![]() |
ঢাকা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। আর গুজবে পাওয়া চার সেট প্রশ্ন হাতে নিয়েই শনিবার সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা।
পূর্ব র্নিধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ২টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্ন ফাঁসের গুজবের প্রমান হিসেবে শুক্রবার বিকেলে বাংলানিউজের কাছে এ বিষয়ে ৪ সেট হাতে লেখা প্রশ্ন এসেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় এসব প্রশ্ন বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের প্রতিষ্ঠানের থেকে এ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের প্রায় সকলের হাতেই এ প্রশ্নপত্রের সেটগুলো দেখা গেছে।
ঢাবির এফ রহমান হলের ইতিহাস বিভাগের মার্স্টাস পর্বের এক শিক্ষার্থী এ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি বাংলানিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই এক সেট প্রশ্ন পরিক্ষার্থীদের হাতে আসে। পরে শুক্রবার ধীরে ধীরে আরো তিন সেটও আসে।
চূড়ান্ত সেটের প্রতিশ্রুতি পেয়ে শুক্রবার বিকেলে তিনি এক সেট প্রশ্ন কিনেছেন ৫ হাজার টাকায়। তবে প্রশ্ন মিললেই সেই টাকা দেওয়া হবে সরবরাহকারীকে। তিনি নিজে আবার এক হাজার টাকা করে আরো ৪ জনের সঙ্গে এ ক্রয়ের প্রক্রিয়াটি শেয়ার করেছেন।
এ দু’টি পদে নিয়োগের জন্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়েছিল উল্লেখ করে, এবারের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নও মিলে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। ওই পরীক্ষার্থী জানান, গত দু’দিন ধরে পরীক্ষার্থীরা এই প্রশ্নগুলোর সমাধানই শুধু চর্চা করেছেন।
এসব গুজবের প্রশ্নের ব্যাপারে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে মহসীন হলের পরিক্ষার্থী মেজোদা বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘এসব প্রশ্ন যদি সত্যিই মিলে যায়, তবে তা হবে খুবই হতাশাজনক। কারণ, আমরা বছরের পর বছর ধরে নিয়োগ পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুতি নেই। অথচ এভাবে প্রশ্ন ফাঁস হলে অযোগ্যরাও এক রাতের চর্চা করে টিকে যাবেন। আবার দেখা যাবে, অনেক মেধাবীই ছিটকে পড়েছেন।
যদি এবারের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা গুজবও হয়, তবে যারা এসব ভুয়া প্রশ্ন সরবরাহ করে শিক্ষার্থীদের মনে হতাশা তৈরি করছে এবং মনসংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিৎ বলেও মত দেন তিনি।
এর আগে প্রথম দিকে গোপন থাকলেও পরবর্তীতে গত শুক্রবার বিকেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের সকল হলের ফটোকপির দোকানে এসব প্রশ্ন ফটোকপি করতে দেখা গেছে পরিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নন-ক্যাডার) আলী নূরকে বেশ কয়েকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার বিকেল থেকে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েও পিএসসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বাংলানিউজের হাতে আসা প্রশ্নগুলোর একটি সেটে গণিত বিষয়ের একটি অংক হচ্ছে, ‘এমন একটি সংখ্যা নির্ণয় করুন, যা ১৩ দ্বারা বিভাজ্য কিন্তু ৪,৫,৬,ও ৯ দ্বারা ভাগ করলে প্রতি ক্ষেত্রে অবশিষ্ট থাকে ৩।’
জ্যামিতিতে রয়েছে, ‘প্রমাণ কর যে, একটি ত্রিভুজের একটি বাহু বর্ধিত করলে যে বহি:স্থ কোণ উৎপন্ন হয় তারা পরস্পর সমান।’
আরেকটি সেটের বাংলাদেশ বিষয়াবলীতে প্রশ্ন রয়েছে, ‘কোন দেশ বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয়? ওই দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম কি? স্বীকৃতি প্রদানের সময় ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?’
এছাড়াও রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ লিখুন।’
সেটগুলোর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে রয়েছে, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও কোন কোন সদস্য রাষ্ট্রের ‘ভেটো’ প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে? ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ বলতে কি বুঝ? সেভেন সিস্টার্স এর নামগুলো কি কি?’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে এক সেট প্রশ্নে রয়েছে, ‘ওয়েবসাইট কি?’
প্রশ্নপত্রের সেটগুলোর উত্তরসহ বিক্রি হতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।
উল্লেখ্য, দুটি সরকারি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে পৃথক দু’টি এমসিকিউ পদ্ধতিতে বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২০০ নম্বরের এ লিখিত পরীক্ষায় একই সঙ্গে অংশ নেবেন। এ পরীক্ষায় প্রায় ৪ হাজার ২০০ পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৭৫৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০১৩
এমএন/সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর