English
সব খবর      অর্থনীতি     আন্তর্জাতিক     ইচ্ছেঘুড়ি     কপ-১৭     খেলা     জাতীয়     জীববৈচিত্র্য     তথ্যপ্রযুক্তি     পিআইডি পরিক্রমা     প্রবাসের চিঠি     ফিচার     বাংলানিউজ স্পেশাল     বাংলানিউজএক্সক্লুসিভ     বিদ্যুৎ ও জ্বালানি     বিনোদন     মনোকথা     মুক্তমত     রাজনীতি     শিল্প-সাহিত্য     সত‌্যি বিচিত্র!     স্বপ্নযাত্রা     স্বাস্থ্য     

শারমিন সুলতানার কবিতা

ফিলিস্তিনের গান


শারমিন সুলতানা
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ফিলিস্তিনের গান

এক রাজমিস্ত্রি যে অনবরত ঘামাচ্ছে আর নিজের জন্য বানাচ্ছে দেয়াল।
 
এখানে আপনার ঠিক কিছুই করার থাকবে না
যখন সৈন্যরা চলে যাবে
লাশগুলো টানার জন্য একটা শিশুও বেঁচে থাকবে না
ভাঙাচোড়া দেয়ালে ছোপ ছোপ স্বপ্নের কণা আর মাটিতে হু হু
রক্তের হ্রদ ব্যতীত
অন্য কোন সঙ্গীর কথা চিন্তা করাও ‘বে-আইনি’
এটাই গাজা অথবা তেল-আবিব বা জেরুজালেমের স্বাধীনতা!
 
এক রাজমিস্ত্রি যে অনবরত ঘামাচ্ছে আর নিজের জন্য বানাচ্ছে দেয়াল।
 
আমাদের সন্তানেরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তাদের নিঃশ্বাসগুলোতে
বন্ধুদের হাতে বারুদ
আর
প্রেমিকার পকেটে রাখা গ্রেনেড।
জীবন নিছক ধর্মান্ধদের প্রার্থনার মতোন ওরা বেছে নেয়নি;
ভূখণ্ডের প্রতিটি কবরের ধুলো উড়িয়ে তারা যে হাতগুলো চেপে ধরেছে,
শোকার্ত আর্তনাদ
এবং
প্রতিজ্ঞার উষ্ণতায় নির্লিপ্ত
বহু অনুর্বর যাতনার চাষাবাদে পক্ক হয়ে উঠেছে
সূর্য ফলানোর নিখাদ নিশানায়
উত্তরাধিকারে সশস্ত্র
এটা জেনেও যে
মৃত্যু আর অজস্র আত্মদানের পরই
শহরের রাস্তায় নির্ভয় ছুটবে বসন্ত
সেই সব অপ্রতিরোধ্য গেরিলার পায়ের শব্দে
মৃত্যুও চমকিয়ে
কাঁপা কাঁপা স্বরে গেয়ে ওঠে
ফিলিস্তিন; পবিত্র স্বাধীনতা
আমাদের একমাত্র প্রার্থনা।
 
এক রাজমিস্ত্রি যে অনবরত ঘামাচ্ছে আর নিজের জন্য বানাচ্ছে দেয়াল।
তার ছেলেরা, ঝলমলে বুলেটে খোদাই করে, লিখে দিয়েছে পথের নাম।
আর সে সবটা দেয়াল ভেঙে ঠিক করে নিচ্ছে তার রাইফেলের নিশানা,
জ্বলছে অগ্নিগর্ভ জ্বলজ্বলে আলো।
লুণ্ঠিত স্বাধীনতা ফিরবে শহরের প্রতিটি দরজায়
ইন্দ্রিয়গুলো সজাগ হয়ে উঠেছে আক্রোশ
ঐ যে গাজার শিশুরা পাথুরে ফুলের সুঘ্রাণ ছিটিয়েছে
রাইফেলের বারুদে বেজে উঠেছে গান
স্বাধীনতা।


ফিলিস্তিনের গান - ২
বঞ্চনা তোমার গর্ভ আবিষ্কার করেছি
অগ্নিপিণ্ড এক ।
ন্যায়ের সর্বাঙ্গে আধিপত্যের কারফিউ; উফঃ ভয়,
তুমি এসো না
রাত্রির আতঙ্কগ্রস্ত রুদ্ধশ্বাস
বন্ধ চোখ ,কাঁপা কণ্ঠ ‘ভালবাসি’ বলার  
অপূর্ব মুহূর্তটি খুন করে ।
হ্যাঁ
ঠিক এখানটাতেই
আমাদের শেষ পলকেরা পরস্পরের হাতে কয়েকটা শুকানো বকুলের অনেকদিন ধরে তুলে রাখা সুঘ্রাণের সাথে হাস্যোজ্জ্বল, কথা বলার ফাঁকে
নিশানার দিকে খেয়াল রাখছিল
কিন্তু
চৌচির, নির্মম নখ
ফেটে পরলো
বিস্ফোরণ…
এ শূন্যতা

ভয়াবহ আর্তনাদ
পৃথিবীর সব চেয়ে ন্যায্য সংকল্প
আমাদের
প্রাত্যহিক সংগ্রাম ও প্রেমের সংলাপ
প্রতিটি লোমকূপে উন্মত্ত পূর্ণ বিশ্বাসের চিৎকার
নিজস্ব ভূখণ্ড  
আমাদের
হত্যাকারীদের ঘৃণা করার মতন অধিকার।


ফিলিস্তিনের গান - ৩
পাখিরা মরে যাচ্ছে আর সব মৃত পালকের ছায়ায় ছিটিয়ে পড়ছে আলো
 
অতি দুরূহ দুঃস্বপ্নের ফাটলগুলো চুঁইয়ে
গেরিলার নিঃশব্দ বিদায়-মুহূর্তের অপলক
দুগর্ম হেঁটে যাওয়া; এগুচ্ছে,
সূর্যের একরোখা আগুন গানে
যেখানে
যন্ত্রণার দাবানল দুর্বল পাঁজরগুলোও
সশস্ত্র স্বাভাবিক লড়ছে সোৎসাহেই।
পাখিরা মরে যাচ্ছে আর সব মৃত পালকের ছায়ায় ছিটিয়ে পড়ছে আলো।
 
ভোরের প্রতিকূল হিংস্রতা বরাবর
যে
গ্রামগুলো আধা শহরের পোশাক পরেছে মাত্র
সেখানে
বাজারের রকমারি দোকানির প্রেমে-পোড়া
অলস বাউণ্ডুলে ছেলেটাকে
যে রাতে
সৈন্যরা
নিষ্ঠুরভাবে খুন করে রেখে গেল
রামাল্লার পাহাড়ের দিকের রাস্তায়
সে রাতেই
খাপের গোপন খুলে বের হয়ে আসলো
সৌন্দর্যের অলক্ষ্য অনুভূতির হত্যা হওয়া
জ্বলজ্বলে ধার।  
পাখিরা মরে যাচ্ছে আর সব মৃত পালকের ছায়ায় ছিটিয়ে পড়ছে আলো।
 
একমুষ্টি ভূমি
একমুষ্টি মাটি
একটি রাইফেল
আর
অগুনতি মৃত বন্ধু, প্রেমিকা, বাবা, মা, প্রতিবেশী
এবং
আমরা যাদের উত্তরাধিকার
এমনকি তুমিও
যে
এই শব্দাবলির বিষে নিজস্ব হয়েছো
সকলেই, স্বাধীনতার অনর্গল ভাষা
যে ভাষায় উদগমনের হুংকারে
ডানার তুফানে সূর্যকে গিলে বসিয়ে দিয়েছো হৃৎপিণ্ডে
আর
মৃত্যুর ঘরে একটানা গর্ভধারণ করে চলেছো
মুক্ত ভূখণ্ডের সংগ্রাম…
পাখিরা মরে যাচ্ছে আর সব মৃত পালকের ছায়ায় ছিটিয়ে পড়ছে আলো।  
সে আলোর দীর্ঘ রক্তাক্ত ক্ষুব্ধ বীজের গোপনে
হচ্ছে চাষ
সত্যের সূর্যকে হত্যা করেছিলো কবে কোন আধিপত্যের অন্ধকার!


ফিলিস্তিনের গান - ৪
কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে
জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া।
 
ঘটনাবৃত্ত শেষ পর্যন্ত প্রতিমুহূর্তের সংঘাত আর হত্যাকাণ্ডের ‘নৈতিক’ ষড়যন্ত্রে
সম্পর্কহীন এক সম্পর্কের প্ররোচনায় বন্দী করল
সব চেয়ে বিস্ময়করভাবে
আমাদেরই নিজস্ব ভূমিতে
আমাদের সন্তানদের ।
 
কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে
জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া।
 
আমার মায়ের সেলাই করা জানালায় ঝুলন্ত
জেরুজালেমের নকশায় যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন যীশু
অবিরাম বোমা বর্ষণের দিনগুলোতে
পর্দার পোড়া কালচে সেই নকশাটায়
লাল সবুজ শাদা রঙগুলো এটকুও ক্ষয়ে যায়নি
উজ্জ্বল এখনো।
শুধুমাত্র যীশু পুড়ে ছাই ‘পবিত্র’ যুদ্ধের মুর্খতায়!

কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে
জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া।
 
হাতভর্তি রং পেন্সিল
আর
পুরোটা ফিলিস্তিন কাগজ
শিশুরা অবিরাম এঁকে চলেছে
অধিকার
আর
আর্তনাদ।
 
কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে
জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া।
আধিপত্য আর অপরাধে পক্ক এ নির্লজ্জ সভ্যতায়; এর চেয়ে
শ্লেষাত্মক প্রতিরোধ আমাদের নেই।

আগের পৃষ্ঠা
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান