ঢাকা, বুধবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

bangla news

ঢাকার তিন নদীতীরে হচ্ছে ওয়াকওয়ে, বিনোদনকেন্দ্র

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৭-১৭ ১২:১৫:৫৬ এএম
ঢাকার তিন নদীতীরে হচ্ছে ওয়াকওয়ে, ইকোপার্ক, বিনোদনকেন্দ্র

ঢাকার তিন নদীতীরে হচ্ছে ওয়াকওয়ে, ইকোপার্ক, বিনোদনকেন্দ্র

ঢাকা: রাজধানী ঢাকা ঘিরে থাকা তিনটি নদীর তীরভূমিতে ওয়াকওয়েসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সৌন্দর্য ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

প্রাথমিকভাবে নদীতীর ঘিরে ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের সঙ্গে নির্মিত হবে তিনটি ইকোপার্ক, বিনোদনকেন্দ্র, বসার বেঞ্চ, ফুডকোর্ট ও প্রয়োজনীয় টয়লেট। পাশাপাশি সবুজায়নে বৃক্ষরোপন ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করা হবে।

‘ঢাকার চারপাশে সার্কুলার নৌ-রুট এবং সড়ক’ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারি খাত (জিওবি) থেকে মেটানো হবে।

প্রকল্পটির আওতায় ঢাকার চারপাশের পরিবেশের উন্নয়ন এবং বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর তীরভূমির সৌন্দর্য বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত হবে। এসব তীরভূমির রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ করবে সরকার।

ইতোমধ্যেই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে ওয়াকওয়ের রুট চূড়ান্ত হয়েছে। রুটটি হবে আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর-বিরুলিয়া-গাবতলী-রায়েরবাজার-বাবুবাজার-সদরঘাট-ফতুল্লা-চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড-শিমরাইল-পূর্বাচল সড়ক হয়ে তেরমুখ পর্যন্ত।

চলতি সময় থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কাজ এগিয়ে নেবে।

সূত্র জানায়, ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে নদীর তীরভূমিতে চারপাশের বাঁধের ওপরে ১০ দশমিক ২৭ কিলোমিটার এবং কলামের ওপর প্রায় ছয় কিলোমিটার মনোমুগ্ধকর ওয়াকওয়ে নির্মিত হবে। বাকি অংশটুকু হবে সাধারণ ওয়াকওয়ে।  থাকছে প্রায় আধা কিলোমিটার পায়ে হাঁটার দৃষ্টিনন্দন সেতু, ১০০টি সিঁড়ি, ১৯টি জেটি ও ১০ হাজার সীমানা পিলারও।

প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী বুধবার (১৯ জুলাই) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পটি নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা আহ্বানও করেছে।  
 
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের এক কোটি জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। ঘনবসতিপূর্ণ নগরীর নাগরিকরা স্বস্তি খুঁজে পাবেন এসব ওয়াকওয়েতে। সারা দিনের কর্ম ব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যায় ক্লান্তি দূর করতেও পারবেন।
 
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা উইং) এনায়েত হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের ৯১ কিলোমিটার নৌ-রুট তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জনপথের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে যা যা করার দরকার, সবই করবো। ইতোমধ্যেই নৌ-মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প চূড়ান্ত করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছি। আশা করি, দ্রুততম সময়ে এটি অনুমোদন পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর বিনোদনের দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি অনেক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে’।      

বাংলাদেশ সময়: ০০১৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৭, ২০১৭
এমআইএস/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa