ঢাকা: আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের উপ-নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সেই লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। ইতিমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে সংশ্লিষ্ট আসনটি শূন্য ঘোষণার গেজেটের কপি পেয়েছে ইসি। বুধবার ওই আসনে উপ-নির্বাচনের রোডম্যাপের খসড়া করতে কমিশনের সভা আহবান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক বাংলানিউজকে বলেন, ‘শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি কমিশনের রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে গাজীপুর-৪ আসনের উপ-নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।’
গত রোববার গাজীপুর-৪ আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি জাতীয় সংসদকে অবহিত করেন স্পিকার অ্যাড. আব্দুল হামিদ। এ হিসেবে ইসিকে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যেই উপ-নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
আসন শূন্য হওয়ার ৯০দিনের মধ্যেই নির্বাচনের সম্পন্ন করার বিষয়ে সংবিধানের ১২৩ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ কবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’
গত ৭ জুলাই আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার অ্যাড. আবদুল হামিদ। সশরীরে উপস্থিত হয়ে স্পিকারের হাতে তা জমা দেন তানজিম আহমেদ।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নিয়মানুযায়ী যে কোনো নির্বাচনের ৪৫ দিন আগে তার শিডিউল ঘোষণা করতে হয়। সেই হিসেবে ঈদের পর শিডিউল ঘোষণা করলে প্রচার-প্রচারণার জন্য যথেষ্ট সময় পাবে না প্রার্থীরা। এ জন্য ঈদের আগেই কমিশনকে শিডিউল ঘোষণা করতে হবে। ইতিমধ্যে ঈদের আগে শিডিউল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ আসন থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৮২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানজিম আহমেদ (সোহেল তাজ)। তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ পান ৬৪ হাজার ৪৬৬ ভোট।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও ২০০৯ সালের ৩১ মে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। তবে সে সময় রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ওই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তিন বছর পরও সোহেল তাজের ব্যাংক হিসাবে প্রতিমন্ত্রীর বেতন-ভাতা জমা হতে থাকায় গত ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান।
সেই সময় থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থ ফেরত নেয়ারও অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।
বাংলাদেশ সময়: ০০১২ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০১২
আরএম/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর, নিউজরুম এডিটর