর্যহানিকারক পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাই নেশা হয়ে গেছে তার। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেট এলাকায় তাকে দেখা যায় এমন জঞ্জাল পরিষ্কার করতে।কাছে গিয়ে দেখা যায়, আবুল খায়ের পোস্টারগুলো ছিঁড়ে কাছের ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছেন। দেয়াল, ফুটওভার ব্রিজ কিংবা বিদ্যুতের খুঁটি। যেখানেই পোস্টার দেখছেন, সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন আবুল খায়ের। স্বেচ্ছায় দিনের পর দিন এসব পোস্টার সাফ করে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে সাহায্য করাই প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান খায়ের।

বাংলানিউজকে তিনি বলছিলেন, ‘যারা দেয়ালে-রাস্তার পাশে পোস্টার লাগায় তারা ‘শয়তান’। ভালো মানুষ কখনো শহরকে অপরিচ্ছন্ন করে না।’ যতদিন পারেন, ততদিন এই কাজটি করে যাবেন বলে জানান আবুল খায়ের।

তার এই কাজকে মহৎ উদ্যোগ হিসেবেই দেখছে ডিএনসিসি। পোস্টার ছেঁড়ার কাজে সহায়তা করার জন্য অচিরেই আবুল খায়েরকে একটা ব্যাগও উপহার দেবে ডিএনসিসি। যাতে পোস্টার ছিঁড়ে সেই ব্যাগে করে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসতে পারেন তিনি।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পোস্টার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ডের অপরাধে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা এবং ১৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২ লাখ ১২ হাজার ৫২১টি পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ছেঁড়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ওজন ছিল ৪৬ হাজার ৭৫৩ কেজি। ডিএনসিসির ৩০ হাজার ৩০০ জনবল গড়ে এক ঘণ্টা কাজ করে এই বিশাল জঞ্জাল পরিষ্কার করেছে।

একইভাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ লাখ ১৬ হাজার পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। এগুলোর মোট ওজন প্রায় ৪৩ হাজার ২১৬ কেজি। ৪৩ হাজার জনবল গড়ে এক ঘণ্টা কাজ করে এসব জঞ্জাল অপসারণ করেছে।

ডিএনসিসি কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বিভিন্ন উপলক্ষের মাস নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং জুন মাসে পোস্টার ও ব্যানারের আগ্রাসন বেশি থাকে নগরীতে। এই তিন মাসে ডিএনসিসিতে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কেজি পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন সাঁটানো হয়। ডিএনসিসির ফার্মগেট এলাকাকে এসবের ভার বইতে হয় বেশি। ফ্লাইওভারের পিলার, ফুট ওভারব্রিজের মতো জনচলাচলের স্থানও এসব পোস্টার, ব্যানারের টার্গেট হিসেবে ব্যবহার হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কে বিদেশি অতিথিদের চলাচল বেশি থাকে বিধায় এই এলাকাও নিস্তার পায় না বিলবোর্ড-পোস্টারের হাত থেকে।

ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম এ রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর মামলা ও জরিমানা করছি। তারপরও থামছে পোস্টার, বিলবোর্ড লাগানো ও দেয়াল লিখন। একমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে এগুলো থামানো মুশকিল। আবুল খায়েরের মতো সচেতন মন-মানসিকতা না থাকলে পোস্টার সাঁটানোর মতো কর্মকাণ্ড থামানো ‍মুশকিল। ব্যানার ও পোস্টার নগরীর জন্য ক্ষতিকর। এগুলো দেখতেই শুধু দৃষ্টিকটূ নয়, পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি। অনেক ব্যানার আছে এগুলো পলিথিনের চেয়েও ক্ষতিকর।’

মামলা-জরিমানার কারণে বাণিজ্যিক পোস্টার কমেছে, কিন্তু রাজনৈতিক পোস্টার কমেনি জানিয়ে এম এ রাজ্জাক জনগণের সচেতনতায় তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘যেসব কোম্পানি বেশি পোস্টার ও বিলবোর্ড শো করবে,  আমাদের উচিত তাদের পণ্য ও সেবা বর্জন করা। তাতে তারা পিছু হটবে, তবেই নগরী পরিচ্ছন্ন থাকবে। শুধু ডিএনসিসি একা এ কাজটি করতে পারবে না, সবাইকে আবুল খায়েরের মতোই সচেতন হতে হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ০৯০৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০১৮
এমআইএস/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa