[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ মে ২০১৮

bangla news

ফতেহপুরে ঢাকামুখী লেন চালু, কমেছে ফেনী অংশের যানজট

সোলায়মান হাজারী ডালিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৫-১৮ ৯:১৮:১৯ এএম
ফতেহপুর ওভারপসের ঢাকামুখী লেন। ছবি: বাংলানিউজ

ফতেহপুর ওভারপসের ঢাকামুখী লেন। ছবি: বাংলানিউজ

ফেনী: ফতেহপুরে রেলওয়ে ওভারপাসের একটি ঢাকামুখী লেন খুলে দেওয়ায় কমেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের যানজট। দীর্ঘদিনের চলমান এ যানজট কমে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। 

তবে খানাখন্দের কারণে চট্টগ্রামমুখী লেনে এখনও পরিবহনের ধীরগতি রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এসব খানাখন্দ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয়রা। 

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) বিকেলে কথা হয় কয়েকটি গণপরিবহনের চালক, যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। সবাই মনে করছেন ওভারপাসটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হলে এবং এ এলাকার ট্রাফিক পুলিশরা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন তবে মহাসড়কের ফেনী অংশে যানজট শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

কাভার্ডভ্যান চালক আবদুল আলীম বাংলানিউজকে বলেন, ওভারপাসটির একটি লেন খুলে দেওয়ায় যানজট অনেকটাই কমে গেছে। রমজান ও ঈদের কথা মাথায় রেখে যদি আরও একটি লেন খুলে দেওয়া হয় তবে নির্বিঘ্নে গাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারবে। থাকবে না যানজটের ভোগান্তি।

সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতা ও স্টার লাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক জাফর উদ্দিন বলেন, যানচলাচলে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও আগের মত লাগাতার যানজট নেই। অল্প সময়ের মধ্যে আরও একটি লেন খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ফেনী জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক মীর গোলাম ফারুক বলেন, ফেনী অংশের ভয়াবহ যানজট পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছেন যাত্রী, পরিবহন চালক ও স্থানীয়রা। এটি সম্ভব হয়েছে মহাসড়কের ফতেহপুর ওভার পাসের একটি অংশ খুলে দেওয়ায়। আরও একটি লেন খুলে দেওয়া হয় তাহলে যাঞ্চলাচলের গতি আরও বেড়ে যাবে।

যাত্রীবাহী কয়েকটি বাসের চালক জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর এবং বিভিন্ন গার্মেন্টস-কারখানার কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক একসঙ্গে ছাড়ায় মহাসড়কের এ অংশে এখনও কিছুটা ধীর গতি রয়েছে। তবে আগের মত যানজট নেই।

ওভারপাসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আমিন কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প প্রধান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করা যায় অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আরও একটি লেন খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। দুই-তিন মাসের মধ্যেই পুরো ওভারপাসটিই খুলে দেওয়া হবে।
ফতেহপুর ওভারপাসের নিচ দিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামমুখী লেন। ছবি: বাংলানিউজ
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যানজট নিরসনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিপু বিপিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওভারপাস নির্মাণ শুরু করে। কার্যাদেশ পাওয়ার তিন বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করা সম্ভব হয়নি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে। ঠিকাদারের গাফিলতি ও স্থানীয় চাঁদাবাজদের কারণে এক পর্যায়ে কাজ ছেড়ে দেন তারা।

পরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আল আমিন কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী বলছে, দু’মাসের মধ্যেই ওভারপাসটির কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প প্রধান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ওভারপাসটির  দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৭৯ মিটার। অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য ৭৫৫ মিটার, এরমধ্যে ঢাকার দিকে ৩৪৭ মিটার ও চট্টগ্রামের দিকে ৪০৮ মিটার। সর্বমোট গার্ডার ৩০টি, পিলার ৮টি, পাইল ৪৯০টি। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৭ লাখ টাকা।
 
বাংলাদে সময়: ০৯০৫ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০১৮ 
এসএইচডি/এসআই/এনএইচটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa