![]() |
ঢাকা: রাজধানীর গুলশান ও নিকুঞ্জ এলাকায় প্রায় সাড়ে চার শ’ আবাসিক প্লট অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যবহার হচ্ছে। আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিক প্লটে রূপান্তর করার নিয়ম না মেনে দীর্ঘদিন ধরেই এসব প্লট ব্যবহার করা হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৬ নম্বর উপ-কমিটির অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কমিটি এসব প্লটের সার্বিক তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেইজ তৈরির কাজ করছে। কাজ শেষ হলে এটি রাজউকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
গুলশান, বনানী ও উত্তরায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট কমার্শিয়াল প্লটে রূপান্তর করার জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের এ উপ-কমিটি গঠন করা হয়।
হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে (লিটন চৌধুরী) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এ উপ-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আসাদুজ্জামান খান, জহিরুল হক ভূঞা মোহন ও কেএম খালিদ। কমিটির এর আগে গত এপ্রিল মাসে একটি বৈঠক করে। পরে গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ বৈঠক করে।
কমিটির গুলশান-নিকুঞ্জ, বনানী-বারিধারা ও উত্তরা এলাকায় অনুসন্ধান চালাবে। তিনভাগে কাজ করবে কমিটি। এরইমধ্যে গুলশান-নিকুঞ্জ এলাকার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। নিয়ম না মেনে যেসব প্লট মালিক আবাসিক প্লটে ব্যণিজিক কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের আর্থিক দণ্ড ও উচ্ছেদের সুপারিশ করেছে কমিটি।
রাউজককে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ড প্লট সরিয়ে ফেলে মালিকরা যাতে রাউজকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, তার জন্য এরইমধ্যে ওইসব প্লটের ভিডিও ও ছবি তুলে রেখেছে সংসদীয় কমিটি।
এছাড়া আবাসিক প্লটে হাসপাতাল, ব্যাংক, পেট্রোল পাম্পের জমিতে মার্কেট, পার্কিং প্লটে মার্কেট নির্মাণসহ আরো বেশকিছু বিষয় খতিয়ে দেখছে কমিটি।
এদিকে গুলশান এলাকায় গার্মেন্টস কারখানা থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির অভিমত, গুলশান এলাকায় কমার্শিয়াল প্লট থাকলেও কোনো ইন্ডাসট্রিয়াল প্লট নেই। এখানে কিভাবে পোশাক কারখানা থাকতে পারে।
সংসদীয় কমিটি মনে করে, আবাসিক প্লট বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার ফলে গুলশান এলাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আবাসিক প্লটগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বন্ধ হলে যানজট কমে আসবে বলেও কমিটি মনে করে।
সংসদীয় কমিটির অনুসন্ধান সম্পর্কে লিটন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, “আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিক প্লটে রূপান্তর করার সুযোগ থাকলেও অনেকেই তা করেননি। কমিটি অনুসন্ধান করে এসব প্লটের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। গুলশান-নিকুঞ্জ এলাকার বিষয়ে আরো কিছু তথ্য রাজউকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এগুলো পেয়ে গেলে তা সাংবাদিকদেরও সরবরাহ করা হবে।”
তিনি বলেন, “সংসদীয় কমিটি একটি ডাটাবেজ তৈরি করছে। যেখানে প্লটে যাবতীয় তথ্য থাকবে। কোনো প্লট মালিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলে পরে বলতে পারে যে তিনি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করেননি। সেজন্য কমিটির উদ্যোগে ওই প্লটগুলোর ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করা হচ্ছে। যা ডাটাবেজে থাকবে। ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর যেকেউ এটি দেখতে পারবে।”
তিনি জানান, কমিটি তিনভাগে এসব প্লটের বিষয়ে রাজউককে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। প্রথম পর্যায়ে মূল সড়কের দুইপাশের প্লট মালিকদের তিনমাসের মধ্যে আর্থিক দণ্ড ও উচ্ছেদের সুপারিশ করা হয়েছে। গুলশান-নিকুঞ্জ এলাকার ভেতরের রাস্তার পাশে যেসব প্লট বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ছয় মাসের মধ্যে এবং বাকি এলাকায় এক বছরের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
গুলশান এলাকার পরে বারিধারা ও উত্তরার প্লট নিয়ে কমিটি তদন্ত করবে বলেও জানান তিনি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এ প্রভাবশালী সদস্য আরো বলেন, “যেদিন থেকে এসব প্লটে অবৈধভাবে ব্যবসা করা হচ্ছে, সেদিন থেকেই তাদের জরিমানা নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আবাসিক এলাকায় হাসপাতালের জন্য প্লট নির্ধারণ করা রয়েছে। অথচ ওইসব প্লটে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে আবাসিক প্লটে হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে।”
জাতীয় সংসদের এ হুইপ আরো জানান, সাবেক সংসদ সদস্য, সরকারদলীয় এমপি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ অনেকেরই মালিকানাধীন প্লটই অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গুলশান এলাকায় পোশাক কারখানা সম্পর্কে তিনি বলেন, “গুলশান এলাকায় কোনো ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অথচ এই এলাকায় শান্তা গ্রুপের একটি কারখানা রয়েছে। এটা কিভাবে হতে পারে। কমিটি এ বিষয়টি রাজউককে জানাতে বলেছে।”
বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০১২
এসএইচ/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর