ঢাকা: দিনের আলোতে পুলিশের কর্মকর্তারা যেখানে দাঁড়িয়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, আহ্বান জানান জনগণকে শপথ নেওয়ার। এর মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দেখা যায় মাদক সেবনের আড্ড।
মাদক সেবনকারীরা বলেছেন শপথ নিয়েছে পুলিশ আমরাতো শপথ নেই নাই।
মঙ্গলবার ছিলো বিশ্ব মাদক বিরোধী দিবস। এই দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ একটি ৠালির আয়োজন করে। ৠালীটি কেন্দ্রীয় শহীদমিনার থেকে শুরু হয়ে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়।
আর এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তা (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের কর্তারা হাজির হয়েছিলেন সেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে তারা মাদকের বিরুদ্ধে গলাফাঁটিয়ে বক্তব্য দেন।
ঘোষণা করেন মাদকের বিষয়ে কোন রকম ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণকে তার সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পুলিশের কর্তারা।
কিন্তু দিনের আলোর সঙ্গে সঙ্গেই ফুরিয়ে গেলো পুলিশের সেই হম্বিতম্বি। সন্ধা গড়িয়ে যেতেই এসব এলাকা ফিরে পায় সেই চিরচেনা রূপ। রাত গভীর হতে থাকলে গলিতে গলিতে বাড়তে থাকে গাঁজার ধোয়া।
কারওয়ান বাজার সড়কদ্বীপে প্রকাশ্যে সিগারেটে গাঁজা ভরতে দেখা যায় কয়েকজন যুবককে। সিএনজি থেকে নামতেই ওই যুবকরা দ্রুত সটকে পড়ে।
এমনকি খোদ মতিঝিল থানার কয়েকশ গজের মধ্যে গাঁজা সেবনকারীদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।
এদিন রাতে সোয়া একটায় মতিঝিল ইনার সার্কুলার রোডে ঢুকতেই নাকে এসে লাগে গাঁজার গন্ধ। অথচ এই রোডের উপরেই মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে মতিঝিল থানা।
১০৪ মতিঝিল ভবনের এক কর্মচারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে জানান, দিনে রাতে সব সময়েই ইনার সার্কুলার রোডে গাঁজা সেবনকারীদের আড্ডা চলে। বেশ কয়েকটি চায়ের দোকানে থেকে গাঁজা বিক্রি করা হয়।
ওই কর্মচারিটি দাবি করে, পুলিশকে বলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। সিটি টাওয়ারের পশ্চিম পার্শ্বে একটি চায়ের দোকানের সামনে দিনের বেলাতেও চলে গাঁজা সেবনের আড্ডা।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অন্যান্য রাতের মতোই এদিনও মাদক সেবনকারীদের জটলা দেখা গেছে।
মতিঝিল আরামবাগ এলাকায় রাতের ডিউটিতে থাকা মতিঝিল থানার এক কনস্টেবল জানান, শুনেছি মঙ্গলবার ছিলো মাদক বিরোধী দিবস। তবে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনো নজরদারি করার জন্য কোন নির্দেশনা দেওয়া হয় নি।
অনেকে মন্তব্য করেছেন পুলিশও কাজের চেয়ে গলাবাজি বেশি করছে। অনেকটাই রাজনৈতিক নেতাদের মতো। এর চেয়ে যদি তারা আন্তরিকভাবে কাজ করতো অনেক বেশি ফল পাওয়া যেতো।
রফিকুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক নেতা বলেছেন, পুলিশ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। কিছু ক্ষেত্র আছে তাদের করতে দেওয়া হয় না। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা করতে চায় না।
রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিজিবি যদি কঠোর হয় তাহলে ফেন্সিডিল বাংলাদেশে ঢুকতে পারত না। আবার পুলিশ যদি সঠিক দায়িত্ব পালন করত তাহলে ফেন্সিডিল রাজধানী পর্যন্ত আসার কথা নয়।
বাংলাদেশ সময়: ০৪৫০ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০১২
সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর