[x]
[x]
ঢাকা, রবিবার, ১ মাঘ ১৪২৪, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

bangla news

রাজধানীতে প্রধান সমস্যার অন্যতম আবাসন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১২-৩১ ৩:৫৬:৪৯ পিএম
অনুষ্ঠানে বিআইজিডি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান। ছবি: কাশেম হারুন-বাংলানিউজ

অনুষ্ঠানে বিআইজিডি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান। ছবি: কাশেম হারুন-বাংলানিউজ

ঢাকা: রাজধানীর প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হলো আবাসন সমস্যা। এই শহরে রয়েছে চার হাজার বস্তি। প্রতিবছর ঢাকা মহানগরীতে শূন্য দশমিক ১২  মিলিয়ন নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাটের দরকার হলেও সেখানে গড়ে উঠছে মাত্র ২৫ হাজার। যা খুবই অপ্রতুল। রাজধানীতে বসবাস করা মানুষের আয়ের ৩০ শতাংশই বাড়ি ভাড়ায় ব্যয় হয়ে যায়। 

রাজধানীর আবাসন চিত্র নিয়ে বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘নগর পরিস্থিতি-২০১৭: ঢাকা মহানগরীর আবাসন’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিআইজিডি তাদের নিজস্ব জরিপ ছাড়াও সরকার, জাতিসংঘ, এনজিও ও রাজউকের গবেষণা থেকে সহায়তা নেওয়া হয়েছে। 

গবেষণা প্রতিবেদনে রাজধানীতে বাসস্থানের পর্যাপ্ততা, নগরবাসীর সামর্থ্য, বাসস্থানে মৌলিক সেবাসমূহের মান এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি, ভাড়াটেদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবাসন খাতের শাসনব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 

বাসস্থানের চাহিদা ও সরবরাহের ক্রমবর্ধমান ব্যবধান ও উচ্চমূল্য, ইমারত নির্মাণ বিধি লঙ্ঘন, ভাড়াটেদের নিরাপত্তাহীনতা, ভূমি ব্যবহার ও ভবন নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যসহ এ খাতের নীতি ও বিধির বিভিন্ন খেলাপ এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ের বিশ্লেষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সচিত্র প্রতিবেদন প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান সৈয়দা সেলিনা আজিজ। এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইজিডি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান। 

সেলিনা আজিজ বলেন, রাজধানী ঢাকার পুরান ঢাকা, মিরপুর, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার ৪০০ বাড়িতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, দেশের অধিকাংশ শহরে বসবাসকারী অধিবাসীদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ মানুষ ঢাকায় বসবাস করে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ মানুষের ঢাকায় কোনো নিজস্ব জমি বা বাড়ি নেই। বস্তিবাসীদের নিয়ে হিসেব ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। 

‘ঢাকায় বসবাস করা অধিবাসীদের ৩২ শতাংশ নিজেদের বাড়িতে থাকেন, বাকি ৬৮ শতাংশ থাকেন ভাড়া বাড়িতে। এর মধ্যে ৫৫ ভাগ এক হাজার বর্গফুটের চেয়ে ছোট বাসায় থাকেন। ৫ ভাগ মানুষ বাস করেছে দুই হাজার বর্গফুটের ঘরে।’

তিনি বলেন, জরিপকালে ৮২ শতাংশ মানুষ বলেছেন তাদের আয়ের ৩০ শতাংশই চলে যায় বাড়ি ভাড়ায়। ৬৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাদের ঢাকায় ফ্ল্যাট অথবা বাড়ি কেনার ইচ্ছে নেই। কারণ তাদের সে রকম সঞ্চয় নেই।

‘আর অধিকাংশ মানুষই ব্যাংক লোনে নানা ঝামেলার কারণে লোন নিয়ে ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি কিনতে চান না। বাসা ভাড়া ও বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মানুষ প্রাধান্য দেন তার বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব কতটুকু, তা। এর মূল কারণ ঢাকার যানজট।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেসরকারিভাবে যারা আবাসন ব্যবসা করেন তারা সব সময় ফ্ল্যাট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে টার্গেট করেন। রাজউকের প্রকল্প থেকে ফ্ল্যাট কেনার চেয়ে বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ বেশি মানুষের।

ব্যাংক লোনের বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ঋণ নিয়ে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কিনতে গেলে ৭০ শতাংশ টাকা ব্যাংক দেয়। বাকি ৩০ শতাংশ ক্রেতাকে এককালীন পরিশোধ করতে হয়। এজন্য অনেক ক্রেতা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কারণ এককালীন পরিশোধের টাকাও অনেকের কাছে থাকে না।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার এককালীন পরিশোধ ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ  করা যেতে পারে। এছাড়া ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ি ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে পারলে ভাড়াটিয়ারা ফ্ল্যাট কেনায় আগ্রহী হয়ে ওঠবেন। 

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭
এমএইচ/আরআইএস/এমএ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa