![]() |
| ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গার্মেন্টস শিল্প আমাদের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি। সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গার্মেন্টস শিল্পের বিরাজমান সমস্যা নিয়ে বলেছেন- আমরা রেফারির ভূমিকা পালন করছি। কিন্তু কেন? এ সমস্যা সমাধানে তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। যেহেতু ট্রেড ইউনিয়ন নেই। তাই সরকারকেই সমস্যা সমাধানে নেগোশিয়েট করতে হবে। কিন্তু তারা তা না করে বাঁশি বাজাচ্ছে।’
বুধবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বাস ড্রাইভার বদরকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবউন নবী খান সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব ও বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের রিমান্ড বাতিল, নি:শর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে সংসদে আসতে হবে অথবা আদালতে আইনি লড়াইয় করতে হবে‘ বলে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এটা তাদেরকেই করতে হবে। এবং যে নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে না, সে নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। দেশের মানুষও তা মানবে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের মানবাধিকার লংঘন নিয়ে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নিখোঁজ ইলিয়াসের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানতে চেয়েছে। নইলে তারা সাহায্য বন্ধ করে দেবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার শুধু বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করছে না, তারা সারাদেশের মানুষকে নির্যাতন করছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলছে-পদ্মাসেতুর দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে। এবং তারা অর্থায়ণ বন্ধ করে দিয়েছে। এর কারণ দুর্নীতি। সরকারে মন্ত্রীদের অযোগ্যতার কারণেই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা ফেরত আসছেন।’
তিনি বলেন, ‘দলীয় শাসন কায়েম করার জন্য সংবিধানে আওয়ামী লীগ যে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, ইতিহাস বলে তা সম্ভব নয়। আমরা মনে করছি-সরকার ভীত-সন্ত্রস্ত। তারা গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই তারা নির্যাতন ও নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধান ও পার্লামেন্টে দ্বন্দ্ব এখনো আশঙ্কাজনক। সরকার দলীয়করণ করে সব নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে ফেলেছে। ৬৫০ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্ভাবনাময় নেতা ইলিয়াস আলী হঠাৎ করে গুম হয়ে গেছেন। প্রতিবাদে আমরা যখন আন্দোলন শুরু করি, তখন বিএনপিসহ ১৮ দলীয় শীর্ষ নেতাদের কারাবন্দি করা হয়। আমরা যখন আইনি লড়াই করে মুক্ত হয়ে আসছি তখন আমাদের তরুণ নেতাদের আবারো মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করা হচ্ছে।’
এ সময় বুধবার নতুন করে রিমান্ডে নেওয়া চার নেতার রিমান্ড বাতিল ও অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তি চান তিনি। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেও জোর দাবি জানান।
এ সময় সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম ও আব্দুল লতিফ জনিও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১১ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০১২
এআই/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর