রোজা-ঈদযাত্রায় ভয় জাগাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ আগস্ট ২০১৮
bangla news

রোজা-ঈদযাত্রায় ভয় জাগাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

মাহফুজুর রহমান পারভেজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৫-১৭ ৯:৪৫:৩০ এএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজট। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজট। ছবি: বাংলানিউজ

নারায়ণগঞ্জ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাতায়াতকারী যানের একটু চাপেই নাকাল হয়ে পড়ছে যোগাযোগব্যবস্থা। বুধবার (১৬ মে) ওই পথজুড়ে তীব্র যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল চরমে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

এবারের রোজা-ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চলাচলকারী ঘরমুখো যাত্রীরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা ব্যাপক চেষ্টা করেও দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজট। ছবি: বাংলানিউজগাড়ির চাকা যেখানে ঠায় স্থবির

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুপুরের দিকে যানজটের অবস্থা দেখতে সরেজমিনে গেলে সেখানে মানুষের বিভিন্ন দুর্ভোগের দৃশ্য উঠে আসে। সকাল থেকেই চলা এই দুর্ভোগে একেবারেই নাকাল হয়ে পড়েছেন এই সড়কে যাতায়াত করা যাত্রীরা। এদের অনেকেই চলতি পথে অসুস্থও হয়ে পড়েন।

বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে এমন অবস্থা দেখা গেছে। খোদ ট্রাফিক পুলিশকেও দেখা গেছে যানজটের কারণে অসহায় অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে। 

ঢাকা-কুমিল্লা রুটের দোয়েল বাসের হেলপার ফরিদ জানায়, রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সকাল ৯টায় রওয়ানা দিয়ে বিকেল ৩টায় মদনপুর পৌঁছেছে।

পথেই খাবার ও প্রাকৃতিক কাজ যানজটে পড়া যাত্রীদের

যানজটে আটকেপড়া যাত্রীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা পড়তে হয় ক্ষুধায়। একইসঙ্গে আরেক সমস্যা ছিল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া। উপায় না পেয়ে পুরুষ যাত্রীরা পথে কাজ সারলেও বাধ সাধে নারীদের ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে নারীরা দীর্ঘক্ষণ নিজেদের সমস্যা তুলে ধরেন প্রতিনিধির কাছে।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজট। ছবি: বাংলানিউজযানজটে তীব্র বিপাকে নারী ও শিশু যাত্রীরা

যানজটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনে থাকা নারী ও শিশু যাত্রীদের। সেই সকাল থেকেই সড়কে থাকা নারী ও শিশু যাত্রীদের অনেকেই ক্ষুধার্ত অবস্থায় রয়েছেন। থামা অবস্থায় অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে হালকা খাবার খেয়েছেন কিন্তু প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা রয়েছে তাদের।

নারী যাত্রী রাহিমা বাংলানিউজকে জানান, সকাল থেকে এভাবেই বাসে বসে আছি। সায়েদাবাদ থেকে যাবো দাউদকান্দি। ছোট বাচ্চাসহ এখনও বাসে রয়েছি। বাচ্চার বাবা তো পথেই প্রকৃতির ডাকের কাজ সেরেছেন আমরা নারীরা তো আর পারিনা যেখানে সেখানে। কখন যে পৌঁছবো তারও ঠিক নেই।

২ মিনিট চলতেই ২০ মিনিটের বিরতি

প্রতিটি বাসই ২০ মিনিট থেমে থাকার পর চলে মাত্র ২ মিনিট। বাসের সঙ্গে তো ট্রাক, কর্ভারভ্যান ও লরিসহ বিভিন্ন যানবাহন রয়েছেই। সকাল থেকে এভাবেই ঠেলে ঠেলে পার হয়েছেন চালকরা।

কুমিল্লাগামী একটি ট্রাকের চালক আকবর বাংলানিউজকে জানান, সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন মালামাল নিয়ে। দুপুরের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা কিন্তু বিকেল অবধি তিনি মদনপুরও পার হতে পারেননি।

যানজটের সমাধান কোথায়, কি হবে রমজানে?

