[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

bangla news

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হবে না

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১২-০৭ ৭:৩২:১০ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাংলানিউজ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এবার বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে।’

তিনি বলেছেন, এবার আর তারা (বিএনপি) ভুল করবে না। আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে আসা প্রত্যেক দলের কর্তব্য। যে আসবে না সেটা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত। আমাদের করণীয় কিছু নেই। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারা নির্বাচন করবে। 

বৃহস্পতিবার (০৭ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি তিনদিনের কম্বোডিয়া সফর শেষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ঘণ্টাখানেকের সংবাদ সম্মেলনে প্রায় পৌনে একঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন  প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা। 

আরও পড়ুন>>
** 
আমাকে কেন ক্ষমা করবে, আমি কী করেছি: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জ ই মামুনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক একটি দেশে যে দলগুলো গণতন্ত্র চর্চা করে, সেসব দলের নির্বাচনে আসা কর্তব্য। তবে কে নির্বাচনে আসবে আর কে নির্বাচনে আসবে না, সে ব্যাপারে সরকারের কিছু করণীয় নেই। 

নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের করণীয় বিষয়ে বারবার প্রশ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নিয়ে যদি আপনাদের এতই আগ্রহ থাকে, তাহলে তেলের টিন, ঘিয়ের টিন নিয়ে সেখানে যান। আমি অপাত্রে ঘি ঢালি না।’

সাংবাদিক শ্যামল দত্ত প্রশ্ন করেন, আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না? 

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বরণডালা পাঠাতে হবে?’ একবার তার (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আমন্ত্রণ জানিয়ে ঝাড়ি খেয়েছি, অপমানিত হয়েছি, আর ঝাড়ি খাওয়ার-অপমানিত হওয়ার ইচ্ছে নেই। যাদের মধ্যে ভদ্রতাজ্ঞান নেই, তাদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছে নেই।’

সাংবাদিকের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ছোটলোকিপনা যারা করে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেন কোন মুখে? আমার উপর আপনারা এতো জুলুম করেন কেন? কোন দল নির্বাচন করবে কোন দল নির্বাচন করবে না, তা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কী করার আছে।’

বিএনপি ও এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাকে (জিয়াউর রহমান) আপনারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক বলেন! তিনি যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন, এটাই বহুদলীয় রাজনীতি?’ জামায়াত ব্যানড ছিলো, দলগঠন করার অনুমতি দিয়ে  রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন তিনি। 

বিএনপির জ্বালাও-পোড়াওয়ের সমোলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার নির্বাচনে না এসে আগুন–সন্ত্রাস করলে জনগণই এর জবাব দেবে। তারাই এর ব্যবস্থা নেবে।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন-এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে কেন ক্ষমা করবে, আমি কি করেছি? বরং উনার (খালেদা জিয়া) উল্টো মাফ চাওয়া দরকার।’

‘উনি কি ক্ষমা করেছেন, না চেয়েছেন- এ বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তার উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। কিবরিয়াসহ অনেককে হত্যা করা হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আমি বেঁচে গিয়েছিলাম, এ জন্য আমাকে ক্ষমা করেছেন?’

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা তা আমাদের সরকার দেয়নি। বরং আমার বিরুদ্ধে তো এক ডজন মামলা দিয়েছিল তারা। আর যারা মামলা দিয়েছে মইন উদ্দিন, ফখরুদ্দিন তাদের নিজেদের লোক। 

‘মামলা থেকে তার (খালেদা জিয়া) পলায়নপর নীতি আপনারা দেখেছেন। কোর্টে যাওয়া নিয়েও তাণ্ডব হয়েছে। এর আগে আওয়ামী লীগের এমপির গাড়ি ভাঙচুর করেছে, আগুন দিয়েছে।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রধামন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে কি না?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা সমর্থন পাচ্ছি। কম্বোডিয়ার প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানিয়েছে, তিনি আশ্বাস দিয়েছেন- আসিয়ানে এ বিষয়ে কথা বলবেন। মিয়ানমারকে তারা চাপ দিচ্ছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে না বললেও চাপ দেওয়া হচ্ছে। সবাই চায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজের দেশে ফিরে যাক। আমরাও তাই প্রত্যাশা করি।

‘প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমি চাই মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিবেশীভাব বজায় থাকুক। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের  আশ্রয় দিয়েছি। অবশ্যই ফেরত নিতে হবে।’   

এর আগে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে কম্বোডিয়া সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে জানান প্রধানমন্ত্রী।  

তিনি জানান, তার এ সফরে নমপেনের একটি সড়ক বঙ্গবন্ধুর নামে করা হয়েছে। আর ঢাকাতেও একটি সড়কের নাম সেদেশের রাজার নরদোম সিহানুকের নামে নামকরণ করা হয়েছে। 

তিনদিনের সরকারি সফর শেষে মঙ্গলবার (০৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরেন শেখ হাসিনা।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭২২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭
এমইউএম/এমএ/এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa