[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

bangla news

‘আমার হাত অনেক হালকা হয়েছে’- বাবাকে মুক্তামনি

আবাদুজ্জামান শিমুল,সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৮-১৩ ১:৫৩:১২ পিএম
ঢামেক হাসপাতালে মুক্তামনি- ছবি: বাংলানিউজ

ঢামেক হাসপাতালে মুক্তামনি- ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: ‘আমার হাত আগের চেয়ে অনেক হালকা হয়েছে গেছে, তাই না বাবা? আমি ভালো হয়ে গেছি’- ডান হাতে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের পরদিন বাবা ইব্রাহীম হোসেনকে বলেছে ‘হেমানজিওমা’ রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামনি।  

শনিবার (১২ আগস্ট) দু’ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর থেকে মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আরো বেশ কয়েকদিন তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রোববার (১৩ আগস্ট) সকালে বার্ন ইউনিটের আইসিইউ'র সামনে ইব্রাহীম হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘অপারেশনের পর থেকে মুক্তামনিকে কিছু খাওয়ানো নিষেধ ছিলো। তবে রাতে ডাক্তারদের কথামতো তাকে স্যুপ খাওয়ানো হয়।

তিনি বলেন, ‘সকালে মুক্তামনিকে স্যুপ ও ডিম খাওয়ানো হয়েছে। এ সময় মুক্তা আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘বাবা, আমি ভালো হয়ে গেছি না? আমার হাত অনেক হালকা হয়ে গেছে, তাই না বাবা?’

‘তখন আমি তার কথায় সম্মতি দিয়ে বলেছি, ‘হ্যাঁ মা, তোমার হাতের সব ঘা কেটে ফেলে দিয়েছে। তোমার হাত অনেক হালকা হয়ে গেছে। তুমি তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে’।

এ সময় মুক্তামনিকে খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছিলো বলেও জানান তার বাবা ইব্রাহীম।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলানিউজকে জানান, মুক্তামনি ভালো আছে। সকালে তিনি নিজে আইসিইউ'তে গিয়ে মুক্তামনিকে দেখে এসেছেন। তখন তিনি মুক্তামনিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোমার কেমন লাগছে?, সে বলেছে, ‘আমার খুব খিদে পেয়েছে, আমি ভাত খাবো’।

ডা. সামন্ত জানান, মুক্তামনির অবস্থা ভালো হলেও সে এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাকে বিশেষভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রক্তক্ষরণের ভয় এখনও আছে। এ সপ্তাহের শেষের দিকে আমরা চিকিৎসকরা আবার বসবো। তারপর আবারও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’।

শনিবার ঢামেক হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ডান হাত অক্ষত রেখেই মুক্তামনির সফল অস্ত্রোপচারের পর ডা. সামন্ত বলেছিলেন, তার হাত থেকে তিন কেজির মতো বাড়তি মাংস (টিউমার) অপসারণ করা হয়েছে। আরও দুই কেজি টিউমার অপসারণে ফের কয়েকদফা অস্ত্রোপচার করতে হবে। মুক্তামনি এখনও ঝঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, তার রক্তক্ষরণের আশঙ্কা রয়েছে।

সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির ডান হাতে প্রথমে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়! সাদা রঙের শত শত পোকা ঘুরে বেড়াতে থাকে সেই ফুলে যাওয়া অংশে। শরীরের অসহ্য ব্যথা ও যন্ত্রণায় মুক্তামনি বসতেও পারতো না। এরপর হাতে পচন ধরে। হাতের সঙ্গে বুকের একাংশেও ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। সে বিছানাবন্দি হয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় বছরেও মুক্তার রোগ ধরতে পারেননি চিকিৎসকরা।

এরপর সংবাদমাধ্যমে তার কথা উঠে এলে গত ১১ জুলাই মুক্তামনিকে ভর্তি করা হয় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গত ০৫ আগস্ট প্রথম দফায় বায়োপসি অপারেশন করে জানতে পারেন, রক্তনালীতে টিউমার বা ‘হেমানজিওমা’ রোগে আক্রান্ত শিশুটি। এরপর ডান হাতটি কেটে ফেলার ঝুঁকি থাকলেও সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০১৭
এজেডএস/বিএস/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa