![]() |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুরের শুক্তাগড় গ্রামের বাবুল হোসেনের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী মাহামুদা বেগম (২৬) জর্ডানে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে পঙ্গু হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে।
রাজাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের ১৪ দিন পর মঙ্গলবার রাতে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন মাহমুদা।
তাকে তার তিন শিশু সন্তান কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। বর্তমানে মাহমুদা তার গ্রামের বাড়ি শুক্তাগড়ে দু’পায়ের যন্ত্রণায় বিছানায় কাতরাচ্ছেন। অর্থাভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তার পরিবারের সদস্যরা।
বাড়ি বসে মাহামুদা বেগম বাংলানিউজকে জানান, গত ০৯/০৬/১২ তারিখে ঢাকার মিরপুরের মোঃ ফরহাদ হোসেনের রিক্রুটিং অফিসের মাধ্যমে জীবিকার তাগিদে গৃহকর্মী হিসেবে জর্ডান যান। রিক্রুটিং দালাল তাকে মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা ও ওভারটাইমসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে পাঠান। কিন্তু এতো সুযোগ-সুবিধাতো দূরের কথা বাড়িতে ঠিকমত মোবাইলের মাধ্যমে কথাও বলতে দেয়নি জর্ডানের গৃহকর্তারা।
তিনি বাংলানিউজকে জানান, ওখানে আমি জেলের মত বন্দি অবস্থায় ছিলাম। তারা কথায় কথায় শারিরীক নির্যাতন চালাতো। এমনকি প্রায়ই বাথরুমে ও রান্না ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখতো। তারা যখন বাড়ির বাইরে যেত তখন আমাকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে যেত। মাহমুদা বেগম ৬ মাস জর্ডানে থাকলেও গরীব দিনমজুর পরিবারকে কোন টাকা-পয়সা পাঠাতে পারেনি।
মাহমুদা আরও বাংলানিউজকে জানান, গত মাসে তাদের বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দ্বিতীয় তলার বেলকুনি থেকে ঝাপ দিলে রাস্তায় পড়ে আমার দুটি পা ভেঙে যায়। পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে আমার দুটি পায়ের হাটুর বাটি অপারেশন করা হয়েছে দেখতে পাই। এরপর থেকে আমি পা দিয়ে আর হাটাচলা করতে পারছিনা।
মাকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে মাহমুদার শিশু সন্তান শারমিন (১২), ইয়াছিন (৯) ও জান্নাত (৪) মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত কন্ঠে বাংলানিউজকে জানান, আমরা মাকে ফিরে পাবার আশা ছেড়ে নিয়েছিলাম কিন্তু আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে মাকে ফিরে পেয়ে খুব ভাল লাগছে।
মাহমুদার বৃদ্ধ বাবা সামছেল হক ও দিন মজুর স্বামী বাবুল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, মাহমুদাকে জর্ডাতে পাঠাতে ও ফিরিয়ে আনতে গিয়ে নি:স্ব হয়ে পথে বসেছি। বর্তমানে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের ক্ষত রয়েছে। তাছাড়াও তার দুটি পা পঙ্গু অবস্থায় রয়েছে। তার দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা তো দূরের কথা পরিবারের তিন বেলা খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাজাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মাহমুদার বাবা সাংবাদিক সম্মেলন করলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
বাংলাদেশ সময়: ০৫৩৮ ঘন্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১২
সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর