গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী): আদম বেপারীর কাছে পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে বেদম মারপিটের শিকার হয়েছেন দাউদ হোসেন (৩০) নামে যুবক।
ওই যুবককে সারারাত ঘরের মধ্যে আটকে রেখে সোমবার ভোরে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন আদম বেপারী মোহাম্মদ আলী মোল্লা ও রুহুল মোল্লা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চর কর্নেশনা গ্রামের হোসেন শেখের ছেলে দাউদ ওমানে যাওয়ার জন্য আদম বেপারী হাবিল মণ্ডলপাড়া গ্রামের রুহুল মোল্লাকে দেড়বছর আগে আড়াই লাখ টাকা দেন।
ছয় মাস পর জাল ভিসার মাধ্যমে দাউদকে ওমানে পাঠানোর চেষ্টা করেন রুহুল। দাউদের পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে টাকা ফেরত চান। এসময় রুহুল মোল্লা টাকা ফেরত না দিয়ে আসল ভিসায় বিদেশ নেওয়ার কথা বলে একাধিকবার সময় নেন। কিন্তু এরপরও দাউদকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হন তিনি।
পরে দাউদ ওই আদম বেপারীর কাছে কয়েকবার টাকা ফেরত চাইলে না দিয়ে নানা রকম টালবাহানা করতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েকবার কথা কাটাকাটিও হয়।
সর্বশেষ রোববার সন্ধ্যায় দাউদ চর দৌলতদিয়া হামিদ মৃধার হাটে মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জ করতে গেলে সেখানে রুহুলের সঙ্গে তার দেখা হয়। এসময় ভিসা এসেছে বলে রুহুল তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে দাউদকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।
এরপর ঘরের মধ্যে আটকে রেখে গভীর রাতে তাকে মারধর করেন রুহুল ও তার বন্ধু শাহিদ। বেদম মারপিট সহ্য করতে না পেরে দাউদ ঘরের দরজা ভেঙে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে চোর আখ্যা দিয়ে চিৎকার করেন রুহুলের বাড়ির লোকজন। এসময় এলাকাবাসী দাউদকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে।
দাউদ বলেন, রুহুল আমাকে ওর বাবার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তাদের বাড়ি নিয়ে বেদম মারপিট করেছে। আমার আড়াইলাখ টাকা ফেরত না দিতে নিজেই গলায় ব্লেডের আচড় দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
উজানচর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল কাদের মোল্লা বলেন, ছেলেটি চোর কিনা বলতে পারবো না। মোহাম্মদ মোল্লা ও তার ছেলে রুহুল দাউদকে ধরে আমার বাড়ি নিয়ে এলে তাকে পুলিশে দিয়েছি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আহাম্মেদ বলেন, সোমবার ভোরে দাউদকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০১২
সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর