![]() |
ঢাকা: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমী সোমবার বিকেলে একাডেমীর সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ‘রবীন্দ্রনাথের নাটকে তিন নারী’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন শিল্প-সমালোচক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘‘বাংলা একাডেমী রবীন্দ্রচর্চার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। সার্ধশত রবীন্দ্র জন্মবর্ষ উপলক্ষে এ বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ রবীন্দ্র বিষয়ক তিরিশটি বই প্রকাশিত হতে চলেছে। একটি প্রামাণ্য রবীন্দ্রজীবনী প্রকাশের উদ্যোগও আমরা গ্রহণ করেছি, যার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও সৃষ্টির বিচিত্র মাত্রা আবিষ্কার করা সম্ভব হবে।’’
মিজারুল কায়েস বলেন, নারী-অধিকার তথা মানবাধিকারের মৌল প্রত্যয়সমূহ রবীন্দ্রসৃষ্টিতে ভিন্ন মাত্রায় প্রতিভাসিত। নারীকে তিনি স্বাধিকার প্রমত্ততার কেন্দ্রে প্রতিস্থাপন করেছেন পাশ্চাত্যে নারী অধিকার স্বীকৃতির বহু আগেই। শ্যামা, চিত্রাঙ্গদা ও চণ্ডালিকা শীর্ষক তিনটি নৃত্যনাট্যে তিনি নারীমুক্তির ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব সাধন করেছেন। নারীকে তিনি অধিষ্ঠিত করেছেন লিঙ্গনিরপেক্ষ নায়কের আসনে। ঘোষিত নারীবাদী না হয়েও নাটক ও অন্যান্য রচনায় নারীর যে মূল্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তার দৃষ্টান্ত সমকালেও বিরল। প্রেম ও কর্মশক্তির সমন্বয়ে নারীর ভেতর কল্যাণী রূপের সন্ধান করেছেন রবীন্দ্রনাথ। আর রবীন্দ্র নৃত্যনাট্যে আমরা প্রকৃতির সমান্তরালে নারী মুক্তির নব আবাহন খুঁজে পাই। প্রকৃতির প্রশস্ত বিস্তারের ভিতর তিনি নারীর মহিমা অনুধাবন করতে চাইলেও সমাজ-রাজনৈতিক প্রেক্ষিতবিবর্জিত নয় তার নারী ভাবনা। তিনি বলেন, অস্পৃশ্যতা ও জাত-পাতের ভেদকে রবীন্দ্র-নায়িকারা তুচ্ছজ্ঞান করে মহামানবিকতার বৈজয়ন্তী উড়িয়েছে।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, জীবনের নানা প্রান্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নারীভাবনা বিবর্তিত হয়েছে। তবে সব সময়ই নারীর ভেতরে তিনি অজেয় মানব সম্ভাবনার সৌন্দর্য অন্বেষণ করেছেন। প্রাগ্রসর নারী-ভাবনার জন্য সমকালে তাকে অবমাননার শিকার হতে হয়েছে। তবু তিনি একের পর এক সৃষ্টিতে নারী তথা বৃহৎ বিশ্বমানবেরই বিজয় গান গেয়ে গেছেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাদী মহম্মদ, মানসী সাধু প্রমুখ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন ইফতেখার আলম প্রধান, আলমাস আলী, গাজী আবদুল হাকিম এবং নাজমুল আলম খান।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪০ ঘন্টা, আগস্ট ০৬, ২০১২
এডিএ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর