![]() |
গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে অপহৃতা এক কলেজ ছাত্রীকে কাপাসিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৮ জন আহত হয়েছেন। আটক হয়েছে ৩ অপহরণকারী।
মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেক সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়ায় এ ঘটনা ঘটে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার ডেমরা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে (১৮) কালীগঞ্জ উপজেলার তারাগঞ্জ কলেজ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পাশ করেছে। কলেজে পড়ার সময় তাকে কাপাসিয়া উপজেলার বড়সিট গ্রামের জনৈক আজিজ মোড়ল উত্ত্যক্ত করতো। শুক্রবার মেয়েটির বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ায় আজিজুল তাকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে আজিজ মোড়ল ৮/১০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে কালীগঞ্জে সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করে। সন্ত্রাসীরা বাড়িতে আক্রমণ করে ঘরের তালা ভেঙে ১ জনকে আহত করে ও ছাত্রীকে অপহরণ করে। এরপর একটি টয়োটা হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে কাপাসিয়া যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ বাজার অতিক্রম করার সময় জনতা অপহরণকারীদের ধাওয়া করে।
সংবাদ পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশ উপজেলার সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করে। এক পর্যায়ে পুলিশ গাড়িটিকে ধাওয়া করে দরপাড়া জঙ্গলে পৌঁছলে অপহরণকারীরা হাইয়েস গাড়ি ফেলে একটি প্রাইভেট গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রীকে। এরপর পুলিশ বড়সিট গ্রামের জনৈক মোজাম্মেল হকের বাড়ি ঘেরাও করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা জানালা ভেঙে নাটকীয়ভাবে পুলিশকে ঘিরে ফেলে।
এসময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে দা ও চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে। পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য পর পর ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে অপহরণকারীরা দৌড়ানো শুরু করে। এসময় জনতা-পুলিশ মিলে অপহরণকারী আজিজুল হক (৩২) ও আমিনুল ইসলামকে (৩০) আটক করে।
উল্লেখ্য, আজিজুল হকের বাড়ি কাপাসিয়ার পাবুর গ্রামে। আমিনুলের বাড়ি একই থানার বড়সিট গ্রামে।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কাপাসিয়া থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন সহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। অপহরণকারী আজিজুল হক পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আটক হয়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এদিকে কালীগঞ্জ থানার ওসি এনায়েত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ভিক্টিমের বাড়ির লোকজন অপহরণকারী সন্দেহে মাইন উদ্দিন (২৬) নামে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ করেছেন। তার পিতার নাম মোস্তফা কামাল। বাড়ি কালীগঞ্জ থানার বড়াইয়া গ্রামে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১০, ২০১২
সম্পাদনা: হাসান শাহরিয়ার হৃদয়, নিউজরুম এডিটর