বড়ভাই সকালে ফোন দিলো। —মতিঝিলের রাস্তায় শুধু জুতা আর জুতা। মানুষ নাই। আমি হেসে বললাম— কয়েক জোড়া কুড়িয়ে রাখো। পরে কাজে লাগবে। ভাই হেসে বললো— এগুলা তুই পায়ে দিবি না।
অনেকেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিড়ি তৈরি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলছেন। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনাতেই রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা এ শিল্প বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন।
গতমাসে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের আগে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আলোচনার কট্টর সমালোচনা করেছিলেন মহাজোট সরকারের দু’জন সাংসদ।
সম্প্রতি তাজরীন গার্মেন্টে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের অকালমৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা, স্পেকট্রাম গার্মেন্ট কারখানা ধসে প্রায় ৩৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং স্মার্ট গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই...
বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬-এর পাতায় পাতায় শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলা হয়েছে কিন্তু বাস্তবে এর তেমন কোনো রকম প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায় না। কলকারখানায় কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু এখন যেন একেবারেই দুধভাতের একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই ভাবছিলাম আজ রানা প্লাজার উদ্ধার কাজ নিয়ে কিছু লিখব। রানা প্লাজায় ঝাঁকুনি আর ধসের সময় আমি দেশে ছিলাম। এজন্য বন্ধুরা আমাকে ধাক্কাবাজ বলে ঠাট্টাও করে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউজ চ্যানেল সিএনএন’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক চৌকস প্রতিবেদক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।যেটিকে নিউজ চ্যানেলটি এক্সুক্লুসিভ বলছে।
বিগত কয়েকদিন যাবত দেশে এক নতুন হাওয়া বইছে। সন্দেহ নেই হাওয়াটি ইতিবাচক। বহু নেতিবাচক ঘটনার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত এগুতে হচ্ছে, এর ভেতর সামান্য ইতিবাচক ইশারাও মানুষকে আশাবাদী করে তোলার জন্য যথেষ্ট।
সাভারে ইট-পাথরের নিচে চাপা পড়েছেন আমার শত শত ভাই বোনেরা। স্বজন হারানোর কান্না ও আহাজারিতে বাতাস হয়ে উঠেছে ভারি। তখন সাধারণ মানুষের মতো আমিও হতবাক ও ক্ষুব্ধ ।
বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে নেতৃস্থানীয় পোশাক নির্মাতা দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চার মিলিয়ন টেক্সটাইল শ্রমিক কর্মরত রয়েছে যারা সুইডিশ কোম্পানি H&M সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কাপড় সেলাই করে আসছে।
এই মুহূর্তে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি দেশ নিয়ে ভাবেন না, এমনকি কোমলমতি শিশুরা যারা হরতালের কারণে স্কুলে যেতে পারছে না, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলিতেও যাদের এখন ক্লাশ...
আমার দেশ বাংলাদেশ ফের কাঁদছে। গত সপ্তাহে রাজধানী ঢাকার অদূরে দুর্বলভাবে নির্মিত একটি ভবন ধসে পড়েছে, যেখানে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল।
বাংলাদেশে রানা প্লাজার ভবন ধসের ঘটনায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ব্রিটেনের খ্যাতনামা চেইন স্টোর প্রাইমার্কের সামনে প্রতিবাদ প্রদর্শিত হয়েছে। মূলত বিদেশিরাই এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
গত চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে গার্মেন্টস শিল্পের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান। গোটা দেশ আর তার অর্থনীতি নির্ভরশীল যে শিল্পের ওপর সেই পোশাক কারখানাগুলোকে বাঁচানোর কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ এখনো চোখে পড়ছে না।
আলিম সাহেব থাকেন গুলশানে। ফ্ল্যাটটির দাম হবে কোটি টাকার উপরে। সরকারি চাকরি করেন। ৪০,০০০ টাকা বেতন পান। বাসায় দুইটা কাজের বুয়া। ১,০০০ করে দুইজনের ২,০০০ টাকা বেতন।
“নুপুর চাই নুপুর। আমার এবার আর কিছু চাই না শুধু একজোড়া নুপুর চাই? এনে দিবা, বলো না আনবা। নুপুর না দিলে আমি কিন্তু খামু না।”
আমি দেশের বাইরে পড়াশোনা করি, ঠিকমতো টেলিভিশন দেখতে পারি না, তবে সবসময় আমার মোবাইলফোনে বাংলানিউজের খবর পড়ি। আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি।
সাভারের মর্মস্পর্শী দুর্ঘটনা আমাকে মানসিকভাবে প্যারালাইসিস বানিয়ে দিয়েছে। আজ দু’দিন ধরে আমি অসহায় হয়ে বাসায় বসে আছি। টিভিতে নিউজ দেখে, ফেসবুকে ছবি দেখে চোখের জল থামিয়ে রাখতে পারিনি, নিজের অজান্তেই কেঁদেছি।
সাংবাদিকতায় কাজ করছি তিরিশ বছর ধরে। সাংবাদিক হতে পেরেছি কি না জানি না। তবে খুবে ইচ্ছে সাংবাদিকতার নানা ঘটনাবলী নিয়ে জীবনের গদ্য লিখব। বারবারই শুরু করে থমকে গেছি।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা সংবাদকর্মীদের ধর্ম হলেও আমরা নিজেরা এখনও বস্তুনিষ্ঠ হতে পারিনি। প্রতিদিন পরোক্ষাভাবে মৃতদেহ ঘেটেও এখনো লাশের গন্ধে অভ্যন্ত হতে পারিনি।
সাভারের আট তলা ভবন থেকে এখন লাশ বেরুচ্ছে, হয়ত বেরুবে আরও কয়েকদিন। আমি এখন টিভি দেখছি না। মানুষের ক্রন্দন, লাশের স্তূপ ব্যঙ্গ করে আমাকে। মেকি মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখায় সাভারের আট তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ।
আমি নিজে পারিনি একজন মানুষেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আর এ কারণেই, যারা উদ্যোক্তা এবং অন্যের কর্মসংস্থান করেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতাবোধ অনেক। কিন্ত আজ আমি তাদেরই এক
টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর বিশ্বে যেখানেই কোনো ধংসাত্মক কিছু ঘটুক না কেন, প্রায় সব ঘটনার সাথেই মুসলিমদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়!! ধৃত আসামিদের কাছে কারণ অনুসন্ধানে একটি মাত্র উত্তর আমরা জানতে পারি আর তা হলো, বিপন্ন ইসলামকে রক্ষা করার জন্য তারা জিহাদ করছে।
বিরোধীদলীয় নেত্রী একদিকে ড. ইউনূসকে অভিনন্দন জানান, অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বৈপরীত্যটি চোখে পড়ার মতো। কেননা ড. ইউনূস যেখানে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে উদ্যোগী, হেফাজতে ইসলাম সেখানে ১৩ দফার মাধ্যমে নারীর অধিকার হরণে উদ্যত।