English
সব খবর      অর্থনীতি     আন্তর্জাতিক     ইচ্ছেঘুড়ি     কপ-১৭     খেলা     জাতীয়     জীববৈচিত্র্য     তথ্যপ্রযুক্তি     পিআইডি পরিক্রমা     প্রবাসের চিঠি     ফিচার     বাংলানিউজ স্পেশাল     বাংলানিউজএক্সক্লুসিভ     বিদ্যুৎ ও জ্বালানি     বিনোদন     মনোকথা     মুক্তমত     রাজনীতি     শিল্প-সাহিত্য     সত‌্যি বিচিত্র!     স্বপ্নযাত্রা     স্বাস্থ্য     

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

তদন্ত বন্দী আশ্বাসে!


ইমরান আলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
তদন্ত বন্দী আশ্বাসে!

ঢাকা: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের ৬ মাস পূর্তি আজ। তবে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে এখনো কুল-কিনারা করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘাতকরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। মূলত আশ্বাসের মধ্যেই বন্দী রয়েছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকোণ্ডের তদন্ত।

সাগর-রুনি হত্যার পর প্রথমে ডিবি মামলাটির তদন্ত শুরু করে। ডিবির ব্যর্থতার পর আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। সাড়ে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে র‌্যাব মামলাটির তদন্ত করছে। তবে এখনো দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, হত্যারহস্য উদঘাটনে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন গণমাধ্যমকে বলেছেন, “তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। শিগগিরই তা সাংবাদিকদের জানানো হবে। কারো মন্তব্যে তদন্তে কোনো বাধা ঘটবে না।”  

অবশ্য হত্যার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করা হবে।”

দীর্ঘদিন পরও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় নিহতের পরিবারসহ পুরো সাংবাদিক সমাজ হতাশ।

তবে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে মামলাটির তদন্ত করছে তারা।  র‌্যাবের একাধিক দল এই খুনের রহস্য বের করতে কাজ করছে।  

গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

এ ঘটনায় প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান।

পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর হয়। তদন্তে ডিবির ব্যর্থতার পর ১৮ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত র্যাবের হাতে ন্যাস্ত হয়।

সাড়ে ৩ মাসের বেশি র্যাব তদন্ত করলেও দৃশ্যমান উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের কাছে থেকে পাওয়া তথ্য, ভিসেরা রিপোর্টের প্রতিবেদন,  সাক্ষাৎকারে দেওয়া সাগর-রুনির শিশুপুত্র মেঘের বক্তব্য, নিহতদের মোবাইল কললিস্টসহ কয়েকটি বিষয়ে তথ্য যাচাই বাছাইয়ের মধ্যেই এখনো র‌্যাবের তদন্ত ঘুরপাক খাচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের একমাত্র সাক্ষী মাহির সরওয়ার মেঘের কাছ থেকে কৌশলে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় মহিলা অধিদফতরের ট্রমা সেন্টারে শিশু বিশেষজ্ঞদের দিয়ে মেঘকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হয়। রুনির মা নুরুন্নাহার মির্জাকেও উত্তরা সদর দফতরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।  মামলার বাদী নওশের আলম রোমানকেও কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২১ জুন র‌্যাবের তদন্ত দল কারওয়ানবাজারে এটিএন কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানকে সাগর-রুনি হত্যকাণ্ড সম্পর্কে টানা দেড়ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এ সময় মাহফুজুর রহমান র‌্যাবকে বিভিন্ন তথ্য ও নিহত রুনির শিশুসন্তান মেঘের দেওয়া প্রথম সাক্ষৎকারের দু’টি সিডি র‌্যাব কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন। সাগর-রুনির কর্মস্থল থেকে তাদের ব্যবহৃত কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও সবশের্ষ কয়েক দিনের অ্যাসাইনমেন্ট বা কোন কোন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তার তথ্য সংগ্রহ করে র‌্যাব।

গত ২৬ এপ্রিল হত্যার ৭৫ দিন পর কবর থেকে লাশ তুলে ভিসেরা পরীক্ষা করায় র‌্যাব। ভিসেরা রিপোর্টের মাধ্যমে
র‌্যাব নিশ্চিত হতে চেয়েছিল নিহত সাগর-রুনিকে হত্যার আগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কিনা।

তবে লাশ পচে যাওয়ায় ওই রিপোর্টে এমন আলামত পাওয়া যায়নি।

সাগর-রুনির হত্যার পর পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২, রশিদ লজের নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও হুমায়ন কবীরকে আটক করা হয়েছিল।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ন কবীর তার পরিচয় দিয়েছিলেন বাবা-মৃত আব্দুর রশিদ, গ্রাম-মহেরা, থানা বড়ুরা জেলা-কুমিল্লা। এ ঠিকানায় র‌্যাব খুঁজে হুমায়ন কবীর নামে কাউকে পায়নি। হুমায়ন কবীর যে  সিকিউরিটি কোম্পানির অধীনে চাকরি করতেন- সেখানে তার ঠিকানা ছিল ভুল। এমনকি  হুমায়নের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করে দেখা গেছে সেখানেও তার নাম-ঠিকানা ছিল ভুল। সেখানে তার পরিচয় লেখা ছিল: নাম-আলামিন, বাবা-ইসলাম উদ্দিন, গ্রাম-বাউরবাগ, থানা-জৈন্তাপুর, জেলা-সিলেট। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদের পর হুমায়ুনকে খুঁজে না পাওয়া ও তার ভিন্ন ভিন্ন নাম-পরিচয় থাকায় তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বাদী রুনির ভাই রোমান বাংলানিউজকে বলেন, “মামলার তদন্তের অগ্রগতি কিংবা কবে নাগাদ চার্জশিট দেওয়া হতে পারে- তা কিছুই আমাদেরকে জানাননি র‌্যাব কর্মকর্তারা। তারা শুধু বলছেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা হত্যা রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি। শেষ পর্যন্ত খুনিরা ধরা পড়বে কি-না এ নিয়েও সংশয় বাড়ছে।”   

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাবের এএসপি জাফরুল্লাহকে তার  ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও  পাওয়া যায়নি।  

বাংলাদেশ সময়: ০২৫৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১১, ২০১২
সম্পাদনা: শাফিক নেওয়াজ সোহান, নিউজরুম এডিটর;  জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com

 

আগের পৃষ্ঠা
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান