English
সব খবর      অর্থনীতি     আন্তর্জাতিক     ইচ্ছেঘুড়ি     কপ-১৭     খেলা     জাতীয়     জীববৈচিত্র্য     তথ্যপ্রযুক্তি     পিআইডি পরিক্রমা     প্রবাসের চিঠি     ফিচার     বাংলানিউজ স্পেশাল     বাংলানিউজএক্সক্লুসিভ     বিদ্যুৎ ও জ্বালানি     বিনোদন     মনোকথা     মুক্তমত     রাজনীতি     শিল্প-সাহিত্য     সত‌্যি বিচিত্র!     স্বপ্নযাত্রা     স্বাস্থ্য     

পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইলে হিন্দুদের কবর দেওয়া হয়


ফিচার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: পাকিস্তানের কিছু এলাকায় হিন্দু অধিবাসীদের মৃতদেহ ধর্মীয় রীতি মোতাবেক স‍ৎকার তথা দাহ করার ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা চলছে। দেশটির খাইবার-পাখতুনওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলা এমন  একটি এলাকা। জানা গেছে, সেখানে মারা যাওয়া হিন্দুদের লাশ দাহ করার পরিবর্তে সমাহিত করা হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৮৫ সালে ডেরা ইসমাইল খান জেলায় একমাত্র হিন্দু যার শব পোড়ানো হয়েছিল তিনি হচ্ছেন পণ্ডিত কাহদারি লাল। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, পাকিস্তান সরকার ওই শেষকৃত্যানুষ্ঠানের অনুমোদন দিয়েছিল এবং একটি সেনাছাউনিতে শবদাহ সম্পন্ন হয়েছিল।

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক সংখ্যালঘু সদস্য কিশোরী কুমার হিন্দুদের শবদাহ না করতে পারার বিষয়টি সংখ্যালঘু সংক্রান্ত প্রাদেশিক পরিষদের কার্যকরী কমিটিতে তুলে ধরেছিলেন। কমিটি তা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের জন্য প্রেরণও করেছিল। কিন্তু ওই পর্যন্তই, এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

ডেরা ইসমাইলের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী শ্রাবণ (সাওয়ান) চৌধুরী জানান, তার পিতা জবার্য্য চৌধুরী ১৯৬৫ সালে মারা যান। কিন্তু তাকে সনাতন (হিন্দু) ধর্মমতে দাহ করা যায়নি। এর বদলে তাকে কবর দেওয়া হয়। এ ঘটনার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সেই আফসোস তাকে দহন করে।

শুধু শ্রাবণের পিতাই নয়, পণ্ডিত কাহদারি লাল ছাড়া ডেরা ইসমাইলের বাসিন্দা সব হিন্দুকেই মরার পর এভাবে কবরস্থ করা হয়েছে। বাল্মিকী মন্দিরের পুরোহিত আরসি শর্মা বলেন, “জেলায় হিন্দু মরা পোড়ানোর কোনো শ্মশান ঘাট বা চিতাখোলাই নেই। পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকায় আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা হিন্দুরীতি মতে শবদাহ করতে পারে। আমরা সেরকম চাই।”

জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য কুমার বলেন, “জেলার মদিনা কলোনীর শ্মশান ঘাটটির মালিকানা ফিরে পেতে চায় হিন্দুরা। আগে এটা হিন্দুদেরই ছিল।” তবে এ নিয়ে তারা মামলা-মোকদ্দমা করতে চান না কারণ, এতে করে বছরের পর বছর লেগে যাবে ফয়সালা হতে।

জানা গেছে, মদিনা কলোনি কম্পাউন্ডের প্রায় ৭হাজার বর্গগজ জায়গা জুড়ে হিন্দুদের শ্মশান ঘাট ছিল। এছাড়া ডেরা ইসমাইল জেলার টাউনহল এলাকায়ও একটি শ্মশান ছিল। কিন্তু ওই শ্মশানটিও নিলামে ৩০লাখ রুপিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ওই জায়গায় এখন রেহমান মেডিকেল নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে।
 
জানা গেছে, দেশভাগের পর পাকিস্তানে হিন্দুদের সব সম্পত্তি স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে গঠিত বোর্ডের (Evacuee Trust Property Board) জিম্মায় ন্যাস্ত করা হয়। সম্পত্তির মালিক হিন্দু সম্প্রদায় ওই জায়গা-জমি তখনই ফিরে পাবে যদি কেন্দ্রীয় সরকার তাতে অনুমোদন দেয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪০ ঘণ্টা, ২৯ নভেম্বর, ২০১২
একে; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
eic@banglanews24.com

আগের পৃষ্ঠা
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান