ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

bangla news

নাগরী-সুমির জবানবন্দি: ২ কারণে খুন হন নূরুল

শেখ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৪-২১ ৩:৪১:২৩ পিএম
শাহাবুদ্দিন নাগরী ও নুরানী আক্তার সুমী

শাহাবুদ্দিন নাগরী ও নুরানী আক্তার সুমী

ঢাকা: দুই কারণে ব্যবসায়ী নূরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। নূরুল জুয়া খেলার জন্য টাকা চাইতেন স্ত্রী সুমীর কাছে। এ নিয়ে তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিলো সুমীর। আর সম্প্রতি সুমীর পাসর্পোট তৈরি করতে দেন তার ‘বন্ধু’ শাহাবুদ্দিন নাগরী। তাদের পরিকল্পনা ছিল পার্শ্ববর্তী ভারতে বেড়াতে যাবেন। কিন্তু সুমীর পরিকল্পনা মেনে নিতে পারেননি স্বামী নূরুল। এমন দ্বন্দ্বের জেরেই শেষ পর্যন্ত তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।

নূরুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেফতার কবি, গীতিকার ও সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন নাগরী এবং নূরুলের স্ত্রী নুরানী আক্তার সুমীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই তথ্যই দিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

গত ১৩ এপ্রিল রাতে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৭০/১৭১ নম্বর ডোম ইনো অ্যাপার্টমেন্টের শয়নকক্ষ থেকে নূরুলের (৪৭) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন রাতেই সুমী ও তার গাড়িচালক সেলিমকে আটক করা হয়। ১৭ এপ্রিল সকালে আটক করা হয় সুমীর ‘বন্ধু’ নাগরীকে। তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিলো। সুমীর স্বামী এ সম্পর্কের কথা জেনে থাকলেও ‘বান্ধবী’ বিবাহিত বলে জানতেন না নাগরী।

মরদেহ উদ্ধারের পরদিন ১৪ এপ্রিল নূরুলের বোন শাহানা রহমান বাদী হয়ে সুমী (৩৫), নাগরী (৬০), গাড়িচালক সেলিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নাগরী দুই নম্বর আসামি। 

মামলায় গ্রেফতার তিনজনই পুলিশের পাঁচদিনের রিমান্ডে রয়েছে। শুক্রবার রিমান্ড শেষ হওয়ার কথা।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য উদ্ধৃত করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই কারণেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। আসামি সুমীর ভাষ্যমতে, তার স্বামী নুরুল জুয়া খেলার জন্য টাকা চাইতেন। কারণ তার নিজের ব্যবসা ভালো চলছিলো না। সুমীর সংসারের খরচ বহন করতে নাগরী। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিলো। আর সম্প্রতি সুমীর পাসর্পোট তৈরি করতে দেন নাগরী। তারা পরিকল্পনা করেন ভারতে বেড়াতে যাবেন। কিন্তু পরপুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর বিদেশ ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা মেনে নিতে পারেননি নূরুল। এই নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালেই  ১৩ এপ্রিল দিনগত রাতে নূরুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সুমীর কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শাহাবুদ্দীন নাগরী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের দিন ও রাতে ওই ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া চিত্র বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তারা জানান, শাহীন নামে এক নারী সুমীর সঙ্গে নাগরীকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরিচয়ের পর থেকেই সুমীর বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিলো তার। কিন্তু সুমী যে বিবাহিত ছিলেন সে বিষয়টি জানতেন না নাগরী। আর এই সত্যটি লুকাতে সুমীকে সহায়তা করেন খোদ নূরুলই।

পুলিশ মনে করছে, সুমীর ফ্ল্যাটে নাগরীর নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। সুমী একাই স্বামীকে হত্যা করেছেন। 

দীর্ঘদিন সম্পর্ক রক্ষার পর সুমীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন নাগরী। এলিফ্যান্ট রোডের ডম-ইনো ভবনের ফ্ল্যাটটি নাগরীর জন্য ছিলো একটি বিশেষ রুম। সেই রুমে নাগরী প্রায়ই সুমীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলানিউজকে জানান, নূরুলকে বিয়ে করার আগে বাগেরহাটের মেয়ে সুমী বিয়ে করেছিলেন বাবু নামে আরও একজনকে। বনিবনা না হওয়ায় ভেঙে যায় তার সেই সংসার। সুমী সেই স্বামীর নামে নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলাও করেছিলেন। 

বাংলাদেশ সময়: ১৩২১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০১৭
এসজেএ/এএটি/এইচএ/

** মুখ খুললেও হত্যার দায় অস্বীকার নাগরীর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa