[x]
[x]
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ মে ২০১৮

bangla news

জুয়ার বিবাদে খুন, তিন আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১২-০৭ ৯:০৫:১১ পিএম
ম্যাপ

ম্যাপ

ঢাকা: উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের ভেতরে সুমন (৪০) হত্যার ঘটনায় তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। আসামিদের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে, তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকায় গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, নিহত সুমনের কাছে টাকা পেতেন উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের পাঁচতলা ভবনের ২য় তলার কার্ড কর্নারের মালিক বিতান। তাদের মধ্যে অর্থের লেনদেন ছিল। মূলত এই অর্থের লেনদেনের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আসামি বিতান, লাবলু ও দীপু নামে তিনজনকে খোঁজা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ০২ ডিসেম্বর সকালে রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ২/এ নং সড়কের ১ নম্বর বাসায় গড়ে ওঠা উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় সুমন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সুমনের বাবা ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফেরদৌস ওরফে পেরু (৩৫) ও জুয়েল (৩০) নামে দুজনকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। 

আটক জুয়েল দ্বিতীয় তলার কার্ড কর্নারের মালিক বিতানের গাড়িচালক ও পেরু একই প্রতিষ্ঠানের বয় হিসেবে কাজ করেন।

নিহত সুমন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার নাগলা গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে। সুমন ঢাকায় এসে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরে জুয়া খেলায় আসক্ত হলে পেশাগত অনিয়মের কারণে চাকরি হারান তিনি।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) রুহুল আমিন সাগর বাংলানিউজকে বলেন, অর্থ লেনদেনের কারণেই সুমনকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে।

মূলহোতাসহ তিনজনের নাম উঠে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডে বিতানকে সহযোগিতা করে লাবলু ও দীপু। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান এসি রুহুল আমিন।

জানা গেছে, কার্ড কর্নারের মালিক বিতান ও সুমনের মধ্যে জুয়া খেলার টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলছিল। টাকা না পেয়ে শুক্রবার (০১ ডিসেম্বর) রাতে বিতানের নির্দেশে তার সহযোগী লাবলুসহ কয়েকজন সুমনকে ধরে ক্লাবে নিয়ে আসে। এরপর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সুমনকে ছুরিঘাত করা হয়। তারপর সেখান থেকে বিতান ও লাবলু পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের হিসাবরক্ষক আমিনুল রাকিব জানান, ক্লাবের ২য় তলায় কার্ড কর্নার। এখানে টাকার বিনিময়ে কার্ড (জুয়া) খেলা নিয়ন্ত্রণ করতেন বিতান। ঘটনার সময় বিতান, লাবলু, পেরু, জুয়েলসহ ৬/৭ জন উপস্থিত ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও জুয়া খেলা হতো বলে উত্তরা স্পোটিং ক্লাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অনুমতি ছাড়াই ক্লাবটি আবার চালু করা হয়। প্রায় সময় এখানে জুয়া খেলার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি হতো।

ক্লাবে কার্ড কর্নারের মালিক বিতান পেশাদার জুয়াড়ি। বিভিন্ন ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা করাই তার পেশা। নিহত সুমনও জুয়া খেলতেন। বিতানের সঙ্গে জুয়া খেলার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণেই সুমনের মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২১০৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭
এসজেএ/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa