[x]
[x]
ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৫ জুন ২০১৮

bangla news

মশা মারতে সিটি করপোরেশনের মশকারি

শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৩-১১ ৮:০০:০৪ এএম
মশা মারতে সিটি করপোরেশনের মশকারি

মশা মারতে সিটি করপোরেশনের মশকারি

ঢাকা: মশার যন্ত্রণায় রাজধানীর কোথাও দুই মিনিট বসে থাকা দায়। এমন কোনো বাসা, অফিস, দোকান বা উন্মুক্ত স্থান নেই যেখানে মশার ভনভনানি নেই। বলতে গেলে মশায় ছেয়ে গেছে নগরী!

গতবছরও মশার যন্ত্রণায় ঢাকার দুই মেয়র নাজেহাল অবস্থায় ছিলেন। বছরজুড়ে চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ থাকায় নগরবাসীর কাঠগড়ায় ছিলেন মেয়ররা। এবার সেই চিন্তা থেকে আগে ভাগেই কোমর বেঁধে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
 
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা বাংলানিউজকে বলেন, এই মৌসুমে যেসব মশা দেখা যাচ্ছে তার ৯৯ শতাংশই হচ্ছে কিউলেক্স মশা। এই মশায় আসলে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। এক শতাংশ আছে এডিস মশা, এই মশায় কামড়লেই রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশি।
 
এডিশ মশার বংশবিস্তার ঘটে ফুলের টব, টায়ার, ভবনের ছাদে অথবা কোথাও জমাট হয়ে থাকা পানিতে। এডিশ মশা মূলত জমাটবদ্ধ থাকা পরিস্কার পানিতেই জন্মায়। আর কিউলেক্স মশার বংশবিস্তার হয় নোংরা ড্রেন, ডোবা, খাল আর নালায়।
 
কিন্তু সিটি করপোরেশনে ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যাপক তোড়জোর লক্ষ্য করা যায় রাস্তায়, নয়তো বাসাবাড়ির আশপাশ দিয়ে, কিন্তু যেখানে বংশবিস্তার ঘটে সেই জায়গায় ধ্বংস করার কার্যক্রম কমই দেখা যায়। ফলে কোটি টাকার ওষুধ ছিটালেও কাজে আসছে না।
 
এবার মশা নিধনে উত্তর সিটি করপোরেশন হট লাইন চালু করেছে। হট লাইনে ফোন দিয়ে সেবা গ্রহিতা মিরপুরের জাকির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন,  ফোন করার পর সিটি করপোরেশনের লোক এসে বাসার চারপাশ দিয়ে স্প্রে করে গেছেন, কিন্তু স্প্রে করার পরেও মশার উৎপাত কমেনি। মশার যন্ত্রণায় বসাই যাচ্ছে না।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, সিটি করপোরেশনে থেকে যে ওষুধ বের হয়ে সেগুলো বাইরে বিক্রি হয়ে যায়, আর যে ওষুধ স্প্রে করা হয় সেটি ভেজাল। অর্থাৎ টাকা দিলে ভালো ওষুধ মিলবে আর না দিলে লোক দেখানো স্প্রে।
 
সেই স্প্রে করাতেও চাই টাকা। হট লাইনে ফোন দিয়ে যদি সিটি করপোরেশনের স্প্রে ম্যান আসেন তাহলে তাকে দিতে হয় বকশিস। সেই বকশিস ১০০ থেকে ৫০০ টাকাও হয়ে থাকে। 
 
রাজধানীতে যেসব মশার আধিক্য লক্ষ্য করা যায় সেগুলোর মধ্যে কিউলেক্স মশা, এডিশ মশা বেশি। এছাড়া ঢাকার বাইরে বেশি দেখা যায় এনোফিলিস মশা।
 
সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বাংলানিউজকে বলেন, সিটি করপোরেশনে যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তা সঠিক আছে। তাদের কার্যক্রম যদি সঠিক মাত্রায় পরিচালিত হয়ে থাকে তাহলে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
 
কিন্তু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম দেখা যায় রাস্তায় পরিস্কার জায়গায় গাড়ি নিয়ে অথবা হেটে স্প্রে করে যাচ্ছে। গত ৫ মার্চ বিমানবন্দর এলাকায় গাড়িতে চড়ে কামান নিয়ে যুদ্ধ করার মতো মশা তাড়াতে ব্যস্ত দেখা যায় ডিএনসিসি প্যানেল মেয়র সদস্য আলেয়া সারোয়ার ডেইজীকে।
 
এনিয়ে সেদিন সেখানে উপস্থিত অনেকেই বলতে থাকেন এটা মশা মারা নাকি মশকারি করা। এমনকি দুই সিটি করপোরেশনের স্প্রে ম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও তেমন দেখা যায় না। যখন যে এলাকায় মেয়ররা প্রোগ্রাম হাতে নেন তখনই তৎপরতা বেড়ে যায়।
 
এনিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দু’জনেই ব্যস্ত বলে কথা বলতে রাজি হননি।
 
মশা নিধনে প্রতিবছরই বাৎসরিক পরিকল্পনা নিয়ে থাকে দুই সিটি করপোরেশন। কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংস্থা দু’টির ১০টি অঞ্চলের ৯৩টি ওয়ার্ডে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪-৬ জন মশক নিধনকর্মী দুই বেলা ওষুধ ছিটান। সকালে লার্ভিসাইডিং এবং বিকেলে এডাল্টিসাইড কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। কর্মপরিকল্পনা অনুসারে ৩-৪ দিন পর একই স্থানে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়।
 
বাংলাদেশ সময়: ০৮০০ ঘণ্টা, মার্চ ১১, ২০১৮
এসএম/এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa