English
সব খবর      অর্থনীতি     আন্তর্জাতিক     ইচ্ছেঘুড়ি     কপ-১৭     খেলা     জাতীয়     জীববৈচিত্র্য     তথ্যপ্রযুক্তি     পিআইডি পরিক্রমা     প্রবাসের চিঠি     ফিচার     বাংলানিউজ স্পেশাল     বাংলানিউজএক্সক্লুসিভ     বিদ্যুৎ ও জ্বালানি     বিনোদন     মনোকথা     মুক্তমত     রাজনীতি     শিল্প-সাহিত্য     সত‌্যি বিচিত্র!     স্বপ্নযাত্রা     স্বাস্থ্য     

ভয়াল মেঘনা, ভোলা শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা


ছোটন সাহা, জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ভয়াল মেঘনা, ভোলা শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করেছে ভোলার মেঘনা। ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ভোলা: ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে ভোলার মেঘনা। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও লাগাতার বর্ষণে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। ভেঙে যাচ্ছে বসত-ভিটা, মাছের আড়ৎ, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরইমধ্যে শহররক্ষা বাঁধের কাচিয়ার ভবানীপুর অংশে পুরাতন ও নতুন বাঁধ ভেঙে ২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ভোলা শহর তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এদিকে, এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো)।

ভাঙনের ফলে বেড়িবাঁধে আশ্রিত মানুষের আতঙ্কে রাত যাপন করছেন। অন্য স্থানে ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন তারা। শুক্রবার সরেজমিনে ওই এলাকায় এ দৃশ্য দেখা গেছে।

ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ বাংলানিউজকে জানান, নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারিয়ে যায় আবার নতুন করে ঘর বাধেন বেড়িবাধের মানুষ। বার বার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন এ এলাকার মানুষ।

নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় একপ্রান্তে ভাঙা বাধ মেরামত করতে না করতেই আবার অন্যপ্রান্তে আরেক পয়েন্ট ভাঙছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে নদীর উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে।

কাচিয়া ইউপি সদস্য মো. আশিক বাংলানিউজকে বলেন, শুক্রবার ভোরে সদরের ভবানীপুর অংশে প্রবল জোয়ারের চাপে পুরাতন শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। ওই ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নতুন শহর রক্ষা বাঁধের ৫টি পয়েন্ট দিয়ে পানি ঢুকে ২টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

তিনি আরও জানান, সকাল থেকেই ভাঙা বাঁ‍ধ মেরামতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাউবো কর্মকর্তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে, দুর্বল বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধে কোনো কাজেই আসবেনা বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। তারা সিসি ব্লক স্থাপনের দাবি জানান।

ভাঙন কবলিত এলাকার গৃহবধূ সালমা আক্তার ও হাসনা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে আমাদের ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ৮বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। এখন আবারও ভাঙনের কবলে পড়েছি। এখন ঘর-বাড়ি হারিয়ে গেলে কোথায় যাবো তা বুঝতে পারছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা পাভেল বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে নদীর তীরবর্তি মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা ঘর-বাড়ি সরানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারছে না।

জানা গেছে, বিগত মৌসুমগুলোতে ভাঙন কম হলেও চলতি বর্ষা মৌসুমে মেঘনার ভয়াল ছোবলে ১২শ পরিবার ভিটে ছাড়া হয়েছে। অধিকাংশ পরিবার রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। ভাঙন আতঙ্কে গাছ-পালা পানির দামে বিক্রি করে দিচ্ছে এলাকাবাসী ।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফজলে এলাহামী বাংলানিউজকে বলেন, ভোলা শহরকে রক্ষার জন্যে ১৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে আছে। ওই প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই ভোলাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, আপাতত ভাঙা পয়েন্ট দিয়ে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০১২ ঘণ্টা, আগস্ট ০৪, ২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর; নূরননবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

আগের পৃষ্ঠা
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান