![]() |
ঢাকা: ইরাক জুড়ে বৃহস্পতিবার সারাদিন ধরে চালানো সন্ত্রাসীদের হামলা ও বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছে কমপক্ষে ৭০ জন। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এ হামলার ঢেউ অব্যাহত থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। ইরাকি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইরাকি জঙ্গিদের দায়ী করেছেন।
নিরাপত্তা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়,ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুকে এক সামরিক কর্মকর্তার বাড়িতে হামলা চালানোর মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবারের সহিংসতার শুরু হয়।
কিরকুকের পুলিশ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার সারহাদ কাদিরের বাড়িতে হামলা চালায় একদল বন্দুকধারী। তিনি প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হলেও তার ভাই হামলায় নিহত হন। এছাড়াও আহত হন পরিবারের অপর ৫ সদস্য।
এ হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই নগরীর একটি ক্যাফের বাইরে বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয় ১৫ জন। এছাড়া পুলিশের টহল দলকে লক্ষ করে ঘটানো এক বিস্ফোরণে আহত হয় দুই পুলিশ ও দুই বেসামরিক পথচারী।
তবে দিনের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা সংঘটিত হয় রাজধানী বাগদাদে। বাগদাদের জাফরানিয়া জেলায় একটি ক্যাফের পাশে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় কমপক্ষে ২৭ জন। এছাড়া বাগদাদের উপকণ্ঠ সদর সিটির একটি আইসক্রিম পার্লারে পরিচালিত বোমা হামলায় নিহত হয় আরো ১৬ জন।
একই দিন বাগদাদের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শিয়া অধ্যুষিত হোসেইনিয়া শহরতলীতে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় সাত জন, আহত হয় আরো ৩০ জন।
উত্তরাঞ্চলীয় দাকুক শহরের স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হেড কোয়ার্টার লক্ষ্য করেও বোমা হামলা চালানো হয় এদিন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ভীড় করলে সেখানে আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়ে নিহত হয় সাতজন।
বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের আগে বন্দুকধারীরা বাগদাদের ৩০ কিলোমিটার উত্তরে মিসহাদা শহরে ইরাকি সেনাবাহিনীর একটি চেকপয়েন্টে হামলা চালালে নিহত হয় সাত সেনা এবং আহত হয় আট জন।
অপর এক ঘটনায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বাগদাদের ৪২০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত তাল আফার শহরের একটি চায়ের দোকানে এসে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। এতে সাতজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয় আরো দশ জন।
বাগদাদের দক্ষিণে শিয়া অধ্যুষিত কুত শহরে একটি বাজারের পাশে গাড়ি বোমা বিস্ফোরিত হয়ে নিহত হয় সাতজন, আহত হয় আরো ২৫ জন।
ইরাকি কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, সহিংসতার কারণে চলতি মাসের ভয়াবহতম দিন অতিবাহিত হলো বৃহস্পতিবার। পাশাপাশি চলতি মাসে ইরাকে বিক্ষিপ্ত হামলা ও সহিংসতায় ইতিমধ্যেই ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও সর্তক করে দিয়ে বলেছে ঈদকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীরা ইরাক জুড়ে হামলা চালাতে পারে।
সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় ইরাকি কর্তৃপক্ষ পার্ক, মাজার এবং মসজিদসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় রাস্তায় চেক পয়েন্ট স্থাপনের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগদাদের প্রাদেশিক নিরাপত্তা প্রধান আব্দুল করিম থারিব। তবে তিনি জানান তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে সন্ত্রাসীরা ঈদ উপলক্ষে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২২০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর