মধ্যরা‌তে ব‌রিশাল নদী বন্দ‌রে যাত্রীদের ভিড়
[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ আগস্ট ২০১৮
bangla news

মধ্যরা‌তে ব‌রিশাল নদী বন্দ‌রে যাত্রীদের ভিড়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৬-১৪ ৬:৩৬:৪৬ এএম
ভোর রাতে লঞ্চ থেকে নামছেন যাত্রীরা

ভোর রাতে লঞ্চ থেকে নামছেন যাত্রীরা

ব‌রিশাল: প্রিয়জন‌দের সঙ্গে ঈ‌দের আনন্দ ভাগাভা‌গি ক‌রে নি‌তে রাজধানী থে‌কে বা‌ড়ি ফির‌ছেন মানুষ।

স্পেশাল সার্ভিসের প্রথম দিনের যাত্রায় উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও স্বাভাবিক দিনের থেকে যাত্রী সংখ্যা ছিলো কয়েকগুণ।

নদী বন্দর সূ‌ত্রে জানা ‌গেছে, বুধবার (১৩ জুন) বিকেলে থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করতে শুরু ক‌রে ব‌রিশালসহ দ‌ক্ষিণাঞ্চ‌লের নানান রু‌টের লঞ্চগুলো।

ধারাবাহিকতায় মধ্যরাত থেকে ব‌রিশাল নদী বন্দ‌রে লঞ্চগুলো এসে পৌঁছালে বেড়ে যায় যাত্রীদের ভিড়। 

নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী বৃহস্প‌তিবার (১৪ জুন) ভোর রাতে প্রথ‌মে ঢাকা থে‌কে ঘরমু‌খো মানুষ‌দের নি‌য়ে ব‌রিশা‌লে এ‌সে পৌঁছায় এম‌ভি টিপু ৭ নামের লঞ্চটি। এরপর এ‌কে এ‌কে এমভি     এ্যাড‌ভেঞ্চার-৯, পারাবত-৯, ১২, সুরভী-৭, ৯, সুন্দরবন-১০,      কীর্তন‌খোলা-২, ১০, ফারহান-৮ নামের লঞ্চগুলো। 

এছাড়া ভায়া রুটের এমভি মানিক-১, সুন্দরবন-১২, পূবালী-৭, কিং সম্রাট নামের লঞ্চগুলো বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রী নামিয়ে পরবর্তী স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেয়। এছাড়া সূর্য ওঠার আগেই বিআইডব্লিউটিসির ২টি জাহাজ বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রী নিয়ে পৌঁছায়। 

তবে সরাসরি রুটের লঞ্চগু‌লো বন্দ‌রে জে‌টি‌তে নোঙর ক‌রে যাত্রী‌দের না‌মি‌য়ে দি‌য়ে আবার ঢাকার উ‌দ্দেশে খা‌লি ফি‌রে যায়। যার মধ্যে কয়েকটি ল‌ঞ্চে অল্প কিছু ঢাকার যাত্রী ছিল।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বাংলানিউজকে জানান, লঞ্চগু‌লো‌তে যাত্রী‌দের ভিড় ছি‌লো স্বাভা‌বিক দি‌নের থে‌কে ক‌য়েকগুণ। তবে এ ভিড় আ‌রো বাড়‌বে বৃহস্প‌তিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোতে। 

সুলতান না‌মে ঢাকা থেকে আগত এক লঞ্চযাত্রী জানান, ভিড় এড়া‌তে আ‌গেভা‌গেই স্ত্রী সন্তান‌দের বা‌‌ড়ি‌তে পা‌ঠি‌য়ে দি‌য়ে‌ছেন, তি‌নি আজ এসে‌ছেন, ত‌বে যেমন ভিড় মনে করেছিলেন তেমনটা হয়‌নি। 

