![]() |
মাগুরা: শৈত্য প্রবাহের কারণে বিশেষ ধরণের ছত্রাকের আক্রমণে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের এক হাজারের বেশি পানের বরজের পানপাতা ঝরে গেছে।
এর ফলে ওই এলাকার কৃষকদের অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। কিন্তু এ থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রচলিত ছত্রাক নাশক প্রয়োগসহ কোনো ব্যবস্থাই কার্যকরি ভূমিকা রাখছে না। উপরন্তু এর জন্যে কৃষি বিভাগের অবহেলাকে অনেকাংশে দায়ী করছেন কৃষকরা।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট, টুপিপাড়া, খামারপাড়া, সোনগাছা, দোসতিনা, বারইপাড়া, শ্রীকোল, সারঙ্গদিয়া, কাজলি, মর্তুজাপুর, বাখেরা, আমতৈল, সবদালপুর, নহাটা, সাচিলাপুর, ঘাসিয়াড়া, তারা উজিয়াল, দারিয়াপুরসহ কমপক্ষে ২০টি গ্রামে অনেকদিন ধরে পানচাষ করে আসছেন। এটিই তাদের রুটি রুজির অন্যতম মাধ্যম।
কিন্তু গত পৌষ মাসের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দুই দফায় হঠাৎ করে শৈত্য প্রবাহে বিশেষ ধরণের ছত্রাকে আক্রান্ত হয়েছে এসব পানের বরজ। ফলে পাতার গোড়ায় পচন ধরে ঝরে গেছে অধিকাংশ বরজের বেশিরভাগ পানপাতা।
শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের কৃষক আকামত মোল্যা বাংলানিউজকে জানান, এ এলাকার কৃষকদের অর্থ যোগানের প্রধান ফসল এটি। এ সময় প্রতিমাসে তিনি তার বরজ থেকে কমপক্ষে ২ লাখ টাকার পান বিক্রি করেন। কিন্তু পাতাঝরার রোগের ফলে তিনি এ মাসে মাত্র ২ হাজার টাকার পানও বিক্রি করতে পারেননি।
উপরন্তু পানের বরজ থেকে পানপাতা তুলতে গিয়ে যে খরচ হয় তাও আয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝরে যাওয়া পানপাতা এখন গরুর খাদ্য হিসেবেই ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন পান চাষিদের এই চরম দুর্দিনে কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তাই তাদের পাশে এসে দাঁড়াননি।
ক্ষতিগ্রস্ত বরজগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বরজের নিচে পড়ে আছে হলুদ হয়ে যাওয়া পানপাতা। সম্পূর্ণ বিক্রি অনুপযোগী পান তুলছেন কৃষকরা। এ পান বাজারে না নিয়ে অনেকেই তা গরুকে খাওয়াচ্ছেন।
টুপিপাড়া গ্রামের কৃষক হান্নান মিয়া বাংলানিউজকে জানান, পানঝরে যাওয়ার এ রোগটি এ বছরই প্রথম দেখা দিয়েছে। যার ফলে তারা বুঝে উঠতে পারছেন না কি করা যায়। এর ফলে তার বর্তমান সিজনে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতি পূরণ হওয়ার কোনো ব্যবস্থাই না দেখতে পেয়ে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।
একই ধরণের অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার পানচাষি আসাদুর রহমান সরদার, আবুল বাসার, হারুনর রশিদ, ফাতেমা বেগমসহ অনেক কৃষক।
তারা জানান, পাতাঝরা রোগে এ এলাকার প্রত্যেক পানচাষির গড়ে কমপক্ষে ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শ্রীপুরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন শ্রীকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি বাংলানিউজকে জানান, পানের বরজে পাতা ঝরা রোগের কারণে এ এলাকার কৃষকদের কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এসব কৃষককে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া গেলে তারা খুবই উপকৃত হবেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খোন্দকার জাফর আলী বাংলানিউজকে জানান, পরপর দুইবার শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে এক ধরণের ছত্রাকের আক্রমণে পানপাতা ঝরে যাচ্ছে।
তবে, তারা এ বিষয়ে কৃষকদের বিভিন্ন ধরণের ওষুধ প্রয়োগের জন্যে পরামর্শ দিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে তাদের কর্মীরাও এ বিষয়ে সচেষ্ট আছেন বলে দাবি করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৫, ২০১৩
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর