|
|
ঢাকা: দলীয় সরকারের অধীনে ফেয়ার নির্বাচন সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব কিন্তু ফেয়ার নির্বাচন সম্ভব নয়, এ কথা আমি আগেই বলেছিলাম। এখন সবাই বলছে। এতে আমি খুশি।”
বৃহস্পতিবার নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘বর্তমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক সঙ্কট: পরিত্রাণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বেঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ গোলটেবিল বৈঠক চলে বেলা ১১টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা বলছে কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাঠামো নিয়ে কোনো কথা বলছে না। নির্বাচন কমিশনের আইনে এখনও অনেক ফাঁকফোকর আছে। আমরা যে কাঠামো করেছিলাম, তাও এখন হিমাগারে।”
তিনি বলেন, “বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল রাজধানীকেন্দ্রিক। সাত-আটটি দল ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অন্য কোনো দলের সঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তায় প্রধানরা দলগুলোকে বিকশিত করছেন না। দেশের রাজনীতি আসলে দুটি পার্টি নির্ভর হয়ে পড়েছে।”
বিশ্বের অনেক দেশে আদালত কার্যকর ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফাংশন অব জুডিশিয়ারি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না।”
এম সাখাওয়াত বলেন, “নির্বাচন সংস্কৃতি এখন অনেক খারাপ হয়ে গেছে। মানি এবং মাসল বন্ধ করা যায়নি।”
বাম দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, “যারা সারাজীবন সমাজতন্ত্রের কথা বললেন, মন্ত্রিত্ব পেলে তারাই পার্টি অফিসে তালা দিয়ে ঝাঁপ দিচ্ছেন।”
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “দুই নেত্রীর সমঝোতার দায়িত্ব আমরা নিইনি। নির্বাচন কমিশন যে আইন করে রেখেছে, তা সলিডলি দু’দলের পক্ষে। ভালো লোক চট করে নির্বাচন করতে চাইবে না।”
তিনি নাগরিক ঐক্যের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চাই না, তবে নাগরিকদের পক্ষে কেউ দাঁড়ালে তাকে সমর্থন দিলে ভুল হবে না।”
বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. শাহদীন মালিক।
তিনি বলেন, “বর্তমানের সবচেয়ে বড় সঙ্কট হচ্ছে, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না। দেশ স্বাধীনের ৪০ বছর পরেও নির্বাচনটা ঠিক মতো করতে পারছি না, এটা দুঃখজনক। যেহেতু দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নেই, তাই দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।”
ত্রয়োদশ সংশোধনী প্রসঙ্গে মালিক বলেন, “সেখানে বলা হয়েছে, আগামী ৫/৬ বছরের মধ্যে দেশের দলগুলো যাতে গণতান্ত্রিক হতে পারে, তাদের অধীনে নির্বাচনে যাতে প্রশ্ন না ওঠে, সে কারণে আগামী অন্তত দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরাকারের অধীনে হতে পারে।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে বহুদলীয় সরকারের কথা বলেছেন, তা খুবই অবাস্তব মনে হয়। কারণ দু’দলের দুই নেত্রীর মধ্যে ঈদ কার্ড বিনিমিয় ছাড়া আর কোনো যোগোযোগ আমরা দেখি না। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক যখন এমন, তখন তারা একসঙ্গে কাজ করবে তা মনে করি না। রায়ের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ভিন্ন হবে এবং তা তিনদিনেই করে ফেলা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা।”
বৈঠকে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বৃহস্পতিবার নতুন পাঁচ জনের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে বলেন, “সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আপনারা সোচ্চার ছিলেন, কিন্তু এখন যদি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তাহলে বোঝা যাবে মন্ত্রি হওয়ার জন্যই আপনারা সোচ্চার ছিলেন।”
দেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি সম্পার্কে তিনি বলেন, “মানুষের কাছে তৃতীয় ধারার রাজনীতির ডিমান্ড আছে কিন্তু সাপ্লাই নেই।”
বাংলাদেশ সময়: ১৫০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২
এআই/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর