কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের হাশিয়ারা খাতুন (১১) হত্যার মামলার সন্দেহভাজন ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় দিকে দৌলতপুর থানা পুলিশ আটক করছে।
আটককৃতরা হলো আড়িয়া গ্রামের একরাম হোসেনের ছেলে রতন (১২), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাজিব হোসেন (১৫) ও সিরাজ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (১৪)। আটককৃতরা হাশিয়ারার লাশ পড়ে থাকার খবর গ্রামে জানানোর কারণে তাদের প্রতি সন্দেহ হয় সকলের।
তবে দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, এদের তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। থানায় এনে ওসি স্যার নিজে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। নিহত হাশিয়ারা খাতুনের গালের ওপর, গলার নিচেসহ বিভিন্ন স্থানে দাগ রয়েছে বলে জানান এসআই ওবায়দুর। তিনি বাংলানিউজকে জানান, হাশিয়ারা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহির হোসেন বাংলানিউজকে জানান, যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে মামলার অধিকতর তদন্তের জন্যই এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে ওসি জানান, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু বলা যাবেনা।
আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং আড়িয়া ওয়ার্ডের মেম্বর সাদ আহম্মেদ আদর বাংলানিউজকে জানান, ধারণা করা হচ্ছে, শিশু হাশিয়ারা খাতুনকে ধর্ষণ করতে গিয়ে সে দূর্বৃত্তদের চিনে ফেলায় তাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায় তারা।
তিনি এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তি দিতে হবে।
স্থানীয়রা বাংলানিউজকে জানান, হাশিয়ারা খাতুনের পিতা হাশেম আলী দ্বিতীয় বিয়ে করে আড়িয়া গ্রামে বসবাস করে আসছেন। মা সালমা খাতুন বিএনপি নেতা হাবলু মোল্লার ইটভাটার কাছের একটি জমিতে বসবাস করে ইটভাটার শ্রমিকদের কাছে সিঙ্গাড়া বিক্রি করে কোনোমতে জীবন ধারণ করে আসছেন।
নিহত হাশিয়ারা খাতুন স্থানীয় ইউসুবপুর রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। খুব কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া শেখাচ্ছিলেন তার অসহায় মা সালমা খাতুন। হাশিয়ারা খাতুনের হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
হাশিয়ারা খাতুনের মায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ইউপি মেম্বর সাদ আহম্মেদ আদর বাংলানিউজকে আরো জানান, শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে হাশিয়ারা খাতুন তার মায়ের কর্মস্থল ইটভাটার কাছে দুপুরের খাবার দিয়ে ফেরার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিকেল ৪টার দিকে আড়িয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সে সময় দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুরে রহমান বাংলানিউজকে জানান, ধর্ষণের পর মেয়েটিকে হত্যা করে মেয়েটিকে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা ইটভাটার পাশের একটি পুকুর থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করি। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই মেয়েটিকে হত্যা করা হয়।’’
বাংলাদেশ সময়: ০২৪০ ঘন্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০১৩
জুলফিকার আলী কানন/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com