এদিকে এই যানজটের সমস্যার সমাধান খুঁজতে ইতোমধ্যেই ট্রাফিকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা চিন্তা করলেও এ পথে চলাচল করা যাত্রীরা বলছেন এই যানজটের সমস্যার সমাধান কি রোজার আগে সম্ভব। আর একদিন পর রমজান মাস, এখনি এই অবস্থা রমজানে তো আরো খারাপ আকার ধারণ করবে এই যানজট। এখনি দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর দিতে অনুরোধ করেছেন যাত্রীরা।

জানা যায়, মূলত মেঘনা টোলপ্লাজা, ফোর লেন টু ২ লেন, বিভিন্ন পয়েন্টে সিগন্যাল, ওভারটেকিং টেন্ডেসি, ফিটনেসবিহীন গাড়িসহ বিভিন্ন কারণে এখানে যানজট নিয়মিতই লেগে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ফেনীর যানজটটি আরো প্রকট হওয়ার কারণে যানজটে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা আর তা সামাল দেওয়াই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজট। ছবি: বাংলানিউজঈদকে সামনে রেখে যানজটের চ্যালেঞ্জে সরকার

রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে যানজটের এই অবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের জন্য। একদিকে রমজানে মানুষের ঢাকামুখী ও বাড়িমুখীতা। অন্যদিকে ঈদে নাড়ির তানে বাড়ি ফেরার বাড়তি চাপ যা প্রতিবছরই সরকারকে ভোগায়। এবার সেই ভোগান্তিতে যুক্ত হতে যাচ্ছেন নতুন যানজটের মাত্রা। এই মাত্রাকে সামাল দিয়ে নির্বিঘ্নে মানুষের বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা দেওয়াই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন অনেকেই।

ঈদে মানুষ এরকম অবস্থা দেখলে হয়তো অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন আর সরকারের নির্বাচনী বছরে সরকারও মানুষের ঈদযাত্রা আনন্দদায়ক না হলেও যেন কষ্টদায়ক না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেবে বলেও মনে করছেন সকলে।

যানজটে অ্যাম্বুলেন্সে রোগীদের দুর্ভোগ

যানজট পাড়ি দিয়ে অসুস্থ রোগী নিয়ে ঢাকামুখী অ্যাম্বুলেন্সকেও পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। কারণ পথের দু’পাশেই সৃষ্টি হয়েছিল গাড়ির জটলা, এতে করে রং সাইডে চালিয়ে দ্রুত যাওয়ার পথও প্রশমিত হয়ে পড়েছিল। তবে তার মধ্যে ট্রাফিক ও সাধারণ মানুষ নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে সাইড করে দিতে। তবে রং সাইডেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক সময় লেগে গেছে একেকটি অ্যাম্বুলেন্সকে পার হতে।

তীব্র যানজটের সমাধানে বিকল্প পথের ব্যবস্থা নেই

এমন তীব্র যানজটেও বিকল্প পথের ব্যবস্থা নেই ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে। জরুরি প্রয়োজনেও তীব্র এই যানজট পেরিয়ে কোনো গাড়ী এগিয়ে যাওয়ার কোনো অবস্থা নেই। জরুরি প্রয়োজনে কিংবা অসুস্থ কাউকে নিতে হলেও বিকল্প পথের সুযোগ নেই যাওয়ার।

পথে পথে সড়ক মেরামত

যানজটের মধ্যে কাঁচপুর, মেঘনা টোলপ্লাজা, মদনপুর, মোগড়াপাড়াসহ বিভিন্ন পথের মোড়ে মোড়ে চলছে সড়ক মেরামতের কাজ। এসব কাজের কারণে প্রশস্ত পথ আরো সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এরফলে সড়ক ছোট হওয়ায় গাড়িগুলোও একসঙ্গে চলাচল করতে পারছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে ওভারটেকিংয়ের কারণে এসব সড়কেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

যানজট নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য

শিমরাইল মোড়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, কুমিল্লায় সৃষ্ট যানজটের কারণে না’গঞ্জেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকা থেকে গাড়িগুলো ফোরলেনের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে এসে কাঁচপুর ব্রিজে এসে টু-লেনের মাধ্যমে যেতে হয়। এতে করে গাড়ির গতি কিছুটা স্লো হয়ে যায়। তখনই যানজটের সৃষ্টি হয়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম জানান, ভোর ৪টার দিকে বৃষ্টির কারণে দাউদকান্দিতে অবস্থিত মেঘনা গোমতী সেতুর উপরে সড়কে ট্রাফিক বিভাগের লোকজন ছিল না। তখন কিছু গাড়ি একজন আরেকজনের আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে যানজট বাঁধিয়ে ফেলে। সেই যানজট ছাড়াতে না ছাড়াতেই কিছুক্ষণ পরে একটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। ওই যানজটের রেশ নারায়ণগঞ্জের অনেকদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা গাড়ির চাপের উপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে চারলেন থেকে সড়কে উঠার পর একলেনে করে গাড়িগুলো বের করে দিচ্ছি। সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে ১৬টি গাড়ি নষ্ট হয়েছে, এসব কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। আমরা চেষ্টা করছি যেন দ্রুতই এ যানজট দূর করা যায়। যানজটের মূল সুত্রপাত ফেনী থেকে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময় ০৯৪৪ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০১৮
এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa