[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

bangla news

সংলাপের সুপারিশমালা সরকারের কাছে পাঠাল ইসি

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৪-১৬ ৯:০৪:৫৫ পিএম
নির্বাচন ভবন

নির্বাচন ভবন

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত সংলাপের সুপারিশমালা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসির যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) এস এম আসাদুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রীপরিষদ সচিবের দফতরসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে সোমবার (১৬ এপ্রিল) সুপারিশমালা পাঠিয়েছেন।
 
২০১৭ সালের ৩১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন।
 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য আয়োজিত নির্বাচনের জন্য সংলাপ থেকে ইসির কাছে ৫ শতাধিক সুপারিশ আসে।
 
সুপারিশগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েন পক্ষে সবচেয়ে বেশি এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিপক্ষে বেশিভাগ সুপারিশ এসেছে। আর নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন ইসিকে ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আস্থা অর্জন ও সক্ষমতা বাড়ানোর  দিকে উদ্যোগী হওয়ার ওপর। 
 
সংলাপের পরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছিলেন, এই সংলাপ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলোর মধ্যে যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করবো। আর সরকারের বিষয়গুলো সরকারকে বাস্তবায়নের জন্য বলবো। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (১৬ এপ্রিল) সুপারিশমালা পাঠানো হলো।
 
২০১৭ সালের ৩১ জুলাই সুশীল বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েনের সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে তারা ইভিএম বাদ দিতে বলেন। সীমানা পুনর্নির্ধারণের তেমন প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তারা।
 
এরপর ১৬ ও ১৭ আগস্ট সংলাপে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। তবে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে অভিমত দেন। তারা ইভিএম নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি। তবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করার সুপারিশ করেছেন।
 
গত ২৪ আগস্ট শুরু হয় ‍ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ। শেষ হয় বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর)। প্রতিটি দলই সংলাপে অংশ নেয়। এদের মধ্যে বেশিরভাগ দলই সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দেয়। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিপক্ষে ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ না করার সুপারিশ করে।
 
সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-জাতীয় পরিষদের অধীনে ভোটগ্রহণের প্রস্তাব করে।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিচারিক ক্ষমতা সহ সেনা মোতায়েন ও নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণ চায়।

খেলাফত মজলিশ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সরকারী দলের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সংলাপের আয়োজন, বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা এবং ইভিএম বাদ দেয়ার সুপারিশ করে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি  ইভিএম ব্যবহার না করার সুপারিশ করলেও সেনা মোতায়েন নিয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়নি।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি নির্দলীয় সরকারের পক্ষে এবং সেনা মোতায়েন ও ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টও সেনা মোতায়েন ও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এবং ইভিএমের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে এরা কোনো মতামত দেয়নি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অস্থায়ী সরকার গঠন ও সেনা মোতায়েন করে ভোটগ্রহণের সুপারিশ করে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি নির্দলীয় সরকারের অধীনে সেনা মোতায়েন করে ভোটগ্রহণ এবং সব দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।

ইসলামিক ফ্রন্ট সুপারিশ করে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করার জন্য। একই সঙ্গে দলটি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের করার পক্ষে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি সর্বদলীয় সরকার, জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের সুপারিশ করে।  আর ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নেতারা ভোটারের সংখ্যার অনুপাত এবং প্রশাসনিক এলাকাকে বিবেচনায় নিয়ে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করে। তবে এ দল দুটি ইভিএম নিয়ে কোনো সুপারিশ করেনি।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) নিরপেক্ষ সরকার, বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা, ইভিএম বাদ দেওয়া এবং ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করে। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) সেনা মোতায়েন, ইভিএম বাদ ও সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যা ও আয়তন বিবেচনায় নেয়ার সুপারিশ করে।

গণফোরাম সর্বদলীয় পর্যবেক্ষক দল গঠন, ইসিকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদানের সুপারিশ করে। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ চায় নির্বাচনকালীন সরকার,ইভিএম ছাড়াই ভোটগ্রহণ। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন ও ইভিএম বাদ দেয়ার সুপারিশ করে।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ইভিএম ভোটগ্রহণের সুপারিশ করে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারীর জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন বরাদ্দ রাখা, সেনা মোতায়েন না করা , অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম চালুর সুপারিশ করে। জাকের পার্টি হ্যাকিং প্রটেকটেড ইভিএমে (হ্যাকিংয়ের কবল থেকে সুরক্ষিত) ভোটগ্রহণের প্রস্তাব করলেও নির্বাচনকালীন সরকার গঠন ও সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে তাদের কোনো প্রস্তাব নেই বলে ইসিকে জানায়।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করার এবং ইভিএম ব্যবহার করার সুপারিশ করে। তবে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে মতামত দেয় দলটি। 

এদিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন ও অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণের সুপারিশ করে।

জাতীয় পার্টি-দশম সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার চায়। আর  জাপা (পার্থ) সারাদেশে সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন, সংসদ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করে। 

বিকল্পধারা বাংলাদেশ নবম সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে গঠিত সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণ এবং সেনা মোতায়েনের সুপারিশ করে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বর্তমান সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণ এবং নারীদের জন্য সংসদে ৩৩ শতাংশ আসন রেখে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা চায়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ‘না-ভোট’ চালু ও সংসদ ভেঙে দিয়ে ভোটগ্রহণ চায়। গণতন্ত্রী পার্টি চায় বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন। আর ইসলামী ঐক্যজোট স্পর্শকাতর এলাকায় সেনা মোতায়েন চায়।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন, প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন, ধর্মীয় দলের নিবন্ধন বাতিল, ক্ষেত্রবিশেষে জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা, আয়তন, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক সুবিধা অনুসারে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ও সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহারের সুপারিশ করে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিরোধী দল বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ঘোর বিরোধী। পাশাপাশি তারা ইভিএম বা ডিভিএম (ডিজিটাল ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করে নির্বাচন না করার পক্ষে। দলটি সেনা মোতায়েনের জোরালো সুপারিশ করেছে।  এছাড়া ২০০৮ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী  ভোটগ্রহণ করার সুপারিশ করে অতীতে একাধিকবার ক্ষমতায় যাওয়া এই দল।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ চায় নিরপেক্ষ সরকার। সেইসঙ্গে  ইভিএম এবং আদমশুমারির পরিবর্তে ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে আসনের সীমানা নির্ধারণ। বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এমএল চায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার, সেনা  মোতায়েন এবং ইভিএমে ভোটগ্রহণ।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি চায় সেনা মোতায়েন, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা। আর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট চায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার ও সেনা মোতায়েন এবং  ‘না-ভোট’ ।

এদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন চাইলেও  সেনা মোতায়েন চায় না। তবে দলটি বর্তমান সীমানায় নির্বাচন এবং এতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ চায়।

জাতীয় পার্টি-জেপি চায় সংবিধান অনুযায়ী ভোট, প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন, ইভিএম নয় এবং সংসদীয় আসনের বর্তমান সীমানা বহাল।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বলেছে সেনা মোতায়েন অপরিহার্য। তাদের মতে সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন নেই। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এ দলটি কোনো প্রস্তাব দেয়নি।
 
বাংলাদেশ সময়: ২১০২ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৬, ২০১৮
ইইউডি/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa