English
সব খবর      অর্থনীতি     আন্তর্জাতিক     ইচ্ছেঘুড়ি     কপ-১৭     খেলা     জাতীয়     জীববৈচিত্র্য     তথ্যপ্রযুক্তি     পিআইডি পরিক্রমা     প্রবাসের চিঠি     ফিচার     বাংলানিউজ স্পেশাল     বাংলানিউজএক্সক্লুসিভ     বিদ্যুৎ ও জ্বালানি     বিনোদন     মনোকথা     মুক্তমত     রাজনীতি     শিল্প-সাহিত্য     সত‌্যি বিচিত্র!     স্বপ্নযাত্রা     স্বাস্থ্য     

মিরসরাইয়ে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


মু. রিগান উদ্দিন, মিরসরাই প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
মিরসরাইয়ে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মিরসরাই (চট্টগ্রাম): মিরসরাইয়ে কর্মরত উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণ, টেন্ডারের কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মালামাল না দেওয়া, সরকারি পুকুর নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইজারা দেওয়াসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন বিষয়টির তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলা সমন্বয় সভায় সাংসদ মোশাররফ হোসেন ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দীন মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদের দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেনের ওপর দায়িত্ব দেন।

সমন্বয় সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মো. আলী নেওয়াজ লিটন নামে মিরসরাইয়ের এক ব্যবসায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিটন তার আবেদনে অভিযোগ করেন, গত ২১ জুন উপজেলা মৎস্য অফিস কর্তৃক (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত) একটি দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্রে ৩৯টি পাতিল ও ১৩টি প্লাস্টিকের ড্রাম বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। দরপত্রের শর্ত মতে লিটন যাবতীয় কাগজপত্র ও পেঅর্ডার জমা দেন।

লিটন অভিযোগ করেন, কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম কোনো কার্যাদেশ ছাড়াই পে-অর্ডার (নম্বর-৭৭৩১৮৫৮) ফেরত দিয়ে তার কাছ থেকে নগদে ৩৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য কর্মকর্তা তার অফিসের পিওন (চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী) শাহ জালালের মাধ্যমে ৩৪টি পাতিল ও ১২টি ড্রাম লিটনকে সরবরাহ করেন। মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার আগে মৎস্য কর্মকর্তা আরও অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা লিটনের কাছ থেকে আদায় করেন। বর্তমানে মৎস্য কর্মকর্তা বাকি মালামাল দেওয়ার জন্য আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করছেন।

অপরদিকে, টেন্ডারের দ্বিতীয় দরদাতা (২৭ হাজার টাকা) নাজমুল চৌধরী অভিযোগ করেন, মৎস্য কর্মকর্তা তার কাছ থেকে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। স্বাক্ষর নেওয়ার আগে মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুলকে জানান, নাজমুলই পাতিল ও ড্রামগুলো পাবেন। কারণ, প্রথম দরদাতা (৩৫ হাজার) লিটনের কাগজ সঠিক নেই। নাজমুল মৎস্য কর্মকর্তার কথা বিশ্বাস করে কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছেন। কিন্তু মালামাল দেওয়া হয়েছে লিটনকে।

নাজমুল অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তা ২৭ হাজার টাকাই সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছেন। বাকি টাকা মৎস্য কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেছেন।

জানা গেছে, মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশে টেন্ডারে প্রাপ্ত মালামাল লিটনকে বুঝিয়ে দেন উপজেলা মৎস্য অফিসের পিওন শাহ জালাল।

শাহ জালাল জানান, মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে বড় দারোগারহাটস্থ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার থেকে তিনি লিটনকে পাতিল ও ড্রাম বুঝিয়ে দেন। তিনি জানান, লিটন ও নাজমুল দুজনকেই তিনি ভালো করে চেনেন।

টেন্ডারের বিষয়টির খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় যে, পোনা উৎপাদনের একমাত্র হ্যাচারির বেশকিছু জলাশয় অর্থের বিনিময়ে তিনি এক ব্যক্তিকে ইজারা দিয়েছেন। তবে কোনো কাগজপত্র করেন নি। ইজারা গ্রহীতার নাম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। তিনি লিজা এগ্রো নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। হ্যাচারিতে মোট ১০টি (আয়তন প্রায় ৪ একর) ছোটবড় পুকুর রয়েছে।  

লিজা এগ্রোর পরিচালক মাসুদ মুঠোফোনে স্বীকার করেন, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি সরকারি হ্যাচারি ব্যবহার করবেন। তার জন্য তিনি মৌখিকভাবে মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

এর জন্য তাকে কত টাকা দিতে হয়েছে, তার সঠিক উত্তর দেননি মাসুদ। তিনি কিছু টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে একাধিক মৎস্য চাষি দাবি করেছেন, এর জন্য মৎস্য কর্মকর্তাকে কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন মাসুদ।

এদিকে, মিরসরাইয়ের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অসত্য। তিনি দাবি করেন, কাগজে-কলমে প্রমাণ আছে, লিটনের কাগজপত্রে স্বাক্ষর না থাকায় নাজমুলই পাতিল ও ড্রামের সর্বোচ্চ দরদাতা।

মালামালগুলো (পাতিল ও ড্রাম) কাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নাজমুলকে মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তাহলে লিটনের কাছে কীভাবে মালামালগুলো গেল? এর উত্তরে তিনি বলেন, “নাজমুল মালামালগুলো লিটনের কাছে বিক্রি করতে পারেন।”

এ প্রসঙ্গে নাজমুল এবং লিটন দুজনেই বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার কথা সত্য নয়।

লিটন বলেন, “আমি গত ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা মৎস্য অফিসে গেলে মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য পিওন শাহ জালালকে দেওয়া হয়। শাহ জালালই আমাকে মালামাল বুঝিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে নাজমুল মালামালগুলো আমার কাছে বিক্রি করেছেন, তা সত্য নয়।”

হ্যাচারির জলাশয় ইজারার প্রসঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নই আসেনা। সরকারি সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “খুব শিগগিরই অভিযোগটির তদন্ত কাজ শেষ করা হবে। ইতোমধ্যে আমি অভিযোগের কিছুটা তদন্ত করেছি।”

তিনি বলেন, “মৎস্য হ্যাচারি ইজারা দেওয়ার বিষয়টিও আমি লোক মুখে শুনেছি। সেই বিষয়েও তদন্ত হবে।”

বাংলাদেশ সময়: ২২৫১ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর, eic@banglanews24.com

আগের পৃষ্ঠা
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান