[x]
[x]
ঢাকা, রবিবার, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জুলাই ২০১৮

bangla news

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট উদ্বোধন শনিবার

শামীম খান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৭-১২ ৫:১৯:৪৩ এএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

ঢাকা: রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন হবে শনিবার (১৪ জুলাই)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করবেন।

শনিবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর গিয়ে পৌঁছাবেন। পরে দুপুর ১২টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাশিয়ার রাশান ফেডারেশনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিচভ। 

এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালক দোহি হ্যান এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

পাবনার ঈশ্বদী উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নে এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা চলছে। প্রায় ১২শ’ একর জমির উপর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেটি বাংলাদেশের সব চেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প।

রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আর্থিক সহায়তা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থা আণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ইউনিটের এ কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ‘বিশ্ব পরমাণু ক্লাব’ (নিউক্লিয়ার নেশন) এ যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ‘বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের’ ৩২তম সদস্য দেশ। বর্তমানে বিশ্বের ৩১টি দেশে ৪৫০টি পারমাণবিক বিদ্যুতের ইউনিট চালু আছে। এগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার মেগাওয়াট (৩৯২ গিগাওয়াট)। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। বাংলাদেশে নির্মাণাধীন এ দুইটি ইউনিট ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরো ৬০টি ইউনিট নির্মাণাধীন রয়েছে। 

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প বাস্তবায়নের মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণে সরবরাহ করছে রাশিয়া। এ প্রকল্পে রাশিয়ার উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক ৩+ প্রজন্মের (থ্রি প্লাস জেনারেশন) ‘ভিভিইআর ১২০০’ প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি চুল্লিতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। অর্থাৎ দুই ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। আগামী ২০২৩ সালে এর প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে টানা ৬০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এরপর অতিরিক্ত আরো ২০ বছর উৎপাদন কাজ চলবে। এছাড়া এ প্রকল্পে ভবিষ্যতে আরো দুইটি ইউনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী দেশে প্রয়োজনীয় জায়গায়ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বর্তমানে দুই হাজার ২০০ জন কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ রয়েছেন ৪৫০ জন। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল কাজে যুক্ত হবে ১২ হাজার ৫০০ জন কর্মী। এর মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দুই হাজার ৫০০ জন কর্মী যুক্ত থাকবেন।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল কাজের আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধনের বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো বড় কাজ আর হয়নি। এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ‘বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে’ প্রবেশ করছে। এটা আমাদের একটা মাইল ফলক অর্জন। প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের পর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এখন দ্বিতীয় ইউনিটের মূল কাজ উদ্বোধনের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরো এক ধাপ অগ্রগতি হবে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল কাজ এগিয়ে যাবে বলে জানান মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস।
      
বাংলাদেশ সময়: ০৫১৬ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০১৮
এসকে/আরআইএস

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রূপপুর রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa