[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ নভেম্বর ২০১৭

bangla news

গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমারকে ‘ধমক’ দেওয়া হয়েছে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৯-১০ ৬:৫৬:৫২ পিএম
সংবাদ সম্মেলন, ছবি: ডিএইচ বাদল

সংবাদ সম্মেলন, ছবি: ডিএইচ বাদল

ঢাকা: রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা বন্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে ‘ধমক’ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, প্রতিনিধি ছাড়াও এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও সচিব মো. শহীদুল হক।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, সবাই বলেছে এক বাক্যে এটি গণহত্যা। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের দেশগুলো একমত। আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। এতে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ফলে শান্তিপূর্ণভাবেই এই ইস্যুটির সমাধান হবে এটাই কাম্য।

তাদের দেশের সমস্যা সমাধানে তাদেরই কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আশ্রয় দেওয়ায় এক বাক্যে প্রশংসা করেছে বিশ্ব

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সুপারিশ করা কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চান কূটনীতিকরা। তারা বলেছেন, এই প্রতিবেদন বাস্তবায়িত হলে দূর হবে সমস্যা; নিজ দেশে নিরাপদে থাকতে পারবেন রোহিঙ্গারা।

কূটনীতিকের ব্রিফিং করার সময় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জোয়েল রেইফম্যান এমন বক্তব্য তুলে ধরেন।

এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এমন মত দিয়েছেন ঢাকায় ভ্যাটিক্যান সিটির প্রতিনিধি আর্জবিশপ জর্জ কোচেরি।

ইউএনএইচসিআর’র বাংলাদেশ প্রধান শিনজি কুবো জানিয়েছেন, সমস্যার সমাধান হতে হবে। আশ্রয় দেওয়াদের ব্যাপারে এখনই কিছু সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

এদিকে, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পরিদর্শনে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া পরিস্থিতি দেখতে একদিনের পরিদর্শনে বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার যাচ্ছেন বাংলাদেশে নিয়োজিত সব বিদেশি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বা প্রতিনিধিরা।

ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা তথা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সুবিধার্থে রোহিঙ্গা সেল গঠন করেছে।

ঘটনার শুরু গত ২৪ আগস্ট দিনগত রাতে রাখাইন রাজ্যে যখন পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে ‘অভিযানের’ নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। ফলে লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চলে আসছেন। এই সংখ্যা এখন সোয়া তিন লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই ঢুকছেন কম করে হাজার দশেক মানুষ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। সহিংসতার শিকার হয়ে গত বছরের অক্টোবরেও প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। 

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৬ ঘ্ণ্টা, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭
কেজেড/আইএ

অন্তর্ভুক্ত বিষয়ঃ রোহিঙ্গা

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Loading...
Alexa