এদিকে পা‌পিয়া, কো‌হিনুর, শান্তাসহ বেশ কিছু নারী যাত্রী মধ্যরা‌তে লঞ্চ থে‌কে না‌মি‌য়ে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে‌ছেন। এ‌তো রা‌তে নারী যাত্রীরা কীভা‌বে গন্ত‌ব্যে যাবেন তা নি‌য়েও প্রশ্ন তুলে‌ছেন তারা। 

কিন্তু লঞ্চ প‌রিচালনার দা‌য়ি‌ত্বে থাকা স্টাফরা জা‌নি‌য়ে‌ছেন, প্রতি বছরই স্পেশাল সা‌র্ভিসে এমনটা হ‌য়ে আস‌ছে। যা এ রু‌টের যাত্রীরা অবগত র‌য়ে‌ছেন। আর নদী বন্দর ও ঘাটগুলোতে নামিয়ে যাওয়া যাত্রীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।

ভোর রাতে লঞ্চ থেকে নামছেন যাত্রীরাযাত্রী‌দের নিরাপত্তায় ব‌রিশাল নদী বন্দর এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তায় মধ্যরাত থেকেই বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ব‌রিশাল সদর নৌ থানা পু‌লিশ, মেট্রোপ‌লিট‌নের কোতায়া‌লি ম‌ডেল থানা পু‌লিশ, ব‌রিশাল সদর ও নৌ ফায়ার স্টেশ‌নের সদস্যরা দা‌য়িত্ব পালন কর‌ছেন। যার মধ্যে কোতোয়ালি থানা পুলিশের নারী সদস্যদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো। পাশাপা‌শি পন্টুন ও আশপা‌শের এলাকা সাদা পোশা‌কে পু‌লিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।

অপরদিকে ব‌রিশাল নদী বন্দ‌রের সাম‌নের সড়‌কের উত্তর ও দ‌ক্ষিণ দিক মি‌লি‌য়ে প্রায় ১ কি‌লো‌মিটার সড়‌কে যান চলাচ‌ল নিয়ন্ত্রণে রে‌খে‌ছে ট্রা‌ফিক পু‌লিশ। বন্দর এলাকা থেকে নির্ধা‌রিত দূরত্বে রাত ১টা থে‌কেই গণপরিবহনগু‌লো সা‌রিবদ্ধ ক‌রে রে‌খে‌ছেন চালকরা। যা পর্য‌বেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ কর‌ছে মে‌ট্রোপ‌লিট‌নের ট্রা‌ফিক পু‌লিশ।

এ‌দিকে মধ্যরা‌তে লঞ্চ থে‌কে নে‌মে হয়রা‌নি রো‌ধে পন্টুন ও নদী বন্দর ভব‌নের সাম‌নে যাত্রীদের জন্য বসার ব্যবস্থা ও ছাউনি করা হ‌য়ে‌ছে।

ত‌বে কিছু ছাড়া রাত আড়াইটা থে‌কেই বে‌শিরভাগ যাত্রীকেই বি‌ভিন্ন ধর‌নের গণ প‌রিবহ‌নে স্ব স্ব গন্ত‌ব্যের উ‌দ্দেশে চ‌লে যে‌তে দেখা গে‌ছে।

বরিশাল নৌ-বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বেল্লাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে ও ঘরমু‌খো মানু‌ষের নিরাপত্তায় শুধু নৌ-বন্দর এলাকা নয়, গোটা ব‌রিশাল নগর জু‌ড়ে নেয়া হ‌য়ে‌ছে বাড়‌তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বরিশাল নৌ-ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার সৈয়দ শরাফত আলী বাংলানিউজকে জানান, ফায়ার সার্ভিসের ২টি স্টেশনের সদস্যরা নদী ও টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এসময় পল্টুনে নজরদারী ছাড়াও সার্বক্ষণিক সি-বোট নিয়ে নদীতে টহল দেয়া হয়। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে একটি অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা ছিলো।

বাংলা‌দেশ সময়: ০৬৩০ ঘণ্টা, জুন ১৪, ২০১৮
এমএস/আরএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ঈদে বাড়ি ফেরা

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa