ঢাকা, শনিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

bangla news

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে মিথ্যা তথ্য দিলে ২ বছরের জেল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৭-১৭ ১:৪১:২৪ পিএম
ছবি: পিআইডির সৌজন্যে

ছবি: পিআইডির সৌজন্যে

ঢাকা: শরীরে ‍অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয়ের পরিচয়ে মিথ্যা তথ্য দিলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে মানবদেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন -২০১৭ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ারও বিধান রাখা হয়েছে। 

এছাড়া আইনের অন্যান্য যে কোনো বিধি লঙ্ঘন করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রা হয়। 

সোমবার (১৭ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, আইন অনুযায়ী অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে চোখ, কিডনী, অস্থি-মজ্জা, অন্ত্র একে অন্যের শরীরে সংযোজন করা যাবে। 

‘আর নিকট আত্মীয় বলতে বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, চাচা-চাচি, মা-মামি, ফুফা-ফুফো, চাচাতো ভাই-বোন, দাদা-দাদিকে বুঝানো হয়েছে।’

অতিরিক্তি সচিব আশরাফ শামীম জানান, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন নতুন আইনটি ১৯৯৯ সালের আইনের সংশোধন করে করা হয়েছে। এই আইনে সরকারি হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিট ছাড়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে সব ধরনের হাসপাতালের জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 

‘কোনো হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না। যে হাসপাতালই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করুক সরকারের অনুমতি নিতে হবে। তবে যেসব সরকারি হাসাপাতালে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে সেসব হাসপাতালের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। যে সব হাসপাতালের অনুমতি নেই সেসব হাসপাতাল অনুমতি নিতে চাইলে এই আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে অনুমতির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, এই আইন অনুযায়ী চোখ ও বোন সংযোজনের ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয় প্রযোজ্য নয়। এই আইনে জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি কেউ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিতে পারবে না। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যারা নেবেন তাদের বয়স ২ বছর থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। 

‘১৫ বছর থেকে ৫০ বয়সীরা অগ্রাধিকার পাবে। ব্রেইন ডেথ (মৃত) ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়স ২ বছরের কম বা ৬৫ বছরের বেশি হলে হবে না,’ বলেন অতিরিক্ত সচিব। 

আশরাফ শামীম বলেন, এ আইন অমান্য করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোনো হাসপাতাল বা চিকিৎসক এই আইন অমান্য করলে শাস্তি পেতে হবে। আইন অমান্য করলে হাসপাতালের অনুমতি বাতিল হবে, মালিক বা পরিচালককে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। কোনো চিকিৎসক এই আইন অমান্য করলে তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে। 

আইনটি সংশোধনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অতিরিক্ত সচিব বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবৈধ পাচারের সংযুক্তি ঘটেছিল, সংশোধিত আইন সেটাও রোধ করবে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিরোধক ভূমিকা রাখবে এই আইন।
 
‘ব্রেইন ডেথ ঘোষণার পর কোনো আইনানুগ উত্তরাধিকারী কোনো ব্যক্তির দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে অনুমতি দেয় তবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেওয়া যাবে। ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দাবিদার না থাকলে ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তি অনুমতি দিতে পারবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৭, ২০১৭/আপডেট: ১৯২২ ঘণ্টা
এসকে/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa