![]() |
রাজশাহী: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) অচলাবস্থা কাটেনি । অচলাবস্থা নিরসনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনকারীদের সাথে বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠক করেছেন সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।
এসময় তিনি সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং রুয়েটে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে চলমান আন্দোলন থেকে তাদের বিরত থাকতে বলেন।
এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম চৌধুরী ক্যাম্পাসে ফিরবেন। গত কয়েকদিন থেকে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
তার ফেরা উপলক্ষ্যে তার সমর্থনপুষ্ট সাধারণ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে আন্দোলনকারীরা ভিসিকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থায় দু’পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও ছাত্রলীগ মূলত ভিসি পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে।
আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবারও ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ সব অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সকাল নয়টার দিকে কর্মচারী পরিষদের সভাপতির নেতৃত্বে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় আন্দোলনকারীরা। ফলে এক রকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্যের পরিবার।
একই সময় আন্দোলনকারীরা রেস্ট হাউজেও তালা ঝুলিয়ে দেয়। সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ঢাকা থেকে যাওয়া অডিট কমিটির সদস্যরা। তবে দুই ঘন্টা পর আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবন ও রেস্ট হাউজের তালা খুলে দিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের সংযোগ আবার দিয়ে দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবুল বাশারকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এছাড়া আন্দোলনকারীদের চাপে এদিনে ট্রেজারার পদ থেকে অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম এবং হলের সহকারি প্রভোস্ট পদ থেকে অধ্যাপক ড. ফারুক হোসেন ও অধ্যাপক ড. আল মামুন সেলিম পদত্যাগ করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বৃহস্পতিবার বিকেলে রুয়েটের আন্দোলনকারীদের সাথে নগর ভবনে বৈঠক করেন। অধ্যাপক কামরুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে রাতে জানা গেছে, আন্দোলনকারীদের বক্তব্য শোনার পর মেয়র তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সরকার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে মেয়াদ শেষ হবার আগে সরানোর পক্ষপাতি নয়।
তবে নগর ভবনের ওই বৈঠকে সিটি মেয়রের কথা শোনার পর আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়ে সন্ধ্যায় আবারও বিক্ষোভ করেছে। আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান সরকার বাংলানিউজকে জানান, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
প্রসঙ্গত, উপাচার্য প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবিতে গত কয়েকদিন থেকে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে আন্দোলন শুরু করে।
তাদের অভিযোগ, উপাচার্য প্রভাব খাটিয়ে রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ফলাফল দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেন।
বাংলাদশে সময় : ০৩০১ঘন্টা, নভম্বরে ৩০, ২০১২
এসএস/সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর