[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

bangla news

স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটি খুলছে শিগগির

মো. রাজীব সরকার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৪-১৬ ৯:০৬:০২ এএম
স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটি খুলছে শিগগির। ছবি: বাংলানিউজ

স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটি খুলছে শিগগির। ছবি: বাংলানিউজ

গাজীপুর: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্ধারমানিক ও আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকায় শিগগির চালু হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্মসিটি। দিন দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের সিনেমা হলগুলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্মসিটি চালু হলে আলোর মুখ দেখবে চলচ্চিত্র জগৎ। এটি চালু হলে দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হবে চলচ্চিত্রশিল্পীদের।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্ধারমানিক ও আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকায় ১০ হাজার ৩৯৫ শতাংশ (৩১৫ বিঘা) জমির উপর নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্মসিটি। বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটি খুলছে শিগগির। ছবি: বাংলানিউজবিভিন্ন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। খুব শিগগিরই এটির উদ্বোধন করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্মসিটি শুধু শুটিংয়ের জন্য নয়; এটি হবে বিনোদনকেন্দ্রও। এ ফিল্মসিটি চালু হলে সিনেমা নির্মাণের জন্য লোকেশনে ছবি চিত্রায়নের প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রান্তে আর ছুটতে হবে না সিনেমা নির্মাতাদের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্মসিটিতে রয়েছে গ্রামীণ বাড়ি, বাজার, শুটিং রেস্টুরেন্ট, মেকআপ রুম, একটি লেক, একটি পুকুর, খেজুরবাগান, বিভিন্ন গাছের বন-জঙ্গল, একটি ব্রিজ, ডরমেটরিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। নির্মাতারা তাদের চিন্তার সামঞ্জস্য খুঁজে পাবেন এই ফিল্মসিটিতে। এ ফিল্মসিটি চালু হলে বাঁচবে নির্মাতাদের সময় ও অর্থ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্মসিটিতে প্রবেশের জন্য দু’টি গেট রয়েছে। একটি গেট গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্দারমানিক এলাকা দিয়ে, অন্যটি আশুলিয়ার কবিরপুর দিয়ে। এ ফিল্মসিটির ভেতরে রাস্তা, বিভিন্ন ভবন ও গেট নির্মাণসহ শেষ পর্যায়ের বিভিন্ন কাজ চলছে। আন্ধারমানিক এলাকা দিয়ে এ ফিল্মসিটিতে ঢুকতেই হাতের বাঁ পাশে রয়েছে একটি বিশাল লেক এবং ডান পাশে একটি পুকুর। পুকুরঘাটটি বাঁধাই করা। এর দুই পাশে রয়েছে খেজুরগাছ। একটু সামনে গেলে হাতের ডান পাশে একটি টিনশেড ভবন। তার সামনে ফুলের বাগান। এখান থেকেই বাম দিক দিয়ে সোজা রাস্তাটি চলে গেছে কবিরপুর এলাকায় মূলগেট পর্যন্ত। ওই রাস্তটির বাঁ পাশে লেকসহ খেজুরবাগান ও একটি জঙ্গল। আর একটু সামনেই লেকের উপর রং করা একটি লোহার ব্রিজ। এর ডান পাশে রয়েছে বন, টিনশেডের একটি বাড়ি ও একটি বিশাল ভবন। এ ফিল্মসিটির পশ্চিম পাশে রয়েছে লাল মাটির টেক ও গজারিবন। এছাড়াও নানা উপাচারে সাজানো হয়েছে এ ফিল্মসিটি। বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটি খুলছে শিগগির। ছবি: বাংলানিউজজানা গেছে, চলচ্চিত্র জগতের উন্নয়নের জন্য আশির দশকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৮১ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় এফডিসিকে ১০ হাজার ৩৯৫ শতাংশ (৩১৫ বিঘা) জমি বরাদ্দ দেয়। পরে এফডিসির পক্ষ থেকে জিয়া ফিল্মসিটি নামে এর কাজ শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে নানা সমস্যা দেখিয়ে এ প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ‘জিয়া ফিল্মসিটি’ নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটি’ নামকরণ করে পুনরায় কাজ শুরু করে। এরপর আবারও এর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০২ সালের ২৮ জুন এফডিসির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিনেতা রাজীব ‘জিয়া চলচ্চিত্র নগরী’ নামে প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সেসময় কিছু গাছ রোপণ ও একটি আবাসন ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে ‘জিয়া চলচ্চিত্রনগরী’ নাম পরিবর্তন করে এর নামকরণ করে ‘বাংলাদেশ ফিল্মসিটি’। পরে আবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এর নামকরণ করে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্মসিটি’।বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটি খুলছে শিগগির। ছবি: বাংলানিউজতথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্মসিটির প্রকল্প পরিচালক মো. আজম বাংলানিউজকে জানান, ১০৫ একর (৩১৫ বিঘা) জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি। এ ফিল্ম সিটি নিয়ে নানা পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মে-জুন মাসে এটি চালু হতে যাচ্ছে। এ ফিল্ম সিটি চালু হলে চলচ্চিত্র জগতের সবার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে।

তিনি আরো জানান, এ ফিল্মসিটিতে রয়েছে গ্রাম ও শহরের উভয় রকম পরিবেশ। একজন নির্মাতা এখানেই খুঁজে পাবেন তার চিন্তার সামঞ্জস্য। এটা চালু হলে এখান থেকেই লোকেশনে ছবির চিত্রায়ন করা যাবে। এর জন্য দূরে যেতে হবে না।

বাংলাদেশ সময়: ০৯০৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৬, ২০১৮
আরএস/এসএইচ/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa